মাকে হারানোর যন্ত্রণা আজও তাজা! দুঃসহ স্মৃতি বুকে নিয়েই, ৫ বছর পর অদিতি সিংয়ের মৃ’ত্যুবার্ষিকীতে ফের ব্যতিক্রমী উদ্যোগে নজির গড়লেন অরিজিৎ সিং!

সালটা ২০২১, কোভিড পরিস্থিতি এখনও অনেকের মনেই আতঙ্কের স্মৃতি হয়ে রয়েছে। সেই কঠিন সময়েই কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রয়াত হন অরিজিৎ সিংহের মা অদিতি সিংহ। মায়ের চিকিৎসার সময় রক্তের প্রয়োজন হওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় সাহায্যের আবেদনও করা হয়েছিল। বহু মানুষ সেই ডাকে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন। শেষ পর্যন্ত রক্তের ব্যবস্থা হলেও বাঁচানো যায়নি তাঁকে। মায়ের চলে যাওয়ার সেই কষ্ট আজও ভোলেননি জনপ্রিয় গায়ক। তবে পাঁচ বছর পর সেই ব্যক্তিগত শোককে এবার সমাজের উপকারে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিলেন তিনি। মৃত্যুবার্ষিকীতে এক বিশেষ সামাজিক কর্মসূচির আয়োজন করল তাঁর পরিবার।

মায়ের স্মরণে কোনও জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান বা বিশেষ ধর্মীয় আচার নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পথই বেছে নিলেন অরিজিৎ। জিয়াগঞ্জে তাঁর পরিবারের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় একটি রক্তদান শিবিরের। স্থানীয় মানুষজনও এই উদ্যোগে অংশ নেন। গ্রীষ্মকালে সাধারণত বিভিন্ন ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তের ঘাটতি দেখা যায়। ঠিক সেই সময় এমন উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে। স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, এই রক্তদান শিবিরের মাধ্যমে বহু রোগীর উপকার হবে। অরিজিতের পরিবারও এই আয়োজনকে একেবারে সাধারণভাবেই সম্পন্ন করেছে। কোনও অতিরিক্ত প্রচার বা আড়ম্বরের পথ নেয়নি তাঁরা।

অরিজিৎ সিংহ বরাবরই প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেন। বলিউডের প্রথম সারির গায়ক হয়েও ব্যক্তিগত জীবনকে সবসময় সাধারণ রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি। জিয়াগঞ্জে তাঁর স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজ করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এবারের রক্তদান শিবিরের পরিকল্পনাও করেছিলেন অরিজিৎ নিজেই। তাঁর বিশ্বাস, মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় কাজ। সেই কারণেই বিশেষ এই দিনটিকে সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে স্মরণ করার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। এই উদ্যোগ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে।

মায়ের অসুস্থতার সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছিলেন অরিজিৎ, যা সেই সময় অনেকের মন ছুঁয়ে গিয়েছিল। তিনি লিখেছিলেন, “আমার বিনীত অনুরোধ, দয়া করে আমার নাম দেখে অতিরিক্ত কিছু করার চেষ্টা করবেন না। আমরা প্রত্যেককে সমানভাবে সম্মান করতে না পারলে, এই বিপর্যয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারব না। সব মানুষই সমান গুরুত্বপূর্ণ।” সেই বক্তব্যের মধ্যেই ধরা পড়েছিল তাঁর সহজ ও মানবিক মানসিকতা। এত বছর পরেও সেই জীবনদর্শন থেকে সরে আসেননি গায়ক। মায়ের স্মৃতিতে আয়োজিত এই রক্তদান শিবিরেও একই ভাবনা স্পষ্ট হয়েছে। মানুষের পাশে থাকা এবং সাহায্যের বার্তাকেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ “আমি তিনটে সরকারের আমলেই গান করেছি, কখনোই আমরা-ওরা…” বিজেপি আমলে শিল্পীদের কাজের পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন ইমন চক্রবর্তী! “শিল্পী মানে সম্মানশ্রী পেতে পদলেহন করে পাঁচালি গাওয়া নয়!” “এমন পাঁচালি গাইলেন ঘট উল্টে গেল” পাঁচালিপিসি উল্টোসুরে পাঁচালি গাইছে, নেটপাড়ায় তীব্র কটাক্ষ!

বর্তমানে তারকাদের নানা অনুষ্ঠান, পার্টি বা ব্যক্তিগত উদযাপন প্রায়ই চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। তবে সেই ভিড়ের মাঝেও অরিজিৎ সিংহের এই নীরব উদ্যোগ আলাদা করে নজর কেড়েছে। মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে রক্তদানের মতো একটি প্রয়োজনীয় কর্মসূচি আয়োজন করায় প্রশংসা করছেন অনেকেই। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁর এই উদ্যোগ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। নেটিজেনদের একাংশের কথায়, “অরিজিৎ সিং একজনই হয়, যিনি তারকা হয়েও সাধারণ মানুষের দুঃখটা বোঝেন।” ব্যক্তিগত শোককে সমাজের কাজে লাগানোর এই ভাবনাকেই অনেকেই বড় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। ফলে আবারও মানুষের মন জয় করলেন জনপ্রিয় এই গায়ক।

You cannot copy content of this page