ভোরের নিস্তব্ধতা অনেক সময় এমন সব স্মৃতি ফিরিয়ে আনে, যেগুলো দিনের আলোয় ব্যস্ততার আড়ালে চাপা পড়ে থাকে। গভীর রাত পেরিয়ে যখন ঘড়ির কাঁটা সাড়ে তিন ছুঁয়েছে, তখনই আবারও অতীতের সেই অমোঘ মুহূর্তে ফিরে গিয়েছিলেন ‘নন্দিনী মুখোপাধ্যায়’ (Nandini Mukherjee Paul)। ক্যালেন্ডারের তারিখ বদলায়, বছর এগিয়ে যায়, কিন্তু প্রিয় মানুষকে হারানোর দিনটি যেন আলাদা করে থেকে যায় জীবনের ভাঁজে।
গত ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অভিনেতা তাপস পালের (Tapas Paul) প্রয়াণের পর থেকে, এই তারিখ আর সময়টা তাঁর কাছে আর পাঁচটা দিনের মতো নয়! বাইরের পৃথিবীর কাছে সময়ের হিসেব ১৮ তারিখ থেকে শুরু হলেও, নন্দিনীর মনে সেই রাতের অন্ধকারই যেন প্রকৃত সূচনা। তাঁর অনুভবে ১৭ তারিখের গভীর রাত থেকেই শুরু হয়েছিল শূন্যতার দীর্ঘ পথচলা! আজও তিনি নিজের মতো করে দিন কাটান, কাজ সামলান, স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেন।
তবু স্বীকার করেন, এই স্বাভাবিকতার আড়ালেও প্রিয় মানুষটি তাঁর চিন্তা, প্রার্থনা আর নিঃশ্বাসের ভেতরে মিশে আছেন অবিচ্ছেদ্য ভাবে। প্রিয়জন চলে গেলে যে ফাঁকটা তৈরি হয়, তা সময় মুছে দেয় না, শুধু সহনীয় করে তোলে। নন্দিনীর বিশ্বাস, সম্পর্কের বন্ধন মৃ’ত্যুর সঙ্গে শেষ হয়ে যায় না! পুনর্জন্মের ধারণায় তাঁর আস্থা আছে। মনে করেন, হয়তো অন্য কোনও জন্মে, অন্য কোনও সময়ে তাঁদের আবার দেখা হবে। কিন্তু সেই সম্ভাবনার মাঝেও একটা কষ্ট কাজ করে!
যদি পরের জীবনে এই জীবনের স্মৃতিগুলো আর সঙ্গে না থাকে! একসঙ্গে কাটানো সময়, ভাগ করে নেওয়া হাসি-কান্না, সব যদি হারিয়ে যায় বিস্মৃতির অন্ধকারে, সেই ভাবনাই তাঁকে কখনও সান্ত্বনা দেয়, আবার কখনও গভীর বিষণ্নতায় ডুবিয়ে দেয়। ছোঁয়া পাওয়ার ইচ্ছে, কণ্ঠস্বর শোনার আকাঙ্ক্ষার অনুভূতি এখনও তাঁর কাছে খুব বাস্তব। জানেন, ছয় বছর আগে শেষবার যে বিদায় হয়েছিল, সেটাই ছিল শেষ দেখা। তবু তাঁর মনে হয়, হৃদয়ের ভেতর যে উপস্থিতি, তাকে কেড়ে নেওয়া যায় না।
আরও পড়ুনঃ “কোয়েলের স্ক্রিপ্ট নিয়ে অনেক পেকনা আছে, অত সোজা না” দাবি পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের! অত্যাধিক খুঁতখুঁতে ‘টলি কুইন’, সেই কারণেই কি থমকে রয়েছে জিৎ-কোয়েল জুটির নতুন ছবি? ‘দেশু’র পর, বহুল প্রতীক্ষিত জুটি ‘জিকো’ কবে ফিরবে বড়পর্দায়?
শারীরিক দূরত্ব থাকলেও মানসিক সান্নিধ্য থেকে যায় নিজের মতো করে। উল্লেখ্য, তাপস পাল অনুরাগীদের কাছেও স্মৃতির মানুষ। তাঁর অভিনয়, তাঁর পর্দার ব্যক্তিত্ব এখনও অনেকের মনে আজও অমলিন ঠিক আগের মতোই। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে নন্দিনীর কাছে তিনি শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেতা নন, বরং জীবনের সঙ্গী। তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোলেও, তাঁর কাছে এই সম্পর্ক আজও চলমান! দেখা না হলেও, ছোঁয়া না পেলেও, অনুভবে প্রতিদিনের মতোই বেঁচে আছেন তিনি।






