গোমাংস বিতর্ক ঘিরে কয়েকদিন আগেই উত্তাল হয়ে উঠেছিল শহর। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবার নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে টলিপাড়ার একাধিক পরিচিত মুখ। কন্টেন্ট ক্রিয়েটর স্যান্ডি সাহা সম্প্রতি একটি ভিডিও পোস্ট করে সরাসরি কটাক্ষ করলেন অভিনেত্রী অনন্যা গুহ-কে। জোকার সেজে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি। ভিডিও জুড়ে তাঁর সংলাপ ও অঙ্গভঙ্গি স্পষ্টতই ব্যক্তিগত আক্রমণের ইঙ্গিত বহন করে। এমনকি তাঁর সঙ্গীদের কথাতেও উঠে আসে গোমাংস বিতর্কের প্রসঙ্গ, যা নতুন করে বিতর্কের আগুন উসকে দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত অভিনেতা ও ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তী-কে ঘিরে। কিছুদিন আগে গোমাংস বিতর্কে তাঁর মন্তব্য ও পদক্ষেপ ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। ধর্ম পরিচয় উল্লেখ করে হুঁশিয়ারির অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে এক বেয়ারার গ্রেপ্তার হওয়া পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। শহরের বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের হয়। পরে অবশ্য সেই মামলা প্রত্যাহার করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জামিনে মুক্তি পান।
এই বিতর্কের মধ্যেই নতুন মাত্রা যোগ করে স্যান্ডির অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, একদিন শুটিং শেষে সায়ক তাঁকে যৌন হেনস্তা করেছিলেন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সেই সময় সায়কের ঘনিষ্ঠ অনন্যা গুহ প্রকাশ্যে স্যান্ডিকে ‘জোকার’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। বিষয়টি তখনই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন পর এবার সেই মন্তব্যেরই জবাব দিলেন স্যান্ডি, এবং সেটিও প্রতীকী ভঙ্গিতে জোকারের সাজে।
ভিডিওটিতে বারবার নিজেকে জোকার বলে উল্লেখ করতে শোনা যায় তাঁকে, পাশাপাশি অনন্যার কণ্ঠস্বরের মিমিক্রিও করেন তিনি। তাঁর আশেপাশে থাকা কয়েকজনকে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করতে শোনা যায়, যা স্পষ্টতই আগের বিতর্কের ইঙ্গিত বহন করে। উল্লেখযোগ্য, গোমাংস বিতর্কের দিন সংশ্লিষ্ট স্থানে সায়কের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অনন্যা এবং তাঁর হবু স্বামীও। যদিও বিতর্কের সময়ই অনন্যা জানিয়েছিলেন, ধর্মীয় উসকানিমূলক কোনও ঘটনার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত যোগ নেই।
আরও পড়ুনঃ ফোনে ‘আপত্তিজনক ভিডিও’ উদ্ধারের দাবি, ধ*র্ষণ মামলায় নয়া তথ্য ফাঁস! নিজেকে নির্দোষ দাবি ‘ননসেন’ শমীকের! ফের ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত!
এই নতুন ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই আবার সরব হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। কেউ এটিকে প্রতিবাদের ভাষা বলছেন, কেউ আবার ব্যক্তিগত আক্রমণের নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। বিতর্কের পর বিতর্কে জড়িয়ে পড়া এই ঘটনাপ্রবাহ এখন কোন দিকে মোড় নেবে, সেটাই দেখার। ব্যক্তিগত অভিযোগ, পালটা কটাক্ষ এবং প্রতীকী প্রতিবাদ— সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন কেবল সামাজিক মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং জনমতেও তৈরি করছে তীব্র আলোড়ন।






