“ভীষণভাবে ঘ্যানঘ্যানে আর প্যানপ্যানে বাংলা গান, শুনলেই বিরক্ত লাগে” বিতর্কিত মন্তব্য, বাংলা ব্যান্ড ‘ভূমি’র আইকন সৌমিত্র রায়ের স্বীকারোক্তি ঘিরে চর্চা! বাংলা গান কেন তাঁর অপছন্দের, কী জানালেন শিল্পী?

সঙ্গীতপ্রিয় বাঙালির ‘বারান্দায় রোদ্দুর’, প্রকৃত অর্থে তাঁরাই এনেছিলেন! ঠিক ধরেছেন, কথা হচ্ছে বাংলা ব্যান্ড ‘ভূমি’কে (Bhoomi) নিয়ে। একসময় শহুরে বাংলা গানের ভিড়ে তাঁরা একেবারে আলাদা সুর নিয়ে হাজির হয়েছিল, যেখানে আধুনিকতার সঙ্গে মিশে ছিল মাটির গন্ধ। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে বাংলা গানে যে নতুন হাওয়া লাগে, তার অন্যতম মুখ হয়ে ওঠে এই দল। মঞ্চে তাদের উপস্থিতি যেমন দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভরিয়ে দিত, তেমনই তাদের গান ধীরে ধীরে এক প্রজন্মের আবেগে জায়গা করে নেয়। তবে এই যাত্রা শুধুই সাফল্যের ছিল না, এর মধ্যেই লুকিয়ে ছিল ভাঙনের অভিজ্ঞতাও।

এই ব্যান্ডের জন্ম কিন্তু খুব পরিকল্পিতভাবে হয়নি। কয়েকজন তরুণ, যাদের মূল আগ্রহ ছিল পাশ্চাত্য সংগীতে, তারাই একসময় হঠাৎ করে লোকগানের দিকে ঝুঁকে পড়ে। গিটার, ড্রামসের সঙ্গে ভাটিয়ালি বা বাউল গানের সুর মিশিয়ে এক নতুন অভিযান শুরু হয় আর সেটাই পরে এক নতুন ধারার জন্ম দেয়। ১৯৯৯ সালে জ্ঞান মঞ্চে প্রথম উপস্থাপনার পর থেকেই তাঁরা দর্শকদের নজরে আসে। সেই শুরু, তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এই যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ, নিঃসন্দেহে শিল্পী সৌমিত্র রায় (Soumitra Ray)

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের সংগীতজীবনের শুরু নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। আশ্চর্যের বিষয়, ছোটবেলায় বাংলা গান তাঁর একেবারেই পছন্দ ছিল না! তাঁর কথায়, “আমি বাংলা গান একদম শুনতাম না, খুব বিরক্ত লাগতো। ছোটবেলায় আমার ভীষণভাবে ঘ্যানঘ্যানে আর প্যানপ্যানে লাগতো এইসব পুজোর গান টান, ওগো ময়না গো…এইসব সহ্য করতে পারতাম না! একদম সত্যি কথা যেটা অন ক্যামেরায় বলছি, কিন্তু যখন অমর পাল বাবুর কোনও গান শুনতাম বা নির্মল বাবুর কোনও গান শুনতাম, আসলে আমার বাবার একটা টেপ রেকর্ডার ছিল যেখানে উনি গান শুনতেন।

আমিও মন দিয়ে শুনতাম পাশের ঘরে বসে বা হয়তো কোন পার্টি হচ্ছে, যেখানে সব ওয়েস্টার্ন গান হচ্ছে… তখন গিটার নিয়ে হয়তো আমি একটা ভাটিয়ালি গান গাইলাম। সেটা শুনে বন্ধুবান্ধব থেকে চেনা পরিচিত সবাই আরেকটা গাওয়ার অনুরোধ করতেন। তখন ভেবে আশ্চর্য হলাম যে গিটার নিয়েও এমন গান করা যায়!” এই অভিজ্ঞতাই ধীরে ধীরে তাঁর সংগীতচিন্তাকে বদলে দেয়। পাশ্চাত্য সুরের মধ্যেও যে বাংলার মাটির গন্ধ মেশানো যায়, তা বুঝতে শুরু করেন তিনি। সেই সময়েই তাঁর পরিচয় হয় সুরজিতের সঙ্গে, যা তাঁর জীবনের এক বড় মোড় হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুনঃ “দেব নিজেই তো ইন্ডাস্ট্রি, ওকে একঘরে করার ক্ষমতা কারোর নেই” দাবি ‘ছোট বউ’ দেবিকা মুখোপাধ্যায়ের! টলিউডে ব্যান কালচার কি তবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা? শিল্পীদের মুখ বন্ধ করতেই কি চাপ, কি জানালেন অভিনেত্রী?

তিনি নিজেই বলেন, “এরপর আলাপ হয় সুরজিতের সঙ্গে, ওকে আমার প্রণাম কারণ ও না থাকলে আমি হয়তো বাংলা গানেই আসতাম না। ওকে একা গিটার হাতে গান গাইতে দেখে আমি এতটাই অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল অজান্তেই। তারপর আমরা একসঙ্গে গান তৈরি করতে লাগলাম, তিনটে গান রেকর্ড করলাম আর বন্ধুদের শোনাতেই সবাই পাগলের মতো করতে লাগলো। এভাবেই লোকগানের ধারা আসলো বাংলায়।” ছোট পরিসরের চর্চাই বড় আকার নিতে শুরু করে। বন্ধুবান্ধবদের প্রশংসা, শ্রোতাদের আগ্রহ এবং নতুন কিছু করার তাগিদ মিলিয়ে ‘ভূমি’ হয়ে ওঠে এক ভিন্ন স্বাদের সঙ্গীতদল।

You cannot copy content of this page