সমাজমাধ্যমে চেহারা নিয়ে লাগাতার কুমন্তব্য আর কুরুচিকর মন্তব্যের জেরে শেষমেশ আইনি পথে হাঁটলেন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। শুক্রবার কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখায় ই মেল মারফত অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিনেত্রী। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নানান ট্রোল, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং অপমানজনক মন্তব্য সহ্য করার পর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে তাঁর। শুধু একজন তারকা হিসেবেই নয়, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেও এই ধরনের আক্রমণকে অসম্মানজনক বলেই মনে করছেন তিনি।
এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, শিল্পীরা অনেক সময়ই সফট টার্গেট হয়ে যান। কিন্তু তাই বলে যে কাউকে নিয়ে অবাধে কুরুচিকর মন্তব্য করা যায় না। তাঁর কথায়, দিনের পর দিন সমাজমাধ্যমে নোংরা ভাষায় আক্রমণ অত্যন্ত দুঃখজনক। মানুষ না জেনে, না বুঝে মন্তব্য করতে ভালোবাসেন। তাঁর চেহারার পরিবর্তন নিয়েও চলছে সমালোচনা। কিন্তু সেই পরিবর্তনের পেছনে যে কাজের প্রয়োজন রয়েছে, তা অনেকেই ভাবতে চান না বলেই আক্ষেপ অভিনেত্রীর।
সম্প্রতি তিনি শেষ করেছেন ‘ঠাকুমার ঝুলি’ নামের একটি ওয়েব সিরিজের শুটিং। সেখানে তাঁকে দেখা যাবে ঠাকুরমার চরিত্রে। চরিত্রের প্রয়োজনে প্রায় দশ কেজি ওজন বাড়িয়েছেন তিনি। শ্রাবন্তীর বক্তব্য, ঠাকুরমার চরিত্র যদি বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হয়, তা হলে প্রস্তুতিও সে ভাবেই নিতে হবে। ছিপছিপে নায়িকা সুলভ চেহারা নিয়ে তো সেই চরিত্র ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয়। অথচ এই বাস্তবতাটা না জেনেই সমালোচনায় মেতে উঠেছেন অনেকেই।
অভিনেত্রী আরও জানান, এই কটাক্ষ শুধু পুরুষদের কাছ থেকেই আসছে না, অনেক মহিলাও এতে সামিল। যা তাঁকে আরও বেশি হতাশ করেছে। একজন শিল্পীর কাজের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত বলেই মনে করেন তিনি। শরীরের পরিবর্তন মানেই তা নিয়ে বিদ্রূপ করার সুযোগ নয়। বরং একজন অভিনেত্রীর পেশাদার দায়বদ্ধতাকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাই অপমানজনক মন্তব্যের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ মাস পড়লেই প্রাইম টাইমে বড় রদবদল! ৯টায় আসছে ‘গঙ্গা’, ১০টায় সরছে ‘চিরসখা’! সাহেব-হিয়ার নতুন জুটি বনাম অপরাজিতা-সুদীপের পরিণত প্রেম, কোন জুটি জিতবে দর্শকের মন?
এখন সিরিজের কাজ শেষ। নতুন উদ্যমে আবার শরীরচর্চায় মন দিয়েছেন শ্রাবন্তী। নিজের ফিটনেস ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তবে এই ঘটনার পর তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন, সমাজমাধ্যমে অপমান সহ্য করার দিন শেষ। প্রয়োজন হলে আইনি পথেই লড়াই করবেন। একজন শিল্পী হিসেবে নয়, একজন আত্মসম্মানী মানুষ হিসেবেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।






