সম্প্রতি আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার করেগা’। এই ধারাবাহিকের প্রধান অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যুতে সিরিয়ালটি বন্ধ হয়ে যায়। আর এই কারণে শিল্পী এবং টেকনিশিয়ানদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতিতে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী সোমাশ্রী চাকি। তিনি জানান, তার জীবনে চলতি মুহূর্তে একের পর এক দুঃখজনক ঘটনা ঘটছে, যার মধ্যে অন্যতম তার স্বামীর অসুস্থতা এবং চিকিৎসার খরচে প্রায় সর্বস্বান্ত হয়ে যাওয়া।
সোমাশ্রী চাকি বলেন, “স্বামীকে কিছু মাস আগে হারিয়েছি। তার চিকিৎসায় আমাদের সব সঞ্চয় চলে গেছে। এখন আমার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ, আমার মেয়ের বিয়ে ডিসেম্বর মাসে। কিন্তু কোথা থেকে কী করব, বুঝতে পারছি না। একমাত্র যে ধারাবাহিকটিতে অভিনয় করছিলাম, তা বন্ধ হয়ে গেছে। তাই এখন কাজের জন্য অনেক জায়গায় যোগাযোগ করছি, কিন্তু সহজে কাজ পাওয়া যাচ্ছে না।” বর্তমানে তিনি নিজে কর্মহীন এবং নানা ধরনের সমস্যায় পড়েছেন, যা তার জীবনকে কঠিন করে তুলছে।

তিনি আরও জানান, “আমার মেয়ে এখন ২৬ বছর বয়সী। আগে সে ‘মাস কমিউনিকেশন’ বিষয়ে পড়াশোনা করত এবং কিছুদিন চাকরি করছিল। কিন্তু বর্তমানে তারও কোনো কাজ নেই। আমার মেয়ের জন্যও আমি চিন্তিত। কোথাও কোনো কাজ না পাওয়ার কারণে আমাদের পরিবার বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে।” সোমাশ্রী চাইছেন, শিল্পীদেরও যেন সুযোগ মেলে এবং তাদের জীবনে স্থিতি ফিরে আসে, যাতে তাদের অশান্তি কিছুটা কমে।
এদিকে, ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিক বন্ধ হওয়া নিয়ে শিল্পী মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রোডাকশনের সঙ্গে আপাতত কোনো শিল্পী বা টেকনিশিয়ান কাজ করবেন না। এই সিদ্ধান্তের ফলে আরও কিছু ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে গেছে, যার মধ্যে ‘চিরসখা’ অন্যতম। এসব ঘটনায় শিল্পীদের মধ্যে অসন্তোষ এবং দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে গেছে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ মিঠুন চক্রবর্তী! প্রাথমিক চিকিৎসার পর, তড়িঘড়ি ফিরলেন কলকাতায়! কী হয়েছে বর্ষীয়ান অভিনেতার? এখন কেমন আছেন?
অবশেষে, সোমাশ্রী চাকি চান, রাহুলের মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হোক এবং যেন এ ধরনের পরিস্থিতিতে শিল্পীরা যেন সঠিক বিচার পান। তিনি আরও বলেন, “যদিও রাহুলের মৃত্যুর তদন্ত চলছে, তবুও শিল্পী-কলাকুশলীদের কাজের সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” এই অবস্থায়, তার মতো শিল্পীরা এক ধরনের চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তারা যে কতটা সমস্যায় আছেন, তা সহজেই অনুমান করা যায়।






