“আগের মতো নির্মল হাসি এখন নেই…প্রাপ্তিতেই তৃপ্তি খুঁজুন, আফসোস নয়!” জীবন দর্শন ব্যাখ্যা করলেন শুভাশিস মুখোপাধ্যায়! বাংলা কমেডির সংকট, নতুন প্রজন্ম ভুলে যাচ্ছে হাসতে? কী বললেন অভিনেতা?

অপূর্ণতা নয়, বরং প্রাপ্তির মধ্যেই জীবনের আসল আনন্দ খুঁজে পাওয়া উচিত, এমনই বার্তা দিলেন অভিনেতা শুভাশিস মুখোপাধ্যায়। তিনি মনে করেন, জীবনে কী পেলাম আর কী পেলাম না, এই হিসেব কষে চললে মন কখনও শান্ত থাকে না। বরং যা কিছু পাওয়া গেছে, সেটাকেই মূল্য দিলে তৃপ্তি আসে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, তাঁর জীবনে অপূর্ণতার অনুভূতি নেই বললেই চলে। যা পেয়েছেন, সেটাই তাঁর কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। এই সহজ ভাবনাতেই তিনি জীবনের দিকে তাকাতে পছন্দ করেন। তাঁর মতে, এই দৃষ্টিভঙ্গি মানুষকে আরও শান্ত এবং ইতিবাচক করে তোলে।

বর্তমান সময়ে মানুষ কি সত্যিই হাসতে ভুলে যাচ্ছে, এই প্রশ্ন উঠতেই ভিন্ন মত প্রকাশ করেন তিনি। শুভাশিসের মতে, হাসি কখনও হারিয়ে যায় না। মানুষ এখনও হাসে, আনন্দ পায় এবং হাসির খোরাক খুঁজে নেয়। তবে তিনি এটাও মানেন যে সময়ের সঙ্গে হাসির ধরন বদলে গেছে। আগে যেভাবে সরল ও নির্ভেজাল হাসি পাওয়া যেত, এখন সেটা কিছুটা কম মনে হয়। যদিও আজকের দিনে বিভিন্ন মাধ্যমে সহজেই মানুষ বিনোদনের সুযোগ পাচ্ছে, তবুও সেই পুরনো দিনের স্বাভাবিক হাসির অনুভূতি অনেকের কাছেই যেন কমে এসেছে। এই পরিবর্তনকে তিনি সময়ের স্বাভাবিক রূপ বলেই দেখেন।

বাংলা বিনোদন জগতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভালো কমেডির অভাব এখন বেশ চোখে পড়ে। তাঁর মতে, শক্তিশালী চিত্রনাট্য ছাড়া ভালো কমেডি তৈরি সম্ভব নয়। একটি সফল কমেডি তৈরি করতে গেলে পরিচালককে হাসির সূক্ষ্ম দিকগুলো বুঝতে হবে। শুধু সংলাপ বা দৃশ্য নয়, পুরো উপস্থাপনাই গুরুত্বপূর্ণ। যিনি পরিচালনা করবেন বা লিখবেন, তাঁর মধ্যে আলাদা ধরনের রসবোধ থাকা দরকার। কারণ এই অনুভূতি সবার মধ্যে সমানভাবে থাকে না। তাই ভালো কমেডি তৈরি করতে গেলে দক্ষতা এবং বোঝাপড়া দুইই জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

বর্তমান প্রজন্মের কাজের ধরণ নিয়েও তিনি নিজের মতামত জানিয়েছেন। এখন অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কারও ফলোয়ার্স সংখ্যা বেশি হলে তিনি সহজেই কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। এই প্রবণতা নিয়ে তিনি সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, জনপ্রিয়তা থাকা ভালো, কিন্তু সেটা স্থায়ী নয়। শুধুমাত্র ফলোয়ার্সের উপর নির্ভর করে দীর্ঘদিন টিকে থাকা কঠিন। কারণ সময়ের সঙ্গে মানুষের আগ্রহ বদলায়, আর তখন সেই জনপ্রিয়তা কমেও যেতে পারে। তাই এই বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ নায়িকা হওয়ার সুযোগ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, বেছে নিয়েছিলেন সঙ্গীতকে! একসময় ঘরে ঘরে তাঁর গান, জনপ্রিয়তার শীর্ষ থেকে আজ প্রায় অচেনা! বাবার মৃ’ত্যুর পর কোথায় হারিয়ে গেলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কন্যা রানু মুখোপাধ্যায়? এখন কেমন আছেন তিনি?

শেষে তিনি বলেন, কাজের মানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি কাজ ভালো হয়, তাহলে মানুষ তা মনে রাখবে এবং গ্রহণ করবে। কিন্তু যদি কাজের গুণগত মান না থাকে, তাহলে জনপ্রিয়তা খুব বেশি দিন টিকবে না। তাই শুধুমাত্র সংখ্যার পিছনে না ছুটে, নিজের কাজকে আরও ভালো করার দিকে মন দেওয়া উচিত। তাঁর এই বার্তা নতুন প্রজন্মের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। জীবনে স্থায়ী জায়গা করে নিতে হলে প্রতিভা ও পরিশ্রমই আসল চাবিকাঠি, এমনটাই মনে করেন শুভাশিস মুখোপাধ্যায়।

You cannot copy content of this page