সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসিমুখে লক্ষ মানুষের মন জিতে নিয়েছিলেন সায়নী চক্রবর্তী। পোষ্যদের নিয়ে তাঁর মজার ভিডিও, সহজ-সরল উপস্থাপনা এবং প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব তাঁকে অল্প সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয় করে তুলেছিল। ‘সুন্দরীর দিদি’ নামেই তাঁকে চিনতেন অধিকাংশ দর্শক। কিন্তু সেই পরিচিত হাসির আড়ালে যে গভীর মানসিক কষ্ট লুকিয়ে ছিল, তা হয়তো টের পাননি কেউ। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে অনুরাগীদের মধ্যে। যাঁরা নিয়মিত তাঁর ভ্লগ দেখতেন, তাঁদের অনেকেরই বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে যে সায়নী আর কখনও নতুন ভিডিও নিয়ে ফিরবেন না। বিশেষ করে পোষ্য সুন্দরীকে নিয়ে তাঁর খুনসুটি দর্শকদের কাছে ছিল অত্যন্ত প্রিয়।
সায়নীর কনটেন্টের অন্যতম আকর্ষণ ছিল তার স্বাভাবিকতা। তিনি পোষ্যদের শুধুমাত্র প্রাণী হিসেবে নয়, পরিবারের সদস্যের মতোই তুলে ধরতেন। সেই কারণেই দর্শকদের সঙ্গে তাঁর এক বিশেষ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। অনেকেই মন্তব্যে লিখতেন, ‘সায়নীর ভিডিয়ো দেখলে মন ভালো হয়ে যায়।’ কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি নিজের পড়াশোনাও সমান গুরুত্ব দিয়ে চালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। আইন নিয়ে পড়াশোনা করে সম্প্রতি এলএলবি (LLB) ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন সায়নী। কয়েক দিন আগেই সমাবর্তন অনুষ্ঠানের ভিডিও ও ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিয়েছিলেন। ফলে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী এবং কর্মচঞ্চল এক তরুণীর এমন পরিণতি আরও বেশি অবাক করছে সকলকে।
পড়াশোনার পাশাপাশি বাইক চালানোর প্রতিও ছিল তাঁর গভীর ভালোবাসা। শাড়ি হোক বা জিন্স, বাইকে ঘুরে বেড়ানোর ভিডিও নিয়মিত পোস্ট করতেন তিনি। সেই সব রাইডিং কনটেন্টও যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিল। এছাড়াও মাঝেমধ্যে ব্রাইডাল মডেল হিসেবেও কাজ করতেন সায়নী। তাঁর ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে কনে সাজের একাধিক ছবি এবং ভিডিও দেখা যায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা তাঁর শেষ রিলটিও ছিল কনের সাজে তৈরি। সেই ভিডিওতে তিনি লিপ দিয়েছিলেন জনপ্রিয় গান “যদি তোমার সাথে আমার পিরীত হতো”-তে। মৃত্যুর পর সেই রিল নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, ভিডিওটির মধ্যে হয়তো তাঁর মনের অজানা কষ্টের কোনও ইঙ্গিত লুকিয়ে ছিল।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এক যুবকের সঙ্গে সায়নীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই তিনি মানসিক চাপে ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও তদন্তকারী আধিকারিকরা এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছননি। বৃহস্পতিবার নিজের ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মগরা থানার পুলিশ। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চুঁচুড়া ইমামপাড়া হাসপাতালে তাঁর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত এখনও চলছে।
আরও পড়ুনঃ “শমীক ভট্টাচার্যকে ভীষণই ভালো লাগে…মানুষেরা এবার নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেন” তৃণমূলী কাঞ্চনের প্রাক্তন স্ত্রীর মুখে বিজেপি স্তুতি! তবে কী এবার রাজনীতিতে নাম লেখাতে চলেছেন পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়?
সায়নীর পরিবারকেও সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই চিনতেন। তাঁর মা মলি চক্রবর্তীরও একটি জনপ্রিয় পেজ রয়েছে, যেখানে নিয়মিত মা-মেয়ের নানা মুহূর্ত দেখা যেত। পোষ্যদের দেখাশোনা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট ঘটনা, সবকিছুই ভাগ করে নিতেন তাঁরা। সায়নীর সোশ্যাল মিডিয়া অনুসরণকারীর সংখ্যা তিন লক্ষেরও বেশি ছিল। সেই কারণে তাঁর মৃত্যু শুধু পরিবার বা পরিচিত মহলেই নয়, অনলাইন দুনিয়াতেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। এত প্রাণবন্ত, হাসিখুশি এবং স্বপ্নভরা একজন তরুণীর এমন আকস্মিক বিদায় এখনও মেনে নিতে পারছেন না তাঁর অনুরাগীরা। আর সেই কারণেই তাঁর শেষ পোস্ট, শেষ রিল এবং শেষ কয়েক দিনের কর্মকাণ্ড ঘিরে তৈরি হয়েছে একের পর এক প্রশ্ন।






