টলিউডে বহুল আলোচিত বায়োপিক ‘গুনগুন করে মহুয়া’র (GunGun Kore Mahua) শুটিং শুরুর দিনেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই চর্চা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। প্রযোজক ‘রানা সরকার’ (Rana Sarkar) দীর্ঘদিন ধরেই একেবারে মাঠে নেমে এই ছবির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আর অন্যদিকে প্রয়াত অভিনেত্রী ‘মহুয়া রায়চৌধুরী’র জীবনকে পর্দায় তুলে ধরার এই প্রচেষ্টা নিয়ে আগ্রহও কম ছিল না। কিন্তু শুটিংয়ের প্রথম দিনেই যে ধরনের ঘটনা সামনে এল, তা নিছক ‘অঘটন’ বলেই মনে করছেন অনেকেই!
ঘটনার সূত্রপাত একদল টেকনিশিয়ানের হঠাৎ সেটে এসে উপস্থিত হওয়া ঘিরে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা এই ছবির সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও এক ব্যক্তির কাছ থেকে ‘বকেয়া টাকা’ দাবি করতে এসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। কথাবার্তা তর্কে গড়ায়, এবং সেখান থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে দাবি প্রযোজনা পক্ষের। এমনকি ইউনিটের এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে, যার জেরে কিছু সময়ের জন্য শুটিং পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়।

প্রসঙ্গত, এই ঘটনার পরেই প্রযোজক রানা সরকার নিজের সামাজিক মাধ্যমের পাতায় ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি লেখেন, “যিনি আমার সই জাল করে পুলিশের চার্জশিট-এ দোষী প্রমাণিত হয়েছিল তারই লোক আজ আমাদের শুটিং-এ ঝামেলা করতে এসেছিল। জানা গেছে, ইনিই আবার বাংলার ‘পাইরেসি কিং’ যেটা সবাই জানে। সব বুঝে নেওয়া হবে!” এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ‘পাইরেসি কিং’ মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে পরিচালক ‘রাজ চক্রবর্তী’র দিকেই ইঙ্গিত করেছেন!
আরও পড়ুনঃ “ম’দ্যপ স্বামী, জন্ম দিয়েও পাশে দাঁড়ায়নি…একা হাতে সন্তানকে মানুষ করেছি” আবেগী স্বীকারোক্তি নন্দিনী চট্টোপাধ্যায়ের! সংসারে অশান্তি, মানসিকভাবে ভেঙে পড়েও কীভাবে বিনোদন জগতে তৈরি করলেন নিজের জায়গা? টলিউডের ‘লবি’র কারণেই বলিউডমুখী হতে বাধ্য হয়েছেন, কী জানালেন অভিনেত্রী?
যদিও তিনি সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করেননি। অন্যদিকে, আবার এই ঘটনা ফেডারেশনের নজরেও এসেছে। সেখানে সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং বিষয়টি পরে শুনেছেন। তাই পুরো বিষয়টি খতিয়ে না দেখে মন্তব্য করতে চান না। তবে একইসঙ্গে তিনি এটাও স্পষ্ট করেছেন যে, যদি সত্যিই এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং ফেডারেশন এই ধরনের আচরণ সমর্থন করে না।
তবে, একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবির শুরুতেই এই ধরনের অশান্তি ইন্ডাস্ট্রির কাজের পরিবেশ নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। প্রযোজনা সংস্থার তরফে ইতিমধ্যেই পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্তের পর ঠিক কী সামনে আসে এবং আবার স্বাভাবিক গতিতে ফিরতে পারে কি না, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। পাশাপাশি, এই ঘটনার পর ভবিষ্যতে শুটিং ফ্লোরে নিরাপত্তা আর পেশাদারিত্ব নিয়ে আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসছে।






