নতুন গাড়ি কেনার আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি অভিনেতা ‘রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়’-এর (Rahul Banerjee) ক্ষেত্রে। মাস ছয়েক আগে কেনা তাঁর টপ মডেলের গাড়ি নাকি ইতিমধ্যেই চারবার মাঝরাস্তায় বিকল হয়েছে, এমনই দাবি করে তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তাঁর বক্তব্য ছিল সরল, “এত দামি গাড়ি বারবার সার্ভিস সেন্টারে যাবে কেন আর সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে ঠেলবে কেন?” একই মডেল কেনার আগে অন্যদের অভিজ্ঞতা জেনে নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। বিষয়টি মূলত ভোক্তা সচেতনতার জায়গা থেকে তোলা হলেও, অল্প সময়ের মধ্যেই তা অন্য খাতে বইতে শুরু করে!
ভিডিওটি সামনে আসার পরেই অভিনেত্রী অনন্যা গুহ কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। নিজের সমাজ মাধ্যমের পাতায় তিনি লেখেন, “ফেসবুকে ভিডিও করা নিয়ে তো খুব সমস্যা, বলেছিলেন সঠিক জায়গায় কমপ্লেন করতে। তা বলছি, গাড়ি খারাপ হলে কি ফেসবুকটাকে সার্ভিস সেন্টার ভেবে ফেলেছেন?” তাঁর এই মন্তব্যে সমর্থন জানিয়ে অনন্যার দিদি অলোকানন্দাও লেখেন, “এত বড় মাপের অভিনেতা হয়েও ভিডিও করে জানাতে হচ্ছে… ইন্ডাস্ট্রির কি খারাপ অবস্থা!” এই দুই মন্তব্য ঘিরেই নেটমাধ্যমে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত।
এর জবাব দিতে দেরি করেননি রাহুল! তিনি সরাসরি অনন্যাকে উদ্দেশ করে লেখেন, “অনন্যা এত ভীতু কেন তুমি? পোস্ট করার সাহস থাকলে নাম নিয়ে কর। আমি যখন বলছি গাড়ি ৬ মাসে ৪ বার খারাপ হয়েছে গাড়ি অবশ্যই সার্ভিস সেন্টারে গেছে। কিন্তু নতুন গাড়ি এতবার সার্ভিস সেন্টার যাবে কেন আর মানুষ ঠেলবেই বা কেন? আসলে কি জানো অনন্যা আমি কিয়া কোম্পানির নামে ভিডিও করেছি। কোটি টাকার কোম্পানি কোনও গরিবকে ধর্ম জিজ্ঞেস করে শু’য়োর খাওয়াতে চাইনি। আমি ৯০টা ছবি করেছি ডার্লিং, খাটে বসে বিরিয়ানি খাওয়ার ভিডিও বানাইনি। কাজেই, তফাৎ ছিল আছে থাকবে!
আপনি গরিবকে শু’ওর খাওয়ানোটা এড়িয়ে গেলেন। ওটা বলুন, ওটা আর কিয়া কোম্পানি এক?” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, গাড়ির অভিযোগকে তিনি একটি বড় কোম্পানির বিরুদ্ধে ভোক্তার প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে নয়। এই পাল্টাপাল্টি মন্তব্যের মধ্যেই আবার সামনে এসেছে পুরনো বিতর্ক, যেখানে সায়ক চক্রবর্তী পার্কস্ট্রিটের অলিপাবে গো*মাংস খাওয়ানো নিয়ে অভিযোগ তোলেন। সেই ঘটনায় ধর্মীয় মন্তব্য ও হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল, যা নিয়ে শিল্পী মহলের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুনঃ “বাবা হওয়ার পর ভালোবাসার মানেটাই বদলে গেছে, ৩৬৫ দিনই ভালোবাসার, কিন্তু ধিয়ান আসার পর…” পিতৃত্বের অভিজ্ঞতায় নতুন জীবনদর্শন খুঁজে পেলেন দুর্নিবার! গায়কের হঠাৎ বদলে যাওয়া ভালোবাসার সংজ্ঞাটা ঠিক কেমন?
রাহুলের সাম্প্রতিক পোস্টেও সেই প্রসঙ্গ টেনে আনা হয়েছে, ফলে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। সব মিলিয়ে, বিষয়টি এখন আর শুধু একটি গাড়ির ত্রুটি বা সমাজ মাধ্যমে সব কিছুর ভিডিও করা উচিত কি না? এই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। বরং ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের সম্পর্ক, ব্যক্তিগত অবস্থান আর সামাজিক সংবেদনশীলতা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে বড় আলোচনার ক্ষেত্র! কে কতটা দায়িত্বশীলভাবে কথা বললেন, আর কে ব্যক্তিগত আক্রমণের সীমা ছাড়ালেন? সে বিচার এখন দর্শক ও নেটিজেনদের হাতেই।






