“এই পৃথিবীতে কেউ নেই মা-বাবার মতো কাছের…শূন্যতা মেপে বোঝা যায় না!” মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে অভিভাবকহারা! বাবা-মাকে ছাড়া প্রথম জন্মদিন উদযাপন সম্পূর্ণা লাহিড়ীর, আবেগঘন মুহূর্ত করলেন ভাগ!

এই পৃথিবীতে মা-বাবার মতো কাছের কেউ হয় না, যারা আমাদের ভালো এবং খারাপ সময়ে সবচেয়ে ভালো বোঝে। জীবনের কঠিন অধ্যায় গুলোতে সবথেকে প্রিয় মানুষটা হাত ছেড়ে চলে গেলেও, মা-বাবারা কিন্তু পাশেই থাকেন। এমন মানুষ চলে গেলে জীবনে যে শূন্যতা আসে, তা কোনো অন্যান্য সম্পর্ক দিয়ে পূরণ করা যায় না। হাজার মানুষ ঘিরে থাকলেও এই শূন্যতা কখনও কমে না, মনে হয় জীবন যেন একেবারেই ভেঙে পড়েছে।

টলিউড অভিনেত্রী ‘সম্পূর্ণা লাহিড়ী’র (Sampurna Lahiri) জীবনেও সাম্প্রতিক কয়েক মাস ঠিক এমনই ভয়ানক ছিল। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে তিনি তার বাবা নীলাদ্রি লাহিড়ী এবং মাকে হারিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে হার্টের সমস্যায় ভুগছিলেন বাবা, চিকিৎসা বা ওষুধ কোনও কিছুতেই কোনও লাভ হয়নি। গত বছর ২৯ শে জুলাই পিতৃহারা হয়েছিলেন অভিনেত্রী। আর তারপরেই নতুন বছরের আবহেই মা চলে যান। এই দু’জন অভিভাবককে হারানো একটি সন্তানের জন্য যে কতটা দুঃখের।

তা ভাষায় বলা প্রায় অসম্ভব। এতো বড় ব্যথার মাঝেও বন্ধুরা চেষ্টা করেছেন সম্পূর্ণার জন্মদিনটিকে বিশেষ করে তুলতে, যাতে সেই ছোট্ট আনন্দের মুহূর্তগুলোও যেন গভীরভাবে অনুভূত হয়। আজ অভিনেত্রীর জন্মদিন, বরং বলা ভালো যে বাবা-মায়ের ছাড়া প্রথম জন্মদিন। কেক কাটার মুহূর্তের কিছু ছবি পোস্ট করে সম্পূর্ণা লিখেছেন, এটা তার জীবনের সবচেয়ে অন্য রকম এবং কঠিন জন্মদিন। তবে যারা তাকে ভালোবাসে, তারাই তাকে হাসানোর জন্য সবটা করেছে।

এদিন তাঁর লেখায়, বন্ধু অনিন্দ্যর বিশেষ ভূমিকার কথাও সে উল্লেখ করতে ভুলেননি। যে সময় নিঃসঙ্গতায় ভেঙে পড়েছিলেন অভিনেত্রী, সেই সময় পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে সম্ভাব্য সকলভাবে হাসি ফিরিয়ে আনার মতো ছোট্ট হলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমর্থনের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে সে। সম্পূর্ণা অনুভব করেছেন, এমন বন্ধু থাকা কতটা বড় সৌভাগ্যের। সেই মুহূর্তে দাঁড়িয়েই তিনি বুঝেছিলেন, ব্যথার মাঝেও মানুষের ভালোবাসা কতটা শক্তিশালী।

আরও পড়ুনঃ এক চোখ প্রায় বন্ধ, ব্যথায় কষ্ট স্পষ্ট! চোখে বাঁধা ব্যান্ডেজ, জলভরা দৃষ্টি! হঠাৎ কী ঘটল ‘মিলন হবে কতদিনে’র অভিনেত্রী সোহিনী সান্যালের? শুটিংয়ের মাঝেই বিপত্তি? ছবি পোস্ট করতেই উদ্বেগ অনুরাগীদের!

উল্লেখ্য, এইবারের জন্মদিনটা যতই কঠিন হোক, সম্পূর্ণার জন্য তা স্মরণীয় হয়ে উঠেছে। জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষদের ছাড়া প্রথম জন্মদিন, কিন্তু বন্ধুদের ভালোবাসা এবং যত্নের কারণে আনন্দও রয়েছে। এই দিনটি তার জীবনের কষ্টের সঙ্গে সঙ্গেই সুন্দর অনুভূতি বয়ে এনেছে। অভিনেত্রী মনে করেন শারীরিকভাবে অভিভাবকরা অনুপস্থিত থাকলেও, আজকের দিনে তাকে প্রাণ ভরে আশীর্বাদ করছেন। আমরাও অভিনেত্রীর বিশেষ দিনে জানাই শুভেচ্ছা।

You cannot copy content of this page