“আমি আ’ত্মহ*ত্যা করার কথাও ভেবেছিলাম…” বিপুল সাফল্যের পরও কেন এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী? কোন সেই জীবনের দুঃসহ অধ্যায়, যা প্রকাশের ভয়েই ‘বায়োপিক’ করতে দিতে নারাজ অভিনেতা? আড়ালে লুকিয়ে থাকা অজানা তথ্য আনলেন সামনে!

বিনোদন জগতে সাফল্য মানেই ঝলমলে আলো, স্টেজে দাপট, সিনেমার বড় পর্দায় দর্শকের দোয়া ও প্রশংসা। তবে সাধারণ মানুষ খুব কমই জানে, এই উজ্জ্বলতা ও পরিচিতির আড়ালে কতটা কষ্ট, হতাশা এবং মানসিক চাপ লুকিয়ে থাকে। একদিকে সাফল্য, অন্যদিকে একাকীত্ব ও সংগ্রামের দিনগুলো—এই দুই বিপরীত দিক মিলেই তৈরি হয় কোনো তারকার পুরো জীবনগল্প। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মিঠুন চক্রবর্তী সেই অন্ধকার দিকটিই তুলে ধরেন, যা বহু বছর ধরেই সাধারণ চোখে পড়েনি।

মিঠুন চক্রবর্তীর যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলা সিনেমা দিয়ে। ‘মৃগয়া’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ই প্রথম বড় সাফল্য এনে দিয়েছিল তাঁকে সেখান থেকেই তিনি পেয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তখন থেকেই স্পষ্ট হয়েছিল, এই অভিনেতা শুধু একধরনের চরিত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না। বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি শিল্পসম্মত সিনেমাতেও তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। মৃণাল সেনের মতো গুণী পরিচালকের সিনেমায় মিঠুনের উপস্থিতি শুধু চরিত্র নয়, চলচ্চিত্রকে শক্তিশালী করেছে। বাংলার পর মুম্বাইয়ে পাড়ি দেওয়ায় সময়, হিন্দি সিনেমার জগতে নিজের স্থান তৈরি করা ছিল এক নতুন চ্যালেঞ্জ।

চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় ও নৃত্যশিল্পে নিজের নাম গড়ে তুলেছেন মিঠুন। ‘ডিস্কো ড্যান্সার’, ‘অগ্নিপথ’, ‘দ্য ডন’, ‘ওয়ারদাত’ সহ ৩৭০টিরও বেশি সিনেমা তার কর্মজীবনের পরিচায়ক। তার নাচ, অভিনয় এবং কেরিয়ারের বহুমুখিতা দর্শকপ্রিয়। তবে এই উজ্জ্বলতার আড়ালে লুকানো রয়েছে এক কঠিন বাস্তবতা। মিঠুন বলেন, “জনপ্রিয়তা এবং সফলতা হলেও, আমার জীবনে এমন সময় এসেছে যখন আমি ভেবেছিলাম নিজের জীবন শেষ করে দেবো।”

১৯৭০ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে মিঠুনের জীবনে এক ভয়াবহ সংগ্রামের সময় ছিল। কলকাতার ছোট্ট এক অভিনেতা হিসেবে মুম্বাইতে সুযোগ খুঁজতে গিয়ে তাঁকে হতাশা, নিরাশা এবং একাকীত্বের মোকাবিলা করতে হয়েছে। নিজের লক্ষ্য পূরণে অক্ষমতার অনুভূতি এতটাই জোরালো ছিল যে তিনি একসময় আত্মহত্যার কথা ভাবতে শুরু করেছিলেন। সাক্ষাৎকারে মিঠুন জানিয়েছেন, “কিছু কারণে কলকাতায় ফিরে আসাও সম্ভব হয়নি। সেই সময় মনে হতো, হয়তো সব শেষ।” তবে নিজের অদম্য মনোবল এবং যোদ্ধার মানসিকতা তাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। তিনি এতটাই ব্যক্তিগতভাবে এই অভিজ্ঞতা লুকিয়ে রাখতে চান যে কখনো তার জীবন নিয়ে বায়োপিক করা হলে তিনি কখনো অনুমতি দেবেন না বলেই জানিয়েছেন। কারণ এতটা কষ্ট যা তিনি কেউকে দেখাতে চান না।

আরও পড়ুনঃ “মাং’সের আলু না পেলে মাথা খারাপ করতেন…আজ যে জায়গায় দাঁড়িয়েছি, ওনার অবদান সবচেয়ে বেশি!” বর্ষীয়ান পরিচালক প্রভাত রায়ের জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানিয়ে, অভিনয় জীবনের শুরুর স্মৃতিচারণায় চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী!

মিঠুন চক্রবর্তীর জীবন আমাদের শেখায়, মানুষের জীবনের যাত্রা শুধুই সাফল্য ও প্রশংসা নয়। তার অন্ধকার দিনগুলো, সংগ্রাম, হতাশা এবং নিজের লক্ষ্য পূরণের জন্য লড়াই—সবকিছু মিলেই তাকে আজকের মিঠুন চক্রবর্তী করেছে। তিনি শুধু সিনেমার নয়, জীবনেরও এক অসাধারণ নায়ক। তার গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দর্শককে যা দেখা যায় তা সবসময় পুরো সত্য নয়, অনেক সময় তার পেছনে লুকিয়ে থাকে এক যোদ্ধার গল্প, যা শুধু দৃঢ় মনোবল ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে জয় করা সম্ভব।

You cannot copy content of this page