অভিনেত্রী অহনা দত্ত ও মেকআপ আর্টিস্ট দীপঙ্কর রায়ের জীবনে এখন সবচেয়ে বড় আনন্দের কেন্দ্র তাঁদের কন্যা মীরা। দেখতে দেখতে ছয় মাস পূর্ণ করেছে ছোট্ট মেয়ে, আর সেই বিশেষ মুহূর্তকে ঘিরেই আয়োজন করা হয়েছিল অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠান। জন্মের পর থেকেই মেয়ের প্রতিটি ছোট বড় মুহূর্তকে উদযাপন করতে দেখা গেছে এই দম্পতিকে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঘরোয়া পরিবেশে, পরিবার ও কাছের মানুষদের উপস্থিতিতে মীরার অন্নপ্রাশন সম্পন্ন হয়। তবে এখানেই শেষ হয়নি উদযাপন। কয়েকদিন পর, ১ মার্চ রবিবার আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হয় একটি গ্র্যান্ড সেলিব্রেশন, যেখানে আত্মীয়স্বজন ও টেলিভিশন জগতের বহু পরিচিত মুখ উপস্থিত ছিলেন। সোমবার সকালে অহনার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট সামনে আসতেই অনুষ্ঠানের নানা মুহূর্ত ছড়িয়ে পড়ে অনুরাগীদের মধ্যে। সাজসজ্জা, অতিথিদের উপস্থিতি এবং পরিবারের আনন্দঘন পরিবেশ দেখে অনেকেই শুভেচ্ছা জানান নবদম্পতিকে। তবে ছবিগুলোর মাঝেই একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসে, এই বিশেষ দিনে কি উপস্থিত ছিলেন অহনার মা চাঁদনি গঙ্গোপাধ্যায়?
অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ বাড়লেও জানা যায়, মেয়ের জীবনের এত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেও উপস্থিত ছিলেন না অহনার মা। দীর্ঘদিন ধরেই মা ও মেয়ের মধ্যে যোগাযোগ নেই বলেই জানা গেছে। ব্যক্তিগত কারণে তাঁদের সম্পর্ক অনেক আগেই দূরত্বে পৌঁছেছে এবং সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন এখনও হয়নি। এমনকি অন্তঃসত্ত্বা সময়, মেয়ের জন্ম কিংবা অন্নপ্রাশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনেও যোগাযোগ করেননি তিনি। ফলে মেয়ের বড় দিনে মাকে পাশে না পেলেও নিজের পরিবার ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নিয়েই আনন্দ ভাগ করে নেন অহনা। অনুষ্ঠানের প্রতিটি মুহূর্তে তাঁকে হাসিখুশি এবং ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ছবিতেও স্পষ্ট ছিল, ব্যক্তিগত অভাবকে পাশে সরিয়ে রেখে মেয়ের বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে তুলতেই মন দিয়েছেন অভিনেত্রী। বিষয়টি নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যেও নানা আলোচনা শুরু হলেও অহনা নিজে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
সাজপোশাকের দিক থেকেও অনুষ্ঠানে ছিল বিশেষ আকর্ষণ। ছোট্ট মীরাকে গোলাপি রঙের সিক্যুইন কাজ করা পোশাক ও মানানসই হেয়ারব্যান্ডে সাজানো হয়েছিল, যা সকলের নজর কাড়ে। মেয়েকে কোলে নিয়ে অহনাকে দেখা যায় অ্যাকোয়া ব্লু রঙের টিস্যু সিল্ক শাড়িতে, যেখানে সূক্ষ নকশার কাজ ছিল চোখে পড়ার মতো। হালকা কিন্তু পরিপাটি মেকআপ ও সুন্দর হেয়ারস্টাইলে অভিনেত্রীকে বেশ উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল। অন্যদিকে দীপঙ্কর পরেছিলেন ঐতিহ্যবাহী পাঞ্জাবি, যা অনুষ্ঠানের পরিবেশের সঙ্গে মানানসই ছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলা টেলিভিশন জগতের একাধিক পরিচিত মুখ, যার মধ্যে ছিলেন রাহুল মজুমদার, প্রীতি বিশ্বাস, দিব্যজ্যোতি দত্ত, প্রারব্ধি সিংহ, বিশ্বরূপ চট্টোপাধ্যায়, মানসী সেনগুপ্ত এবং পল্লবী শর্মা সহ আরও অনেকে। সহকর্মীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। অতিথিরা ছোট্ট মীরাকে আশীর্বাদ জানান এবং পরিবারের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্ত ভাগ করে নেন।
খাবারের আয়োজনও ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। অতিথিদের জন্য সাজানো হয়েছিল বড়সড় ভোজের ব্যবস্থা, যেখানে ছিল বিভিন্ন ধরনের স্যালাড, পোলাও, মাটনসহ নানা সুস্বাদু পদ। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ। মেয়ের প্রথম বড় সামাজিক অনুষ্ঠান হওয়ায় আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো খামতি রাখতে চাননি অহনা ও দীপঙ্কর। অতিথিদের স্বাচ্ছন্দ্য থেকে শুরু করে সাজসজ্জা সবকিছুতেই ছিল পরিকল্পনার ছাপ। অনুষ্ঠানস্থলের সাজও ছিল উজ্জ্বল ও পারিবারিক আবহে ভরা, যা ছবিতে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। উপস্থিত অতিথিরা জানান, অনুষ্ঠানটি ছিল উষ্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে ভরপুর। পরিবারের সদস্যরা ছোট্ট মীরাকে ঘিরে সময় কাটান এবং নতুন জীবনের এই অধ্যায়কে আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করেন। পুরো আয়োজনেই ছিল পারিবারিক আবেগ ও আনন্দের সুন্দর মেলবন্ধন।
আরও পড়ুনঃ “ইন্ডাস্ট্রি কখনো একজন হিরো দিয়ে চলে না” দাবি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের! একসময় একাধিক নায়কের কাঁধেই নির্ভর করত বক্স অফিসের ভাগ্য, সেই ফর্মুলা ভেঙে যাওয়াতেই কি আজ সাফল্যের চাবিকাঠি হারাচ্ছে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি? কী জানালেন অভিনেতা?
এর আগে ২২ ফেব্রুয়ারির ঘরোয়া অন্নপ্রাশনের ভিডিওও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিয়েছিলেন অহনা। সেখানে অন্নপ্রাশনের প্রস্তুতি, গায়ে হলুদের মুহূর্ত এবং মেয়ের মুখে প্রথম ভাত তুলে দেওয়ার দৃশ্য অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করেন তিনি। রবিবারের অনুষ্ঠানে মেয়েকে কোলে নিয়ে বসেই অন্নপ্রাশনের মূল পর্ব সম্পন্ন করেন অহনা ও দীপঙ্কর। প্রথমবার মেয়ের মুখে প্রসাদ তুলে দেন বাবা দীপঙ্কর নিজেই, যা পরিবারের কাছে আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে ওঠে। বাবা মা হিসেবে তাঁদের নতুন যাত্রার এটি ছিল প্রথম বড় অনুষ্ঠান, তাই দিনটিকে বিশেষ করে তুলতে দুজনেই যথেষ্ট যত্ন নিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত মুহূর্তগুলো দেখে অনুরাগীরা শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দেন পরিবারকে। ব্যক্তিগত জীবনের নানা চড়াই উৎরাইয়ের মাঝেও মেয়েকে ঘিরেই এখন তাঁদের সুখের কেন্দ্র, আর সেই আনন্দই ধরা পড়েছে এই উদযাপনের প্রতিটি ছবিতে।






