“ভোট চাইতে আসিনি, এমনিতেই ভালোবাসা পাব” রাজনৈতিক ময়দানে নামতেই, দর্শকের সমর্থন নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কোয়েল মল্লিক! এত সমালোচনার পরেও, নতুন ভূমিকায় এতটা নিশ্চিত, কোন ভরসায় জয়ের কথা বলছেন অভিনেত্রী?

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা চলচ্চিত্রের পর্দায় নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করে এসেছেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। বাণিজ্যিক ছবিতে একের পর এক সাফল্য, জনপ্রিয়তা এবং দর্শকদের ভালোবাসা সব মিলিয়ে তিনি আজও টলিউডের অন্যতম পরিচিত মুখ। তবে ২০২৬ সালে তাঁর রাজনৈতিক মঞ্চে প্রবেশ অনেকের কাছেই ছিল চমকপ্রদ। কেউ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর নতুন পথচলা নিয়ে। এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি তিনি সরাসরি মানুষের সামনে এসে নিজের অবস্থান এবং ভাবনা স্পষ্ট করলেন। প্রচারের ময়দানে দাঁড়িয়ে তাঁর বক্তব্যে যেমন ছিল আত্মবিশ্বাস, তেমনই ছিল আবেগ এবং কৃতজ্ঞতা।

তবে সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় তিনি প্রচলিত রাজনৈতিক ভাষণের বদলে একেবারে ভিন্ন সুরে কথা বললেন। প্রচারে গিয়ে কোয়েল মল্লিক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি ভোট চাইতে আসেননি। তাঁর কথায়, “এখানকার মানুষ এত বছর ধরে যেভাবে ভালোবেসেছেন, তাতে আলাদা করে ভোট চাওয়ার প্রয়োজন নেই।” তিনি বিশ্বাস করেন, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং মানুষের আস্থা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে জয়ের বিষয়ে তাঁর কোনও সংশয় নেই। এই বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। কারণ সাধারণত নির্বাচনী প্রচারে প্রার্থীরা ভোট চাওয়ার ওপরই জোর দেন।

সেখানে কোয়েলের এই আত্মবিশ্বাসী অবস্থান অনেকের কাছে নতুন বার্তা হিসেবে ধরা পড়েছে। মেদিনীপুরে গিয়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার অভিজ্ঞতা নিয়েও তিনি কথা বলেন। তাঁর দাবি, এই জায়গার সঙ্গে তাঁর আলাদা আবেগ জড়িয়ে আছে। তাঁর অভিনীত একাধিক ছবি এখানে ব্লকবাস্টার হয়েছে, ফলে এখানকার মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অনেক গভীর। তিনি বলেন, “আমি শুধু সবার সঙ্গে দেখা করতে, নমস্কার জানাতে এবং তাদের আশীর্বাদ নিতে এসেছি।” এই কথার মধ্যেই স্পষ্ট, তিনি রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি নিজের শিল্পীসত্ত্বাকেও সামনে রাখতে চাইছেন।

একইসঙ্গে তিনি জানান, এতদিন পর সরাসরি দর্শকদের সামনে এসে তাঁদের ভালোবাসা পাওয়ার অনুভূতি তাঁর কাছে বিশেষ এক অভিজ্ঞতা। প্রচারের মাঝেই এক দুঃখজনক খবরের প্রসঙ্গও উঠে আসে। কিংবদন্তি আশা ভোঁসলের মৃত্যুর বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কোয়েল আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানান, “তিনি তাঁর কাজের মধ্যেই বেঁচে থাকবেন।” এই মন্তব্যে যেমন একজন শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা ফুটে উঠেছে, তেমনই তাঁর মানবিক দিকটাও সামনে এসেছে। নিজের দীর্ঘ ২২ বছরের কেরিয়ারের কথা উল্লেখ করে কোয়েল বলেন, তিনি আজ যেখানে পৌঁছেছেন, তা সম্পূর্ণই দর্শকদের ভালোবাসা এবং আশীর্বাদের ফল।

আরও পড়ুন: “আমার কাছে ২৩ পাতার স্ক্রিপ্ট আছে, ম্যাজিক মোমেন্টসের ওয়াটারমার্কসহ, জানি কী লেখা ছিল” বি*স্ফোরক দাবি পারমিতা মুন্সির! লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখাতেই লুকিয়ে রাহুলের মৃ’ত্যুর রহস্য? সবাই জেনেও চুপ, প্রকাশ্যে আসছে না কেন? লাভের জন্যই ঝুঁকির মুখে ঠেলা হয়েছিল অভিনেতাকে?

সেই কারণেই রাজনীতির মঞ্চেও তিনি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগকে বড় দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়েও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, “এটা শুধু সম্মান নয়, মানুষের জন্য কাজ করার বড় সুযোগ।” সব মিলিয়ে, কোয়েল মল্লিকের এই বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি রাজনীতিতে এসেও নিজের পরিচিত সহজ-সরল ভাষা এবং আবেগের জায়গাটা ধরে রাখতে চাইছেন। আর সেই কারণেই তাঁর এই নতুন পথচলা নিয়ে আগ্রহ যেমন বাড়ছে, তেমনই প্রশ্নও থেকে যাচ্ছে দর্শকের ভালোবাসা কি এবার ভোটের ময়দানেও একইভাবে ধরা পড়বে?

You cannot copy content of this page