সামাজিক মাধ্যমে এক রাতের মধ্যেই ফের চর্চার কেন্দ্রে চলে এসেছে চক্রবর্তী পরিবার। অভিনেত্রী ‘সুস্মিতা রায়ের’ (Susmita Roy) ফেসবুক লাইভে করা একাধিক বি’স্ফোরক অভিযোগ ঘিরে নেটপাড়ায় তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। ব্যক্তিগত জীবন, সন্তানের মৃ’ত্যু, প্রাক্তন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ি নিয়েই সব চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন তিনি। সেই বক্তব্য শোনার পর অনেকেই প্রথমে ধরে নিয়েছিলেন, এত বড় বড় অভিযোগ নিশ্চয়ই কোনও ভিত্তি ছাড়া করা হয়নি। বিশেষ করে লাইভের সময় তাঁর আবেগ, অভিযোগের ধারাবাহিকতা এবং নির্দিষ্ট কিছু ঘটনার উল্লেখ, মিলিয়ে বিষয়টি অনেকের কাছেই বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে অনেকটা সময় চুপ থাকার পর অবশেষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে সামনে আসেন ‘সায়ক চক্রবর্তী’ (Sayak Chakraborty)। এদিন সকালেই তিনি নিজের সামাজিক মাধ্যমের পাতায় একটি পোস্ট করেন, যেখানে পুরো ঘটনাটিকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। তাঁর দাবি, আগের রাতেই একটি ফোন কলের মাধ্যমে তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল এবং সেই কথোপকথনটি পরিকল্পিতভাবে রেকর্ড করা হয়। তাঁর কথায়, ফোনালাপে যে বিষয়গুলো শোনা যাচ্ছে, তা আসলে আগে থেকেই ঠিক করে রাখা ছিল।
যাতে পরবর্তীতে সেটিকে অন্যভাবে ব্যবহার করা যায়। সায়কের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সময় তিনি পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছিলেন। তিনি নাকি বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, সুস্মিতার দাম্পত্য সমস্যা থাকলে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে নতুনভাবে জীবন শুরু করাই ভালো। কিন্তু তাঁর এই পরামর্শকেই নাকি পরে ঘুরিয়ে অন্য অর্থে তুলে ধরা হয়। সেই মুহূর্তে তিনি অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিলেন, কারণ কথোপকথন কোন দিকে যাচ্ছে তা বুঝে ওঠার আগেই তা রেকর্ড হয়ে যাচ্ছিল।
ফলে পাল্টা কিছু বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না বলেই দাবি তাঁর। এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। সায়ক আরও ইঙ্গিত দেন, এই পুরো ঘটনাটার পেছনে পূর্বপরিকল্পনা থাকতে পারে। তাঁর মতে, একটি আলাদা ডিভাইস থেকে কল রেকর্ড করা হয়েছিল, যা সাধারণ পরিস্থিতিতে হয় না। এতে তাঁর সন্দেহ আরও জোরালো হয় যে বিষয়টি স্বাভাবিক ছিল না। তিনি নিজেকে সরল এবং বিশ্বাসী বলেই উল্লেখ করেন। আর বলেন, পরিস্থিতি বুঝতে না পেরে তিনি সেই কথোপকথনে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন তিনি, রাতে তাঁকে বাড়িতে যাওয়ার জন্য বলা হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি যাননি। তাঁর দাবি, দাদা সব্যসাচী তাঁকে যেতে বারণ করেছিলেন। সেই কারণেই তিনি দূরে থাকতে চেয়েছিলেন এই ঝামেলা থেকে। তাঁর মতে, যদি তিনি কোনও ভুল করে থাকতেন, তাহলে নিশ্চয়ই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতেন। কিন্তু তিনি যে যাননি, সেটাই নাকি কিছু মানুষের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং সেখান থেকেই এই নতুন বিতর্কের সূত্রপাত। সায়কের কথায় আরও উঠে আসে, তিনি বারবার এই ধরনের অশান্তি বন্ধ করার কথা বলেছেন।
আরও পড়ুনঃ জমে উঠেছে টিআরপি যু’দ্ধ! ফের শীর্ষে ‘পরিণীতা’, ‘বিদ্যা ব্যানার্জি’র দুর্দান্ত কামব্যাক! আবার ফর্মে ‘তারে ধরি ধরি’, প্রথম সপ্তাহেই বাজিমাত ‘গঙ্গা’র! ‘জোয়ার ভাঁটা’র জায়গা কোথায়? তালিকায় নতুন সমীকরণ তৈরি করল কারা?
কিন্তু তাঁর সেই চেষ্টাকেই নাকি উল্টোভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, নিজেদের দিকটা পরিষ্কার করার বদলে অন্যদের দোষারোপ করে নিজের অবস্থানকে ঠিক প্রমাণ করার চেষ্টা চলছে। এর ফলে আবারও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা তিনি এড়াতে চেয়েছিলেন। একদিকে সুস্মিতার সরাসরি অভিযোগ, অন্যদিকে সায়কের পাল্টা ব্যাখ্যা, দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে এখন বিভক্ত নেটদুনিয়া। কে ঠিক, কে ভুল? তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও, ব্যক্তিগত সম্পর্কের এই টানাপোড়েন যে প্রকাশ্যে এসে আরও জটিল হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট।






