“বাবাকে জিজ্ঞেস কর…ভুলে গেছিস নাকি?” বাংলা গান গাইলেই বাংলাদেশি! অপমানের জবাবে, নেতাজি-রামমোহনের নাম তুলে প্রতিবাদ সুদীপ্তা বন্দ্যোপাধ্যায়ের!

একটি গান, একটি মঞ্চ আর হঠাৎই অপমানের শব্দে থমকে যাওয়া মুহূর্ত। টলিপাড়ার পরিচিত মুখ সুদীপ্তা বন্দ্যোপাধ্যায় মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়িয়ে গাইছিলেন “আমি বাংলায় গান গাই”। কিন্তু আচমকাই উঠে আসে আপত্তির সুর, যেন বাংলা ভাষার উচ্চারণই অগ্রহণযোগ্য। মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় পরিবেশ। প্রথমে তিনি নীরবে সরে দাঁড়ান, মুখে কোনও কথা নেই, চোখে জমে থাকা অপমানের ভার। এক শিল্পীর ব্যক্তিগত মুহূর্ত যেন হয়ে ওঠে বৃহত্তর ভাষা পরিচয়ের প্রশ্ন।

তবে নীরবতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় দৃশ্য এবং তাঁর অবস্থান। প্রতিবাদের সুরে দৃঢ় কণ্ঠে তিনি মনে করিয়ে দেন ইতিহাস, পরিচয় এবং আত্মমর্যাদার কথা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই মাটির গর্ব নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং রাজা রামমোহন রায় কে ভুলে গিয়ে কীভাবে ভাষাকে অপমান করা যায়। তাঁর সংলাপ তখন আর অভিনয় থাকে না, হয়ে ওঠে আত্মপরিচয়ের ঘোষণা। ব্যক্তিগত অপমানের মুহূর্ত যেন রূপ নেয় সাংস্কৃতিক প্রতিবাদের প্রতীকে।

এই দৃশ্য কোনও চলচ্চিত্রের অংশ নয়, বরং একটি রাজনৈতিক প্রচার ভিডিও। ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই তা ঘিরে তুমুল আলোড়ন তৈরি হয়েছে। শেষ দৃশ্যে দেখা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছবি এবং শোনা যায় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া বার্তা। এর পর থেকেই জোরালো হয়েছে জল্পনা, তবে কি সত্যিই রাজনীতির ময়দানে নামতে চলেছেন অভিনেত্রী। বহুদিন ধরেই তাঁর নাম জড়িয়ে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস এর সঙ্গে, ফলে এই ভিডিও সেই সম্ভাবনাকে আরও উস্কে দিয়েছে।

রাজনীতির আবহ তাঁর জীবনে নতুন নয় বলেই মনে করছেন অনেকেই। রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় পরিবারের সদস্য হওয়ায় সেই পরিবেশ তাঁর কাছে পরিচিত। অন্যদিকে ভিডিওতে দেখানো ভাষা অপমানের অভিজ্ঞতাও বাস্তবের সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছে অনেক দর্শক। অতীতে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন শিল্পী ইমন চক্রবর্তী এবং লগ্নজিতা চক্রবর্তী। ফলে এই দৃশ্য অনেকের কাছে শুধুই প্রতীক নয়, বরং বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন।

আরও পড়ুনঃ “রিচ বাড়লেই টাকা আসবে, ‘ভ্লগ’কে নোংরামি ও ব্ল্যা’কমেলিংয়ের পর্যায়ে নিয়ে গেছে…আইনে হবে না, ব্যক্তিগত প্রতিবাদ করুন!” ক্যামেরার সামনে আইন ভাঙা বিপজ্জনক সংকেত! ভ্লগ সংস্কৃতির বিতর্কে সরব রাণা সরকার, কলকাতা পুলিশের পাশে স্পষ্ট সমর্থন!

ভিডিও ঘিরে জল্পনা বাড়লেও অভিনেত্রী নিজে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে যোগ দেননি বলে জানিয়েছেন। তবে সুযোগ এলে দায়িত্ব নিতে আপত্তি নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীকে নিজের অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেতৃত্বের উপরই ছেড়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। শিল্প আর রাজনীতির দুই জগত কি একসঙ্গে সামলানো সম্ভব হবে, সেই উত্তর আপাতত সময়ের হাতেই রয়ে গেল।

You cannot copy content of this page