ইডেন গার্ডেন্সে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের উত্তেজনাপূর্ণ ক্রিকেট ম্যাচ ঘিরে ছিল উৎসবের আবহ। সেই ম্যাচ উপভোগ করতে গিয়েছিলেন টেলিভিশন জগতের পরিচিত মুখ রণজয় বিষ্ণু ও তাঁর সদ্য বিবাহিত স্ত্রী শ্যামৌপ্তি মুদলি। বিয়ের পর কাজের চাপে দুজনের আলাদা করে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়নি, তাই এই ম্যাচকেই একরকম বিশেষ সময় কাটানোর সুযোগ হিসেবে বেছে নেন তাঁরা। গ্যালারিতে বসে লাইভ ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতা শ্যামৌপ্তির জীবনে একেবারেই নতুন ছিল। ক্রিকেট তিনি আগে টিভিতে দেখলেও মাঠে বসে দর্শকদের উচ্ছ্বাস, খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স এবং পুরো পরিবেশ কাছ থেকে দেখা তাঁর কাছে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন অনুভূতি। ক্লাব হাউসের আসন থেকে ম্যাচ দেখতে দেখতে দুজনেই ভারতের ব্যাটিং উপভোগ করেন। বিশেষ করে সঞ্জু স্যামসনের চার ও ছক্কার বন্যা দর্শকদের উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।
নবদম্পতির জন্য দিনটি আনন্দময় হলেও ম্যাচ চলাকালীন কিছু অভিজ্ঞতা রণজয়ের মনে বিরক্তির জন্ম দেয়, যা পরে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন। ম্যাচের আবহ, দর্শকদের প্রতিক্রিয়া এবং মাঠের উন্মাদনা মিলিয়ে দিনটি তাঁদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকলেও, কিছু দর্শকের আচরণ তাঁর নজর কাড়ে অন্যভাবে। রণজয়ের মতে, মাঠে বসে ক্রিকেট দেখা মানে শুধু খেলা নয়, বরং পুরো অভিজ্ঞতার প্রতি সম্মান দেখানোও জরুরি। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, অনেক দর্শক ম্যাচের প্রতি মনোযোগ না দিয়ে বারবার খাবার আনতে বা খেতে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি বলেন, যারা মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে টিকিট কেটে ম্যাচ দেখতে আসেন, তাঁদের অন্তত খেলাটার প্রতি আগ্রহ থাকা উচিত।
তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গ্যালারির সিট ছোট হওয়ায় একজন উঠলে পাশের সবাইকে দাঁড়াতে হয়, ফলে খেলার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বারবার মিস করতে হয় অন্য দর্শকদের। বিশেষ করে ম্যাচের শেষের দিকে, যখন উত্তেজনা চরমে, তখনও কেউ কেউ খাবারের জন্য আসন ছাড়ছিলেন, যা তাঁকে অবাক করেছে। রণজয়ের কথায়, খেলার ১৯.৪ ওভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বারবার ওঠানামা করা অন্যদের অভিজ্ঞতাকে নষ্ট করে দেয়। এই আচরণকেই তিনি ‘অসভ্যতা’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, মাঠে এসে যদি কেউ খেলার বদলে শুধু খাবারের দিকেই মন দেন, তাহলে ক্রিকেট দেখার মূল আনন্দটাই হারিয়ে যায়।
এই অভিজ্ঞতার কথা তিনি একটি ভিডিওর মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নেন। সেখানে রণজয় লেখেন, শ্যামৌপ্তির জীবনের প্রথম লাইভ ক্রিকেট দেখা যেমন বিশেষ মুহূর্ত ছিল, তেমনই কিছু দর্শকের আচরণ তাঁকে অবাক করেছে। তাঁর কথায়, অনেকেই যেন স্টেডিয়ামকে রেস্টুরেন্ট ভেবে নিয়েছেন। তিনি মজার ছলে উল্লেখ করেন, তাঁর পিছনে বসা এক দর্শক এত মন্তব্য করছিলেন যে মনে হচ্ছিল তিনি নিজেই মাঠে নামলে ভারতীয় দলের থেকেও ভালো খেলতেন। যদিও পুরো ঘটনাকে তিনি হাস্যরসের সঙ্গেই তুলে ধরেছেন, তবুও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল খেলার প্রতি আন্তরিকতার বিষয়টি। ভিডিওটি প্রকাশের পর অনুরাগীদের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়। কেউ তাঁর মতের সঙ্গে একমত হন, আবার কেউ বলেন স্টেডিয়ামে খাওয়া ও আনন্দ করাও ম্যাচ দেখার অংশ। তবে রণজয়ের পোস্টে স্পষ্ট ছিল যে তিনি দিন শেষে ভালো ক্রিকেট দেখার আনন্দই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
ম্যাচের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রণজয় ও শ্যামৌপ্তি দুজনেই বিশেষভাবে প্রশংসা করেন সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটিংয়ের। শ্যামৌপ্তির মতে, টিভিতে ম্যাচ দেখা আর মাঠে বসে চার ছক্কার লড়াই দেখা সম্পূর্ণ আলাদা অনুভূতি। দর্শকদের চিৎকার, প্রতিটি শটের সঙ্গে ওঠা উত্তেজনা এবং স্টেডিয়ামের শক্তিশালী পরিবেশ তাঁকে মুগ্ধ করেছে। ম্যাচে ১৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে ভারত কিছুটা চাপে পড়লেও সঞ্জু স্যামসনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারত চার বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ের ফলে দল সেমিফাইনালের টিকিটও পেয়ে যায়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে দর্শকদের উচ্ছ্বাস এবং দলের জয় নবদম্পতির আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয়। সব মিলিয়ে বিরক্তির কিছু মুহূর্ত থাকলেও ক্রিকেটের রোমাঞ্চই দিনটির প্রধান স্মৃতি হয়ে থাকে তাঁদের কাছে।
আরও পড়ুনঃ “আমি মোটেও ভালো অভিনেতা নই” এত বছরের অভিজ্ঞতার পরেও, বি’স্ফোরক সব্যসাচী চক্রবর্তী! আত্মসমালোচনা নাকি বাংলা অভিনয় জগৎ নিয়ে দিলেন অন্য ইঙ্গিত? তুলসী চক্রবর্তীর অভিনয়কে ‘অন্য পর্যায়’ বলার পেছনে লুকিয়ে কোন অস্বস্তিকর সত্য?
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন রণজয় বিষ্ণু ও শ্যামৌপ্তি মুদলি। জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘গুড্ডি’র সেট থেকেই তাঁদের প্রেমের শুরু, যা পরে বাস্তব জীবনে পরিণতি পায়। বিয়ের পর দুজনেই নিজেদের পেশাগত কাজে ব্যস্ত থাকায় একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ খুব বেশি হয়নি। তাই এই ক্রিকেট ম্যাচ তাঁদের কাছে ছোট্ট এক বিশেষ আউটিং হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, কর্মজীবনেও নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন রণজয়। জানা যাচ্ছে, খুব শিগগিরই তিনি স্টার জলসার নতুন একটি মেগা ধারাবাহিকে ফিরছেন, যেখানে তাঁর বিপরীতে দেখা যাবে অভিনেত্রী অভিকা মালাকারকে। ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত ব্যস্ততার মাঝেও এই ম্যাচ তাঁদের জীবনে একটি স্মরণীয় দিন হয়ে রইল, যেখানে আনন্দ, বিস্ময় এবং কিছু অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা মিলেমিশে তৈরি করেছে এক আলাদা স্মৃতি।






