“বাবা হওয়ার পর ভালোবাসার মানেটাই বদলে গেছে, ৩৬৫ দিনই ভালোবাসার, কিন্তু ধিয়ান আসার পর…” পিতৃত্বের অভিজ্ঞতায় নতুন জীবনদর্শন খুঁজে পেলেন দুর্নিবার! গায়কের হঠাৎ বদলে যাওয়া ভালোবাসার সংজ্ঞাটা ঠিক কেমন?

ভালোবাসা মানেই কি শুধুই এক দিনের উদযাপন? নাকি প্রতিদিনের ছোট ছোট মুহূর্তেই লুকিয়ে থাকে তার আসল মানে? ভালোবাসার সপ্তাহ ঘিরে যখন চারদিক রঙিন, তখনই নিজের অনুভূতির কথা খুলে বললেন জনপ্রিয় গায়ক দুর্নিবার সাহা। সংগীতজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর এই অকপট স্বীকারোক্তি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

রিয়েলিটি শো সা রে গা মা পা-এর মঞ্চ থেকে পরিচিতি পাওয়া দুর্নিবার আজ বাংলা গানের জগতের পরিচিত মুখ। গত কয়েক বছরে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও একাধিক কারণে শিরোনামে এসেছে। ২০২৩ সালের ৯ মার্চ তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ঐন্দ্রিলা সেন (মোহর)-এর সঙ্গে। যদিও এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে, এর আগে তিনি মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিবাহিত ছিলেন। তবে নতুন অধ্যায় শুরু করার পর থেকেই নিজের সংসার নিয়ে তিনি বেশ খোলামেলা।

২০২৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তাঁদের জীবনে আসে এক নতুন অধ্যায়—অর্থাৎ তাদের সংসারে প্রবেশ করে পুত্রসন্তান যার নাম ধিয়ান। বাবা হওয়ার অভিজ্ঞতা যে তাঁকে ভেতর থেকে বদলে দিয়েছে, তা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেন গায়ক। ভ্যালেন্টাইনস উইক প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠতেই তিনি জানান, “আমাদের কাছে ৩৬৫ দিনই ভালোবাসার। রাগ, ঝগড়া, খুনসুটি—সবই ভালোবাসার অংশ। শুধু একটি দিনকে আলাদা করে উদযাপন করলেই ভালোবাসা পূর্ণ হয় না।”

প্রেমের সংজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দুর্নিবারের উত্তর ছিল আরও গভীর। তাঁর কথায়, প্রেম মানে শান্তির জায়গা। সেই শান্তি একজন মানুষের মধ্যেও থাকতে পারে, আবার একটি গাছ বা কোনও প্রাণীর সঙ্গেও মিলতে পারে। প্রতিদিন বেঁচে থাকার যে আকাঙ্ক্ষা, যে শান্তির খোঁজ—সেটাই হয়তো ভালোবাসা। সেই কারণেই আমরা হয়তো সেই মানুষের পাশেই থাকতে চাই যার সাথে শান্তি পাওয়া যাবে এবং তাকে ধরেই আঁকড়ে বেঁচে থাকে মানুষ।

আরও পড়ুনঃ “পুনর্জন্মে আবার পাশাপাশি হাঁটব…গভীর রাতেই শূন্যতার পথচলা শুরু, ভোররাতেই জীবন…” তাপস পালের প্রয়াণদিনে আবেগে ভাসলেন স্ত্রী, ছ’বছর পরেও স্বামীর প্রতি অটুট ভালোবাসা নন্দিনী মুখোপাধ্যায়ের!

স্ত্রী মোহরের প্রসঙ্গ উঠতেই গায়কের কণ্ঠে ধরা পড়ে অন্য রকম আবেগ। তিনি জানান, প্রতিদিনই হয়তো একটু একটু করে আরও বেশি ভালোবাসেন তাঁর স্ত্রীকে। তবে ছেলের আগমনের পর ভালোবাসার সংজ্ঞাই বদলে গেছে অনেকটাই। বাবা হওয়ার এই যাত্রা তিনি ভীষণ উপভোগ করছেন। তাঁর কথায়, সন্তানের প্রতি ভালোবাসা যেন আরও গভীর, আরও নির্মল—যা জীবনের মানে নতুন করে শেখায়।

You cannot copy content of this page