টলিউডে কি তবে শেষমেশ বরফ গলতে চলেছে? দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে অভিনয় ও পরিচালনা থেকে দূরে থাকা অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে কানাঘুষো, ফেডারেশনের সঙ্গে মতবিরোধের জেরেই নাকি কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা পরিচালক। শুটিং সংক্রান্ত বিবাদ থেকে শুরু হওয়া দ্বন্দ্ব গড়িয়েছিল আদালত পর্যন্ত। সেই মামলায় যাঁরা ফেডারেশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন, অনির্বাণ ছিলেন তাঁদের অন্যতম। তারপর থেকেই যেন বড়পর্দা ও মঞ্চ দুই জায়গাতেই থমকে যায় তাঁর পথচলা, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল অনুরাগী মহলে।
এই পরিস্থিতিতে একাধিক তারকা প্রকাশ্যে অনির্বাণের পাশে দাঁড়ান। দেব, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় এবং রাজ চক্রবর্তীর মতো পরিচিত মুখেরা তাঁর হয়ে সরব হন। এমনকি ক্ষমা চাওয়ার বার্তাও সামনে আসে। কিন্তু তাতেও তৎক্ষণাৎ জট কাটেনি। ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস পাল্টা প্রশ্ন তুলেছিলেন, সবাই যখন অনির্বাণের হয়ে বলছেন, তখন তিনি নিজে নীরব কেন। তাঁর কি সত্যিই ফেরার ইচ্ছে আছে? এই মন্তব্যেই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছিল এবং টলিপাড়ার অন্দরে উত্তাপ ছড়িয়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে বলেই শোনা যাচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রির একাংশের দাবি, স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে নাকি অনির্বাণের কথা হয়েছে। এমনকি মুখোমুখি বৈঠকের কথাও রটেছে। যদিও এই বিষয়ে সরাসরি মুখ খোলেননি অভিনেতা পরিচালক। অন্যদিকে স্বরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁর কাছে অনেক ফোন আসছে, কিন্তু এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলার সময় আসেনি। ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই সংযত মন্তব্যই বরং জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, যে মামলাকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত, তা সম্প্রতি খারিজ হয়েছে বলে খবর। ফেডারেশনের কাছে সেই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। অনুরোধ জানানো হয়েছে, নতুন প্রেক্ষাপটে অনির্বাণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হোক। উল্লেখযোগ্য, একই মামলায় যুক্ত অন্য পরিচালকেরা পরে সমঝোতার পথে হেঁটে কাজে ফিরেছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, অনির্বাণের ক্ষেত্রেও কি একই সমাধান সূত্র কার্যকর হতে চলেছে।
আরও পড়ুনঃ”বৌদি মানে মায়ের মতো যত্ন, বন্ধুর মতো বিশ্বাস” তাঁর কাছে যে কথা বলা যায়, অন্য কাউকে বলা যায় না! তরুণরা কেন ‘বৌদি’দের দিকে টান অনুভব করে? এই আকর্ষণ প্রসঙ্গে স্পষ্ট জবাবে, সম্পর্কের মানবিক দিক ব্যাখ্যা করলেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়!
সব মিলিয়ে এখন টলিউডে একটাই আলোচনা, মার্চের মাঝামাঝি কি তবে হতে চলেছে তাঁর ঘরে ফেরা ঘোষণা। উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক বার্তা আসতে পারে বলেই গুঞ্জন। যদিও সবটাই এখনো অনুমান নির্ভর, তবু অনুরাগীরা আশায় বুক বাঁধছেন। কারণ অনির্বাণের মতো প্রতিভাবান শিল্পীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি যে বাংলা বিনোদন জগতের জন্য বড় শূন্যতা তৈরি করেছে, সে কথা মানছেন অনেকেই। এখন দেখার, অপেক্ষার অবসান কবে।






