সোশ্যাল মিডিয়ার দ্রুত বদলে যাওয়া ভ্লগ সংস্কৃতি নিয়ে সরব হয়েছেন জনপ্রিয় প্রযোজক রাণা সরকার। সাম্প্রতিক কয়েকটি পোস্টে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে আইন ভাঙাকে সাধারণ ঘটনা হিসেবে দেখানো সমাজের জন্য বিপজ্জনক সংকেত। তাঁর মতে কিছু কনটেন্ট নির্মাতা ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করে জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণকে স্বাভাবিক করে তুলছে ধীরে ধীরে।
ঘটনার সূত্রপাত একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে, যেখানে এক ভ্লগার হেলমেট ছাড়া মোটরবাইক চালানোর সময় ট্রাফিক পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। আইন মেনেই কর্তব্য পালন করা সত্ত্বেও পুলিশকে অভিযুক্ত করার প্রবণতা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান প্রযোজক। তিনি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান কলকাতা পুলিশ ও কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ এর প্রতি এবং বলেন দায়িত্ব পালনকে অপমান করা উচিত নয় কোনও অবস্থাতেই কখনও।
রাণা সরকারের বক্তব্যে উঠে আসে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, তা হল ভিউ ও রিচ বাড়ানোর জন্য ইচ্ছাকৃত নাটকীয়তা তৈরি করা। তাঁর দাবি অনেক সময় দোকান বা রাস্তায় অযথা ঝামেলা বাধিয়ে ভিডিও বানানো হয়, যা অনলাইনে বিষাক্ত পরিবেশ তৈরি করছে। তিনি মনে করেন এই প্রবণতা থামাতে না পারলে ডিজিটাল পরিসরে ভদ্র ও সৃজনশীল কনটেন্ট ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যাবে এবং বিভ্রান্তি বাড়বে বহুগুণে।
তবে সব কনটেন্ট নির্মাতাকে এক পাল্লায় মাপতে নারাজ তিনি। গান, কমেডি, তথ্যভিত্তিক বা শিক্ষামূলক ভিডিও তৈরি করা বহু তরুণ নির্মাতার কাজের প্রশংসাও করেন প্রযোজক। তাঁর মতে সুস্থ ও ইতিবাচক কনটেন্টই ডিজিটাল মাধ্যমকে শক্তিশালী করে। সেই কারণেই পরিষ্কার পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি যাতে মেধাবী নির্মাতারা উৎসাহ পান এবং দর্শকরাও মানসম্মত বিনোদন উপভোগ করতে পারেন নিশ্চিন্তে।
আরও পড়ুনঃ বিয়ের পরেই প্রেমের গোপন সফর! সাত পাকে বাঁধা পড়তেই কোন শহরে ডুব দিলেন রণজয় ও শ্যামৌপ্তি? সেখানে গিয়ে ঠিক কী খুঁজে পেলেন নব দম্পতি?
এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। কেউ তাঁর বক্তব্যকে সাহসী বলে কুর্নিশ জানাচ্ছেন, আবার কেউ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলছেন। জাতিস্মর ছবির প্রযোজকের মন্তব্যে এক নেটিজেন প্রশ্ন তোলেন, শুধুমাত্র ফলোয়ার সংখ্যা দেখে কাজ দেওয়ার সংস্কৃতিও কি পুনর্বিবেচনার সময় আসেনি। ফলে আলোচনার পরিসর আরও বিস্তৃত হচ্ছে প্রতিদিন।






