“সন্তানের জন্য স্বামী বদল করিনি, শুভাশিস আমার মাতৃত্বের সত্ত্বাকে সম্মান দিয়েছে!” “খোঁচাতে আসবেন না, অন্যের স্বপ্ন পূরণ দেখলেই কষ্ট হয় কেন?” তড়িঘড়ি বিয়ে, অন্তঃসত্ত্বা জল্পনা আর কটাক্ষের জবাবে মুখ খুললেন সুস্মিতা রায়! সমালোচকদের উদ্দেশে কী বার্তা তাঁর?

গত মঙ্গলবার হঠাৎ করে সামাজিক মাধ্যমে ভেসে ওঠা কয়েকটি ছবি যেন এক লহমায় থামিয়ে দিল সব জল্পনা। অভিনেত্রী ও উদ্যোক্তা সুস্মিতা রায় (Susmita Roy) নিজের জীবনের বড় সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনলেন খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই। লাল বেনারসিতে তাঁর বিয়ের সাজ, পাশে নতুন সঙ্গীর উপস্থিতি মিলিয়ে মুহূর্তটা ছিল ব্যক্তিগত, তবুও সবার সামনে খোলা। আগের দিন তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট নিয়ে নানান আলোচনা চললেও, পরদিন সকালেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে তাঁর জীবনে নতুন অধ্যায়ের শুরু হয়েছে।

শুধুই সাজানো ছবি নয়, এর পরপরই সামনে আসে আরও এক ঝলক বাস্তবতা। একেবারে ঘরোয়া পরিবেশে বিয়ের প্রস্তুতির ভিডিও। যেখানে নতুন ফ্ল্যাটে বসে চলছে শেষ মুহূর্তের আয়োজন, কার্ডে আলতা-সিঁদুর ছোঁয়ানোর মতো ছোট ছোট রীতি আর চারপাশে পরিচিত মহিলাদের উলুধ্বনি। সেই পরিবেশে সুস্মিতাকে চুপচাপ সবকিছু পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়। তবে, এই বিয়ের সবচেয়ে আলোচিত দিক নিঃসন্দেহে তার সময়কাল। মাত্র তিন দিনের পরিকল্পনায় সম্পন্ন হয়েছে পুরো অনুষ্ঠান।

সাধারণত যেখানে মাসের পর মাস ধরে বিয়ের প্রস্তুতি চলে, সেখানে এমন দ্রুত সিদ্ধান্ত অনেককেই অবাক করেছে। কিন্তু জানা গিয়েছে, দুই পরিবার একসঙ্গে দায়িত্ব নিয়ে সব রীতি মেনেই এই বিয়েটা সম্পন্ন করেছে। তাই তাড়াহুড়ো থাকলেও, সেটাকে কোনওভাবেই অসম্পূর্ণ বলা যাচ্ছে না। এদিকে, বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। কেউ বলছেন মাতৃত্বের ইচ্ছা থেকেই এই সিদ্ধান্ত, আবার কেউ শারীরিক পরিবর্তন দেখে ধরে নিচ্ছেন তিনি হয়তো ইতিমধ্যেই অন্তঃসত্ত্বা।

এমনকি তাঁর আগের সম্পর্ক ভাঙার কারণ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে, এইসব অনুমানের মধ্যে চুপ করে না থেকে, সুস্মিতা নিজেই সামনে এসে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন একটি ভিডিওর মাধ্যমে। সেখানে তিনি বলেন, “আমার নতুন জীবনের জন্য সবাই আশীর্বাদ করবেন। আমি দেখছি বেশিরভাগ মানুষই আশীর্বাদ করছেন, কিন্তু কিছু মানুষের একটু অসুবিধা হচ্ছে। সংখ্যায় মহিলারাই বেশি সেখানে, যাদের এটা মানতে কষ্ট হচ্ছে। আমি বুঝতে পারছি তাদের সমস্যাটা কোথায়।

হয়তো জীবনে লড়াই করতে করতে তারা হেরে গেছেন বা কোনদিনও সেই সাহস করে উঠতে পারেননি নিজের মতো করে বাঁচার বা ইচ্ছে গুলোকে পূর্ণতা দেওয়ার। আর একটা বিষয় আমার চোখে পড়েছে যে অনেকেই বলছেন আমি নাকি বাচ্চার জন্য স্বামী বদল করেছি। আমার তো মনে পড়ছে না, এমন কোনও লেখা বা পোস্টে এই কথা বলেছি বলে। আমার কারোর প্রতি কোনও আক্ষেপ নেই। একসময় তারাও আমার পরিবার ছিল, সেটা যদি তারা ভুলে যায় এতে আমার কোনও দায়বদ্ধতা নেই। যেটা করেছি আমরা আমাদের পরিশ্রমে, আপনারাও চেষ্টা করুন স্বপ্নকে পূর্ণ করার।

আরও পড়ুনঃ “আমি তোমার মা ও বাবা” ছেলের প্রথম জন্মদিনে মানসীর পোস্ট ঘিরে ফের চর্চায় বিচ্ছেদ জল্পনা? বিশেষ দিনের শুভেচ্ছাতেই কি সম্পর্ক ভাঙার ইঙ্গিত দিলেন অভিনেত্রী?

শুধু শুধু কয়েকটা পোস্ট বা কিছু মানুষের কথায় বিচলিত হয়ে নিজেদেরকে উত্তেজিত করবেন না। বিশ্বাস করুন, কিন্তু অন্ধ ভক্তের মতো নয়! আমি আমাকেও বিশ্বাস করতে বলছি না, বা অন্যের লেখাকেও করতে বলছি না। অনেকেই এই বিয়েটা মানতে পারছেন না তার বড় কারণ, আপনারা যখন দেখেন কোনও মেয়ে নিজের চেষ্টায় স্বপ্ন পূরণ করছে, তখন নিজের ব্যর্থতার ক্ষত থেকে এইসব করেন। অন্যকে খোঁচাতে না এসে নিজের দিকে নজর দিন। আমরাও রক্ত-মাংসের মানুষ, আমাদেরও খারাপ লাগে।” আত্মপক্ষ সমর্থনে তিনি যাই বলুন না কেন, আলোচনা যে এখনই থামছে না সেটা বলাই যায়।

You cannot copy content of this page