বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে এমন অনেক অভিনেতা রয়েছেন, যাঁরা নিয়মিত কাজ করলেও আলোচনার কেন্দ্রে খুব কমই আসেন। তাঁদের মুখ দর্শকের চেনা, কিন্তু নামটা অনেক সময় মনে পড়ে না। ঠিক তেমনই এক পরিচিত অথচ অবহেলিত মুখ অভিনেতা দেবাশিস গাঙ্গুলী (Debashish Ganguly)। সম্প্রতি সাক্ষাৎকারে নিজের কেরিয়ার, সংগ্রাম আর ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন তিনি, যেখানে উঠে এসেছে সাফল্যের আড়ালে থাকা এক বাস্তব লড়াইয়ের গল্প।
অভিনয়ের শুরুটা খুব পরিকল্পনা করে নয়, বরং ঘটনাচক্রেই এমনটাই জানালেন দেবাশিস। থিয়েটার থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে ছোট পর্দা ও বড় পর্দায় সুযোগ এলেও, নিজেকে তিনি কখনোই “দারুণ অভিনেতা” বলে মনে করেন না। বরং নিজের ভাষায়, তিনি একজন “এভারেজ আর্টিস্ট”। এত বড় বড় শিল্পীদের মাঝে নিজেকে সবসময় ছোট বলেই মনে হয়েছে তাঁর। এমনকি নিজের অভিনয় দেখতে গিয়েও অস্বস্তি হয় বলে স্বীকার করেছেন তিনি। সেই কারণেই প্রিমিয়ার শোতেও খুব একটা দেখা যায় না তাঁকে।
কাজ করছেন, কিন্তু কাজ পাওয়া সবসময় সহজ ছিল না, এই কথাটাই বারবার উঠে এসেছে তাঁর কথায়। অনেক সময় ভালো সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে, কখনো শুটিং শুরু হওয়ার আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। বড় স্টারদের সঙ্গে কাজের সুযোগ এসেও তা শেষ পর্যন্ত হয়নি সেই কষ্ট একসময় তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল। তবে এখন আর সে আক্ষেপ নেই। তিনি নিজেই বলেন, “আমি নিজের নামের পাশে ফুলস্টপ দিয়ে দিয়েছি।” অর্থাৎ প্রত্যাশা কমিয়েই এগিয়ে চলছেন তিনি।
নিজের চেহারা নিয়েও বহুবার ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের শিকার হতে হয়েছে দেবাশিসকে। মোটা ভুরু, আলাদা লুক এই সবকিছুই তাঁকে বারবার নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্রে বেঁধে ফেলেছে। কমেডি বা সহকারী চরিত্রেই বেশি দেখা গেছে তাঁকে। তবে এই নিয়ে তাঁর মধ্যে কোনও তীব্র ক্ষোভ নেই। বরং তিনি মেনে নিয়েছেন, এই ইন্ডাস্ট্রিতে সুযোগ ধরে রাখতে গেলে অনেক কিছু “ম্যানেজ” করাও জরুরি যেটা তিনি পারেননি বলেই স্বীকার করেন। প্রযোজনা সংস্থা বা বড় ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখা, নিজে থেকে এগিয়ে না যাওয়া এই অভ্যাসই তাঁকে পিছিয়ে দিয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ আমাদের রাজ্যে পাঁচ কিলোমিটার অন্তর ভাষা, পোশাক, সংস্কৃতি বদলে যায়! আমি চাইব, যিনি রাজ্য চালাবেন তিনি যেন এই সব কিছুকে সমান মান্যতা দেন- দেবেশ চট্টোপাধ্যায়
সবশেষে দেবাশিসের কথায় উঠে আসে জীবনের এক সহজ দর্শন। তিনি বিশ্বাস করেন, সব না পাওয়ার দুঃখ প্রকাশ করে লাভ নেই। যা পেয়েছেন, সেটুকুই তাঁর প্রাপ্তি। দমদমের ছোট্ট ফ্ল্যাটেই নিজের মতো করে জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। সংসার, কাজ আর নিজের ভেতরের শান্তিই এখন তাঁর আসল ভরসা। খ্যাতি না থাকলেও, মানুষের ভালোবাসা যে এখনও পান সেটাই তাঁর কাছে বড় প্রাপ্তি। তাঁর কথায়, “যা পাইনি তা নিয়ে নয়, যা পেয়েছি সেটাকেই মনে রাখা উচিত” আর এই ভাবনাতেই হয়তো লুকিয়ে আছে এক বাস্তব শিল্পীর নিঃশব্দ লড়াই।






