“বাঙালি বাংলাকেই ভুলতে বসেছে, বাংলায় কথা বলার অভ্যাস হারিয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে” কিছুতেই কেউ একটা লাইন সুস্থ বাংলায় বলছে না, নববর্ষে আক্ষেপ খরাজ মুখোপাধ্যায়ের! আবেগী হয়ে ছোটবেলার কোন স্মৃতি ভাগ করলেন অভিনেতা?

বাংলা নববর্ষের পরিকল্পনা আর স্মৃতি নিয়ে এক নতুন আঙ্গিকে কথা বললেন খরাজ মুখোপাধ্যায়। ১৪৩৩ বাংলা বছর শুরু হয়েছে আজ, আর এই সময়টা খরাজের কাছে বিশেষ এক অনুভূতির। নববর্ষে পরিবারের সাথে সময় কাটানোর ব্যাপারে তার ভীষণ পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রতি একটি শোতে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় সে শোটি বাতিল হয়ে গেছে। ফলে কিছুটা সময় পেয়ে, এবার পরিবারকে নিয়ে একসাথে আনন্দ করার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। এই বিশেষ দিনে, ছেলে বিহু মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনও রয়েছে।

১২ এপ্রিল ছেলের জন্মদিন পালন হয়েছে, কিন্তু আত্মীয়-স্বজনরা বাইরে থাকায় এবার তারা সবাই একসাথে আসবেন এবং দুটো অনুষ্ঠান, নববর্ষ আর ছেলের জন্মদিন একসাথে উদযাপন করা হবে। মেনুতে থাকছে ইলিশ মাছ, চিংড়ি মাছসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার। তবে, নববর্ষ মানেই খরাজের কাছে এক বিশেষ স্মৃতি। বিশেষ করে, বাংলা ভাষার গুরুত্ব এখন যে ভাবে কমে যাচ্ছে, তাতে নববর্ষের দিনে নিজের গ্রামের বাড়িতে থাকা অনেক বেশি আনন্দের। খরাজ জানালেন, ‘‘এখন তো অনেকেই সঠিক বাংলা বলার চেষ্টা করেন না, সেটা একটা দুঃখজনক ব্যাপার।

তবে গ্রামের বাড়িতে গেলে মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলতে খুব ভালোবাসে, আর সেটাই এক ধরনের ভালো লাগা তৈরি করে।” এ সময়ের সাথে আরও অনেক কিছু হারিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু খরাজ বললেন, “দেশের বাড়ির ওই চেনা পরিবেশেই নববর্ষের আসল আনন্দ লুকিয়ে থাকে।” বাংলার হালখাতা অনুষ্ঠানটিও নববর্ষের সময়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, যা এখন প্রায় ভিন্ন আঙ্গিক ধারণ করেছে। খরাজের বাবাও আইনজীবী ছিলেন এবং নববর্ষের দিনে তার ক্লায়েন্টরা মিষ্টি পাঠাতেন। কিন্তু বাবার চলে যাওয়ার পর এই ঐতিহ্যটি আর ছিল না।

তবুও, তার বন্ধুদের মধ্যে যারা ব্যবসা করেন, তারা এখনও হালখাতা করেন এবং মিষ্টি পাঠান। তার কথায়, ‘‘বিকেলে গান বাজনা, পরিবারের সবাই মিলে উৎসবের আনন্দ আর এ ধরনের ছোট ছোট ঘটনা এখনো মনে পড়ে।” বাংলা নববর্ষের সঙ্গে জড়িত এই সব প্রথাগুলি তার কাছে সত্যিই স্মরণীয়। যখন খরাজের ছোটবেলার কথা উঠে আসে, তখন তার মনেও অনেক স্মৃতি উঁকি দেয়। পদ্মপুকুরে প্রতি বছর নববর্ষে বিরাট চড়ক মেলা বসত, আর এক সপ্তাহ ধরে চলত সেই মেলা। এই মেলায় বিক্রেতারা তাদের পুতুল ও অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে আসতেন।

ছোটবেলায়, খরাজ ও তার বন্ধুরা এসব পুতুল সংগ্রহ করার জন্য মেলার শেষে তাদের থেকে একটি করে পুতুল নিয়ে আসতেন। মেলার শেষে তারা পাঁপড়, ফুচকা, এমনকি নাগরদোলায় চড়ে আনন্দিত হয়ে বাড়ি ফিরতেন। আর তার মা বলতেন, “পড়াশোনা করে যাও, তাহলে তোমরা মেলায় যেতে পারবে।” এই সব ছোট ছোট আনন্দের মুহূর্ত এখনো তার মনের মধ্যে উজ্জ্বল। নববর্ষের দিনগুলো শুধুই স্মৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং বর্তমানের আনন্দেও সেগুলি জড়িয়ে থাকে।

আরও পড়ুনঃ “ভদ্রতা তো জানেই না, সহ শিল্পীদের সমর্থন করে না…ক্যামেরার ফোকাস নিজের উপর থেকে সরে গেলেই ভয় পায়” “কাজ করতে আর ইচ্ছে করে না” ক্ষোভে ফেটে পড়লেন রত্না ঘোষাল! বেশ কিছুদিন অভিনয় থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, কী এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার জেরে এই সিদ্ধান্ত বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর?

খরাজ বলেন, ‘‘আজকাল অনেক কিছু পাল্টে গেছে, কিন্তু নববর্ষের দিনগুলোতে পুরোনো স্মৃতি ভেসে ওঠে। বিশেষ করে, ছেলেটির জন্মদিনের সময় যখন পরিবার একসাথে হয়, তখন সেই আনন্দের অনুভূতি অনেক বেশি তীব্র হয়ে ওঠে।’’ নববর্ষের এ সময়টাকে তিনি পরিবারের সাথে কাটাতে চান, যাতে একদিকে নতুন বছর শুরু হয়, অন্যদিকে পুরোনো দিনের আনন্দও ফিরিয়ে আনা যায়।

You cannot copy content of this page