“ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে আর মিথ্যা বলতে পারব না… দিদি-অভিষেক জোর করে দলে এনেছিলেন”, সরকার বদলাতেই তৃণমূলের অন্দরের কথা ফাঁস করলেন দেব! সাধারণ মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে মিথ্যে বলতে বাধ্য করাতেই কি ২০২৪ লোকসভা ভোটের আগে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন ঘাটালের সাংসদ?

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য সামনে আসছে তৃণমূলের অন্দরমহল থেকে। দলের ভরাডুবির ধাক্কায় এবার প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগড়ে দিলেন ঘাটালের তিনবারের সাংসদ দেব। দীর্ঘদিন ধরে ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’-এর স্বপ্ন দেখিয়ে মানুষের ভোট নেওয়া হলেও বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি বলেই দাবি করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, এই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি “মিথ্যা প্রতিশ্রুতি” দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ঘাটালের জনপ্রিয় সাংসদ। রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা দেব ২০১৪ সাল থেকে টানা তিনবার ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতে সংসদে পৌঁছেছেন। মূলত তাঁর জনপ্রিয়তা এবং তারকাখ্যাতিকেই হাতিয়ার করে এই কেন্দ্রে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি তৈরি করেছিল তৃণমূল। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেবের এই বিস্ফোরক মন্তব্য অনেককেই অবাক করেছে। পশ্চিম মেদিনীপুরে দলের পরাজিত প্রার্থীদের পাশে বসে তিনি যেভাবে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন, তাতে স্পষ্ট হয়েছে দলের অন্দরেই জমে থাকা অসন্তোষ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেবের বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত হতাশা নয়, বরং তা তৃণমূলের ভাঙনের বড় ইঙ্গিতও হতে পারে।

দেব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তিনি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আর প্রার্থী হতে চাননি। কারণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ বাস্তবায়িত না হওয়ার বিষয়টি। তাঁর দাবি, এই পরিকল্পনা নিয়ে বারবার মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। দেব বলেন, “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান করতে পারছিলাম না বলেই আমি পদত্যাগ করতে চেয়েছিলাম। সংসদের শেষ বক্তৃতাতেও সেই কথা বলেছিলাম। দিদিকে বলেছিলাম আমি আর ভোটে দাঁড়াতে চাই না।” তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অন্দরে তুমুল শোরগোল পড়ে গেছে।

এরপরই আরও বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন ঘাটালের সাংসদ। দেবের কথায়, তিনি প্রার্থী হতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে ডেকে পাঠান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আর মিথ্যা কথা বলে মানুষের সামনে যেতে পারবেন না। কারণ ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে মানুষকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনও কাজ হয়নি। দেব দাবি করেন, তখন তাঁকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে রাজ্য সরকারই এই প্রকল্পের দায়িত্ব নেবে এবং দ্রুত কাজ শুরু হবে। সেই প্রতিশ্রুতির উপর ভরসা করেই তিনি আবার ভোটে দাঁড়াতে রাজি হন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি বলেই অভিযোগ তাঁর।

ঘাটাল ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা বর্ষায় প্রায় প্রতি বছরই বন্যার জেরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বহু বছর ধরেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’-এর কথা বলা হচ্ছিল। স্থানীয় মানুষও সেই আশাতেই বারবার ভোট দিয়েছেন বলে মনে করা হয়। দেবের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু তাঁকেই নয়, গোটা ঘাটালের মানুষকেই এই ইস্যুতে ভুল বোঝানো হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসতেই বিরোধীরা তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভই এবার প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসছে।

আরও পড়ুনঃ রাজনীতি এড়িয়ে চলা জিৎ, সাত সকাল সাদা পাঞ্জাবিতে হাজির ব্রিগেডে! তৃণমূল নয় বিজেপিকেই নীরব সমর্থন করতেন জিৎ? তবে কি নতুন সরকার আসতেই বদলালেন অবস্থান? গেরুয়া শিবিরে সুপারস্টারের নীরব সমর্থন ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে!

শুধু ঘাটাল নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকেও এখন তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভের সুর শোনা যাচ্ছে। উত্তরবঙ্গের একাধিক নেতা প্রকাশ্যে দাবি করছেন, দলের ভরাডুবির জন্য দায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৌশল। আবার অনেকে বলছেন, ভোট প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যত বেশি সামনে এসেছেন, ততই মানুষের ক্ষোভ বেড়েছে। দলের অন্দরের অনেকেই মনে করছেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে শাসকদলের বিরুদ্ধে প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, আর তারই প্রভাব পড়েছে ভোটের ফলাফলে। এই পরিস্থিতিতে দেবের বিস্ফোরক মন্তব্য তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

You cannot copy content of this page