“আমি চ্যালেঞ্জ করছি, টলিউড কোনও ইন্ডাস্ট্রি নয়!” পেনশন-চিকিৎসা সুরক্ষা নেই, শিল্পীদের ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনীতিতে টেনে কাজ বন্ধের অভিযোগ! ইন্ডাস্ট্রি নয় বরং ‘ট্রেডিং প্লেস’, বিস্ফো*রক অভিযোগ পাপিয়া অধিকারীর!

নব্বইয়ের দশকের বাংলা ছবির জগতে যাঁরা নিয়মিত সিনেমা দেখতেন, তাঁদের কাছে পাপিয়া অধিকারী নামটা আলাদা করে বলার প্রয়োজন হয় না। গ্ল্যামার, আত্মবিশ্বাস আর পর্দা জুড়ে সাবলীল উপস্থিতি—এই তিনের মিশেলে তিনি খুব অল্প সময়েই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। বাণিজ্যিক ছবির সেই সোনালি সময়ের অন্যতম চেনা মুখ ছিলেন তিনি।

তাঁর কেরিয়ারের বড় মোড় আসে ‘বিবি পায়রা’ গানের হাত ধরে। চপল ভঙ্গি, প্রাণবন্ত নাচ আর ক্যামেরার সামনে অনায়াস স্বচ্ছন্দতা—সব মিলিয়ে গানটি তাঁকে রাতারাতি জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দেয়। ‘সোনার সংসার’, ‘প্রতিজ্ঞা’ (১৯৮৫), ‘প্রতীক’ (১৯৮৮), ‘দান প্রতিদান’ (১৯৯২), ‘রাজার মেয়ে পারুল’ (১৯৯৩), ‘পতি পরম গুরু’ (১৯৯১) এবং ‘হাসি খুশি ক্লাব’ (২০০৯) -এর মতো ছবিতে অভিনয় করে তিনি হয়ে ওঠেন ঘরের মেয়ে। শুধু সিনেমা নয়, যাত্রামঞ্চ ও টেলিভিশনেও তাঁর দীর্ঘ উপস্থিতি প্রমাণ করে, তিনি এক প্রজন্মের নয়—একাধিক প্রজন্মের শিল্পী।

কিন্তু সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পাপিয়া অধিকারীর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমাদেরটা এখনো ইন্ডাস্ট্রি হয়নি।” অনেকেই যখন ‘টলিউড ইন্ডাস্ট্রি’ বলেন, তখন তিনি নাকি লজ্জিত বোধ করেন। তাঁর কথায়, “I feel so ashamed after all these years. It’s not there.” অর্থাৎ এত বছর কেটে যাওয়ার পরও গর্ব করার মতো কোনও প্রকৃত ইন্ডাস্ট্রি গড়ে ওঠেনি বলেই তিনি লজ্জা অনুভব করেন। এত বছর কাজ করার পরও যদি মৌলিক নিরাপত্তা না থাকে, তবে সেটিকে কীভাবে শিল্পভিত্তিক ইন্ডাস্ট্রি বলা যায়—সেই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি।

অভিনেত্রীর যুক্তি, সত্যিকারের ইন্ডাস্ট্রি হলে শিল্পীদের পেনশন থাকত, চিকিৎসার সুবিধা থাকত, তাঁদের সন্তানরাও কিছু প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পেত। তাঁর অভিযোগ, বহু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই তাঁর মতে, এটি ইন্ডাস্ট্রি নয়, বরং এক ধরনের “ট্রেডিংয়ের জায়গা”, যেখানে সম্পর্ক ও প্রভাবই শেষ কথা। সেখানেই তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “আমি চ্যালেঞ্জ করছি, টলিউড কোনও ইন্ডাস্ট্রি নয়।”

আরও পড়ুনঃ ৬৮ লক্ষ ঋণ বিতর্কে নতুন মোড়! নোটিস পাঠিয়েও ফল মেলেনি, আদালতের দ্বারস্থ অভিযোগকারী! নির্বাচনের মুখে আরও চাপে অভিনেতা-বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী!

আলোচনার মাঝেই তিনি রাজনীতির প্রসঙ্গও তোলেন। তাপস পাল থেকে শুরু করে বর্তমান যুগের সব বাংলা বিনোদন দুনিয়ার শিল্পীকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিনয় জগৎ থেকে রাজনীতির দিকে নিয়ে গিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাপস পালের অকালপ্রয়াণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বোঝাতে চান, ক্ষমতা ও প্রভাব ক্ষণস্থায়ী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বর্তমান বাংলা চলচ্চিত্র জগতে শিল্পের চেয়ে রাজনীতির প্রভাবই বেশি—আর সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর এই ক্ষোভ।

You cannot copy content of this page