“জীবন দ্বিতীয় সুযোগ সবাইকে দেয় না…কারও সঙ্গে না হোক, নিজের সঙ্গে কথা বলুন”, “হুট করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজেকে দশবার প্রশ্ন করুন” দাম্পত্য কলহের জেরে চরম ভুল, মৃ’ত্যুর মুখ থেকে ফিরে জীবনেরব মানে খুঁজে পেলেন দেবলীনা নন্দী! ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী জানালেন গায়িকা?

জনপ্রিয় গায়িকা ‘দেবলীনা নন্দী’র (Debolina Nandy) ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বছরের শুরু থেকেই আলোচনার শেষ নেই। তাঁর স্বামী ‘প্রবাহ নন্দী’র (Prabah Nandy) সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন, আ’ত্মহ*ত্যার চেষ্টা বা বাড়ি ছাড়ার ঘটনা থেকে শুরু করে আইনি জটিলতা মিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে উঠেছিল। একসময় মানসিক চাপে এমন অবস্থায় পৌঁছে যান দেবলীনা যে নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলেছিলেন। একটি অনুষ্ঠানের পর বাড়ি ফেরার পথে তিনি অত্যাধিক পরিমাণে ঘুমের ওষু’ধ খেয়ে ফেলেছিলেন।

পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। সেই ঘটনার পর থেকেই তাঁদের সম্পর্কের দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং বিচ্ছেদের প্রক্রিয়াও শুরু হয়। এই মুহূর্তে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন দেবলীনা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দেবলীনা জানিয়েছেন, আইনিভাবে যেটা প্রয়োজন সেটুকুই তিনি করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁকে একসময় বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, যদিও তখন তিনি বিষয়টি তখন প্রকাশ্যে আনেননি। হাসপাতালে ভর্তি থাকার খবরও অনেকেই দেরিতে জানতে পারেন।

এই পুরো সময়ে স্বামীর কাছ থেকে কোনও খোঁজখবর না পাওয়াটা তাঁকে আরও বেশি কষ্ট দিয়েছিল। এখনও পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ নেই বলেই জানান তিনি। সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি স্পষ্ট করেন, কোনও সম্পর্ক ঠিক রাখতে হলে দু’পক্ষেরই চেষ্টা দরকার। তবে, সমস্যার জায়গাটা শুধু তাঁদের দু’জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁর কথায়, পরিবারের সম্মানও এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে তাঁর মাকে অপমান করার ঘটনাগুলো তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করেছে।

এই কঠিন অভিজ্ঞতার পর জীবনকে নতুন করে দেখার চেষ্টা করছেন দেবলীনা। তিনি মনে করেন, মানুষের জীবনে এমন সময় আসে যখন মনের কথা বলার জন্য কাউকে পাওয়া খুব জরুরি হয়ে ওঠে। অনেক সময় মানুষ নিজের কষ্ট চেপে রাখতে রাখতে এমন জায়গায় পৌঁছে যায়, যেখানে পরিস্থিতি অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়। সেই কারণেই এখন তিনি বিশ্বাস করেন, মনখারাপ, রাগ বা হতাশা, সব কিছুই অন্তত একজন বিশ্বাসযোগ্য মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া দরকার। তাতে সমস্যার সমাধান না হলেও, মনটা অনেকটা হালকা হয়ে যায়।

দেবলীনাকে আরও জানতে চাওয়া হয়, জীবন রাখবেন না বলে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, সেখান থেকে ফিরে এসে জীবনের আসল মানে কি খুঁজে পেলেন তিনি? কি কি নতুন উপলব্ধি হলো, আর জীবনেই বা সেগুলো কিভাবে কাজে লাগাচ্ছেন? দেবলীনার কথায়, “একজন কথা বলার মানুষের খুব প্রয়োজন, না থাকলে খুঁজে নিতে হবে। সমস্ত কিছু কারোর সঙ্গে অন্তত ভাগ করে নিতে হবে। নিজের মধ্যে ছোট্ট কিছুকেও চেপে রাখতে রাখতে, সেটা বড় আকার নিয়ে ফেলে। জীবন দ্বিতীয় সুযোগ সবাইকে দেয় না, যারা পায় তারা সত্যিই ভাগ্যবান।

আরও পড়ুনঃ “ইন্ডাস্ট্রির সাত হাজার টেকনিশিয়ানের ‘স্বাস্থ্য সাথী’র সুবিধা নিশ্চিত করতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ” দেবের পোস্টে প্রশংসার বদলে বাড়ল অসন্তোষ! ‘আমরা কি ম’রে গেলেই এই সুবিধা পাব স্যার?’ ‘সাধারণ মানুষরা কি এক্ষেত্রেও বঞ্চিত?’ প্রশ্ন তুলছেন আবেদনকারী নেটিজেনরা!

আমি এই সুযোগটা পেয়েছি আর সেটা কি কোন ভাবেই নষ্ট হতে দেব না। তাই যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, কাছের মানুষ হোক বা পরিবার একটু আলোচনা করে নেওয়াই ভালো। আর কিছু না হোক নিজেকে দশবার প্রশ্ন করলেও, খারাপ সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে দূরে থাকা যায়। এই মুহূর্তে আমার পরিবার হোক বা বন্ধু-বান্ধব সবাই চায়, আমি যাতে ভালো থাকি। দিনের শেষে আমিও মানুষ, রোবট না। দীর্ঘদিনের অভ্যাস বদলাতে সময় লাগবে, কিন্তু একদিন ঠিক বদলে ফেলবো।” সময়ই বলবে সামনে কী অপেক্ষা করছে, তবে আপাতত দেবলীনার নজর নিজের সুস্থতা আর নতুন করে বাঁচার দিকে।

You cannot copy content of this page