ঝলমলে আলো, ক্যামেরা আর করতালির মাঝেই শুরু হয়েছিল পথচলা। কিন্তু সেই আলোয়ের আড়ালেই লুকিয়ে ছিল একের পর এক অন্ধকার অধ্যায়। বাংলা ছবির পরিচিত মুখ চুমকি চৌধুরীর (Chumki Choudhury)জীবন যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের গভীর ক্ষত বয়ে নিয়ে আজও তিনি এগিয়ে চলেছেন, নীরবে, দৃঢ়ভাবে অভিনেত্রী।
নব্বইয়ের দশকে পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী-র হাত ধরেই অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন চুমকি চৌধুরী। শুরুতেই একাধিক ছবিতে কাজ করে নজর কেড়েছিলেন তিনি। এই সময়েই প্রযোজক দেবেশ ঘোষের ছেলে লোকেশ ঘোষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পারিবারিক সম্মতিতেই বিয়ে হলেও, সেই সম্পর্ক বেশিদিন টেকেনি। দাম্পত্য কলহের জেরে বিচ্ছেদ ঘটে, আর ধীরে ধীরে বড়পর্দা থেকেও সরে যেতে থাকেন চুমকি।
প্রথম জীবনের ভাঙনের পর নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেন তিনি। যাত্রা, স্টেজ শো এবং অন্যান্য মাধ্যমে কাজ শুরু করেন। ২০০৭ সালে বাবার মৃত্যু তার জীবনে বড় ধাক্কা হয়ে আসে। সেই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ান চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক সজল ভট্টাচার্য। দীর্ঘদিনের পরিচয় থেকে সম্পর্ক গভীর হয় এবং পরবর্তীতে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
দ্বিতীয় দাম্পত্যে স্থিতি পেলেও ভাগ্য যেন বারবার তাকে পরীক্ষা নিয়েছে। ২০২১ সালে হৃদরোগে আকস্মিক মৃত্যু হয় সজল ভট্টাচার্যের। এই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ২০২২ সালে মাকেও হারান তিনি। এর কিছুদিন পরেই ভাইয়ের অকাল প্রয়াণ—এক বছরের মধ্যেই জীবনের সব কাছের মানুষদের হারিয়ে একেবারে একা হয়ে পড়েন চুমকি চৌধুরী।
আরও পড়ুনঃ অপেক্ষার অবসান! জিতের নতুন ছবি ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’-এর টিজারে দারুন চমক, প্রকাশ পেল মুক্তির দিন! কবে পর্দায় ঝড় তুলতে আসছেন টলিউডের ‘বস’?
তবুও থেমে থাকেননি তিনি। ব্যক্তিগত শোককে সঙ্গী করেই আজও অভিনয় জগতে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন। ছোটপর্দায় সুযোগ পেলেই কাজ করছেন, কারণ অভিনয়ই তার কাছে বেঁচে থাকার শক্তি। জীবনের এত প্রতিকূলতার মধ্যেও কোনো অভিযোগ নয়—বরং কাজের মধ্যেই খুঁজে নিচ্ছেন নতুন করে বাঁচার কারণ।






