সপ্তাহের শুরুতেই এক আন্তরিক পারিবারিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল কালীঘাট মন্দির। প্রবীণ অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক স্ত্রী, মেয়ে, নাতি ও নাতনিকে নিয়ে পুজো দিতে পৌঁছলেন মন্দিরে। সঙ্গে ছিলেন সদ্য রাজ্যসভায় তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত কোয়েল মল্লিক। মেয়ে কাব্য ও ছেলে কবীরকে নিয়েই দেবীর আশীর্বাদ নিতে আসেন তিনি। নতুন দায়িত্বের আগে এই প্রার্থনা যেন এক নীরব প্রতিশ্রুতি, জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে পরিবারকে পাশে রাখার অঙ্গীকার।
রঞ্জিত মল্লিক জানালেন, কালীঘাটে পুজো দেওয়া তাঁদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক রীতি। বছরে অন্তত একবার তাঁরা এখানে আসেনই। তাই এই সফর নতুন কিছু নয়, বরং বিশ্বাস আর ভালবাসার ধারাবাহিকতা। এ বছর প্রথমবার ছোট্ট কাব্যও তাঁদের সঙ্গে এসেছে। অভিনেতার কথায়, মায়ের কাছে একটাই চাওয়া, পরিবারের সকলেই যেন সুস্থ ও শান্তিতে থাকে। খ্যাতি, সাফল্য বা পদ সবই ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু সুস্থতা আর পারিবারিক বন্ধনই সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ।
মেয়ের নতুন রাজনৈতিক দায়িত্ব প্রসঙ্গে বাবার কণ্ঠে শোনা গেল আস্থা আর গর্ব। কোয়েলের প্রথম ছবি নাটের গুরু মুক্তির সময়ও তিনি পরিচালকের কাছে অনুরোধ করেছিলেন, মেয়ে যোগ্যতা প্রমাণ করতে না পারলে যেন কোনও ছাড় না দেওয়া হয়। সেই একই নীতিতে আজও অটল তিনি। তাঁর মতে, দায়িত্ব যত বড়ই হোক, সততা ও পরিশ্রমই শেষ কথা। কোয়েলও সেই শিক্ষা নিয়েই বড় হয়েছে বলেই বিশ্বাস তাঁর।
আরও পড়ুনঃ কৃষ্ণ পুজো দিয়ে মেয়ে মীরার অন্নপ্রাশন, এরপরেই ভূরিভোজের জমকালো আয়োজন অহনা-দীপঙ্করের! তারকাখচিত সন্ধ্যা, তাও অনুপস্থিত রইলেন দিদা চাঁদনি গঙ্গোপাধ্যায়! দূরত্ব কি এখনও কাটেনি? কী উত্তর অভিনেত্রীর?
রঞ্জিত বলেন, কোয়েল এখন পরিণত এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট বিচক্ষণ। আলাদা করে উপদেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বাবা হিসেবে তিনি শুধু বলেছেন, সৎ পথে থেকে কাজ করতে এবং মানুষের আস্থা অর্জন করতে। অভিনয় জগতের অভিজ্ঞতা তাঁকে মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে সাহায্য করেছে, আর নতুন দায়িত্বেও সেই অভিজ্ঞতাই কাজে লাগবে বলে মনে করছেন তিনি। পরিবারের সমর্থনই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।
এদিকে মল্লিক বাড়িতে শুরু হয়ে গেছে দোলের প্রস্তুতি। নাতি নাতনি রং খেলবে বলে ঘরজুড়ে উৎসবের আবহ। পুজোর পবিত্রতা আর বসন্তের রঙ মিলেমিশে এক আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করেছে পরিবারে। নতুন দায়িত্বের সূচনা, পারিবারিক ঐতিহ্য আর উৎসবের উচ্ছ্বাস সব মিলিয়ে এখন মল্লিক পরিবারের সময়টা বিশেষ স্মরণীয় হয়ে উঠেছে।






