আশির দশকের শেষ দিকের সময়। তখন মঞ্চনাটকেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন অভিনেতা চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী (Chiranjeet Chakraborty)। সেই সময় তিনি ‘নাগপাশ’ নামে একটি নাটকে অভিনয় করছিলেন। এর আগে অবশ্য দু একটি ছবিতে কাজ করেছিলেন। হঠাৎই একদিন ডাক আসে পরিচালক প্রভাত রায় (Prabhat Roy) -এর কাছ থেকে। তিনি নতুন একটি ছবির জন্য অভিনেতা খুঁজছিলেন। প্রভাত রায় সরাসরি চিরঞ্জিতকে বলেন, নতুন ছবিতে তাকে একসঙ্গে নায়ক ও গুন্ডার চরিত্রে অভিনয় করতে হবে। প্রস্তাব শুনে অবাক হলেও অভিনেতা রাজি হয়ে যান।
পরে জানতে পারেন, তাঁর নাটক দেখেই তাঁকে পছন্দ করেছিলেন পরিচালক প্রভাত রায়ের স্ত্রী জয়শ্রী। নতুন মুখ খুঁজতে গিয়ে তিনি চিরঞ্জিতের অভিনয় দেখেন এবং স্বামীর কাছে তাঁর নাম বলেন। সেইভাবেই তৈরি হয় ছবির সুযোগ। এরপর তৈরি হয় ‘প্রতিকার’ নামের সেই সিনেমা। ছবিতে চিরঞ্জিতের সঙ্গে ছিলেন ভিক্টর ব্যানার্জি (Victor Banerjee)। সিনেমাটি মুক্তির পর দর্শকদের মধ্যে ভালো সাড়া ফেলে এবং এই জুটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
এই ছবির পর থেকেই শুরু হয় প্রভাত রায় এবং চিরঞ্জিতের দীর্ঘ কাজের সম্পর্ক। পরে তাঁদের আরেকটি ছবি ‘প্রতীক’ দর্শকদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয়তা পায়। এই চরিত্রটি চিরঞ্জিতের কেরিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে ওঠে। একই ছবির মাধ্যমে অভিনয় জীবনে পা রাখেন রুপা গঙ্গোপাধ্যায় (Rupa Ganguly)। পরিচালক প্রভাত রায়ের হাত ধরেই এই ছবির চরিত্র ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে ওঠে এবং অভিনেতার জনপ্রিয়তাও দ্রুত বাড়তে থাকে।
পরবর্তীকালে বাংলা সিনেমায় আরও অনেক অভিনেতা উঠে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee)। তবে প্রভাত রায়ের পরিচালনায় একাধিক অভিনেতাই জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। চিরঞ্জিতের মতে, তাঁদের জুটির ছবিগুলো সেই সময় বিশেষভাবে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিল। একসঙ্গে কাজ করতে করতে পরিচালক এবং অভিনেতার সম্পর্কও গভীর বন্ধুত্বে পরিণত হয়।
আরও পড়ুনঃ “মমতা ব্যানার্জি মায়ের মতো, অভিষেকের নীতিতেই সব শিখেছি…১১-১২ কিলোমিটার হেঁটে রোদ-বৃষ্টি পেরিয়েও মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি!” তবুও কেন এবার ভোটে প্রার্থী হতে চাইছেন না কৌশানী মুখার্জী? রাজনৈতিক জীবনের উত্থান-পতন নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী, জানালেন ভবিষ্যতের পরিকল্পনা!
ব্যক্তিগত জীবনেও প্রভাত রায় ছিলেন প্রাণবন্ত মানুষ। তিনি যখন গোলপার্ক এলাকায় থাকতে শুরু করেন, তখন প্রায়ই আড্ডা বসত। গল্প, হাসি আর খাওয়া-দাওয়ায় জমে উঠত সেই সময়। বিশেষ করে মাংসের ঝোলের আলু তাঁর খুব প্রিয় ছিল বলে মজা করে জানান চিরঞ্জিত। জীবনের নানা কঠিন সময় পার করেও তিনি আবার কাজে ফিরেছেন। স্ত্রী জয়শ্রীর মৃত্যুর পর অনেকটা ভেঙে পড়লেও পরে কন্যা একতা ভট্টাচার্যের উৎসাহেই আবার ক্যামেরার পিছনে ফিরে আসেন পরিচালক। তাঁর জন্মদিনে পুরনো সেই স্মৃতিগুলোই আবার নতুন করে মনে পড়ছে।






