গত বছর শোনা গিয়েছিল তাঁদের সম্পর্ক ভাঙনের মুখে। তবে সেই জল্পনা অনেক আগেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন সম্রাট মুখোপাধ্যায় এবং ময়না মুখোপাধ্যায়। সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজেদের দাম্পত্যের নানা দিক খুলে বললেন এই দম্পতি। সম্রাট স্পষ্ট জানালেন, তাঁর কেরিয়ারের সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ময়নার। বাইরে কাজের জগতে তিনি যতটা এগিয়েছেন, ঘরের ভিতরে ততটাই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন ময়না। নিজের কেরিয়ারকে পিছনে রেখে সংসার সামলেছেন তিনি, আর সেই ত্যাগই তাঁদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।
দাম্পত্য জীবনকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সম্রাট এক অভিনব উপমা ব্যবহার করেন। তাঁর মতে, ভালোবাসার পথচলা অনেকটাই গঙ্গার গতিপথের মতো। পাহাড় থেকে নেমে আসার সময় যেমন উচ্ছ্বাস, তীব্রতা আর অস্থিরতা থাকে, সম্পর্কের শুরুতেও থাকে তেমনই আবেগের ঝড়। এরপর ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্থির হয়, গভীরতা বাড়ে, যেমন নদী সমতলে এসে শান্ত ছন্দে বয়ে চলে। আর দীর্ঘ পথ পেরিয়ে একসময় এমন অবস্থায় পৌঁছায়, যেখানে শব্দ কমে যায়, কিন্তু বোঝাপড়া সবচেয়ে বেশি থাকে।
বিয়ের ২৪ বছর পার করে আজ সেই শান্ত গভীরতায় দাঁড়িয়ে তাঁরা। সম্রাটের কথায়, এখন আর প্রতিদিন ভালোবাসা প্রকাশ করার প্রয়োজন হয় না, কারণ তা অনুভবেই ধরা পড়ে। সম্পর্কের এই স্থিতি তাঁদের কাছে স্বস্তি এবং বন্ধনের নতুন সংজ্ঞা। একসঙ্গে সময় কাটানো, নীরব বোঝাপড়া আর অভ্যাসের মধ্যে মিশে থাকা সঙ্গই আজ তাঁদের সম্পর্কের আসল শক্তি।
এই পথচলা কিন্তু সহজ ছিল না। দুই পরিবারের অমতে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তাঁরা। সংসার গড়ার পরও দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যমজ সন্তানের বাবা মা হন। তার আগে জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাঁদের সামনে একাধিকবার কঠিন সিদ্ধান্ত এনে দেয়। অভিনয় জীবন শুরু করার সময় আর্থিক অনিশ্চয়তা, আলাদা থাকা এবং ভবিষ্যতের ভয় তাঁদের মানসিকভাবে চাপে ফেলেছিল। সেই সময় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর প্রভাব তাঁদের জীবনে গভীর ছাপ ফেলেছিল।
আরও পড়ুনঃ “আমি ৯০টা ছবি করেছি ডার্লিং, খাটে বসে বিরিয়ানি খাওয়ার ভিডিও বানাইনি…কোনও গরিবকে ধর্ম জিজ্ঞেস করে শু’য়োর খাওয়াতে চাইনি!” গাড়ি বিতর্কে সমাজ মাধ্যমে ভিডিও নিয়ে, অনন্যার কটাক্ষের সরাসরি জবাব রাহুলের!
নিজেদের অভিজ্ঞতা তাঁরা খোলাখুলি ভাগ করে নিয়েছিলেন ইস্মার্ট জোড়ি তেও। ময়না জানিয়েছিলেন, বারবার শারীরিক ও মানসিক ধাক্কা তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল, তবু আশা ছাড়েননি। আর সম্রাট স্বীকার করেছিলেন, সেই সময়ের সীমাবদ্ধতা তাঁদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল। আজ এত বছর পর দাঁড়িয়ে তাঁরা মনে করেন, লড়াই, ত্যাগ আর বিশ্বাসের মিশেলেই তাঁদের সম্পর্ক এতটা দীর্ঘ পথ পেরিয়েছে।






