আজ, অর্থাৎ ২৮ মার্চ অভিনেত্রী মুনমুন সেনের জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও বন্ধু চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী তুলে ধরলেন একগুচ্ছ স্মৃতি। তিনি জানান, শুরুতে মুনমুনকে ঘিরে সবার মধ্যেই একটা কৌতূহল ছিল। সুচিত্রা সেনের মেয়ে হিসেবে তাঁকে নিয়ে আগ্রহ ছিল স্বাভাবিকই। তখনও মুনমুন খুব পরিচিত নাম হয়ে ওঠেননি, তাই তাঁকে ঘিরে একটা রহস্যময় আবহ ছিল। চিরঞ্জিতের কথায়, তিনি আগে কিছু ছবি দেখেছিলেন, কিন্তু সামনে থেকে দেখা হয়নি। শুধু শুনেছিলেন, মুনমুন অত্যন্ত সুন্দরী। পরে হঠাৎ খবর পান, ‘অন্তরাল’ ছবিতে তাঁকে মুনমুনের বিপরীতে অভিনয় করতে হবে। সেখান থেকেই শুরু তাঁদের পরিচয় ও বন্ধুত্বের পথচলা।
চিরঞ্জিত জানান, ‘অন্তরাল’ ছবির কাজ শুরুর আগে এক পার্টিতে প্রথমবার মুনমুনকে দেখেন তিনি। সেই প্রথম দেখাতেই তিনি মুগ্ধ হয়ে যান। তাঁর ভাষায়, এত সুন্দরী অভিনেত্রী তিনি আগে দেখেননি। বিশেষ করে মুনমুনের চুলের স্টাইল ছিল আলাদা আকর্ষণ। সেই কার্ল করা চুল যেন আন্তর্জাতিক মানের ফ্যাশনের ছোঁয়া বহন করত। তিনি মনে করেন, মুনমুন একসময় ফ্যাশনের দিক থেকেও অনন্য উদাহরণ ছিলেন। পাশাপাশি, তিনি খুবই প্রাণবন্ত ও মজার মানুষ। কাজের ফাঁকে নানা রকম মজার ঘটনাও ঘটত, যা আজও মনে পড়ে হাসি পায়।
একটি ঘটনার কথা বলতে গিয়ে চিরঞ্জিত জানান, মুম্বইয়ে একটি গানের শুটিং চলাকালীন মজার পরিস্থিতি তৈরি হয়। একটি দৃশ্যে তাঁকে মুনমুনকে জড়িয়ে ধরতে হয়েছিল, কিন্তু দেখা যায় মুনমুন নিজের মুখ আড়াল হতে দিচ্ছেন না। এ নিয়ে প্রশ্ন করতেই মুনমুন মজা করে বলেন, তাঁর মুখই তাঁর প্রধান শক্তি। তাই সেটি ঢাকা পড়ুক, সেটা তিনি চান না। এই নিয়ে দুজনের মধ্যে হালকা ঝগড়াও হয়েছিল। চিরঞ্জিত বলেন, তাঁদের সম্পর্ক ছিল এক ধরনের ভালোবাসা আর খুনসুটির মিশেল। এই সম্পর্ককেই মুনমুন নিজেই ‘লাভ-হেট’ বলে মজা করে উল্লেখ করতেন।
আরও একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অমর কণ্টক’ ছবির শুটিংয়ের সময় একটি দৃশ্যে মুনমুনকে তাঁর শরীর থেকে বিষাক্ত রক্ত বের করার অভিনয় করতে হয়। কিন্তু শুটিংয়ের সময় প্রয়োজনীয় লাল তরল ব্যবহার করতে ভুল হয়ে যায়। ফলে দৃশ্য চালু থাকায় মুনমুন সত্যিই কামড়াতে শুরু করেন। পুরো শট চলাকালীন এই ঘটনাই ঘটে। পরে অবশ্য তিনি নিজেই যত্ন নিয়ে বরফ দেন। সেটে উপস্থিত মুনমুনের স্বামী এই ঘটনা শুনে মজা করে মন্তব্য করেন, ইনজেকশন নিয়ে নিও কারণ ‘শি ইজ পয়জনাস!’ এই ধরনের ঘটনাই তাঁদের কাজের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলত।
আরও পড়ুনঃ “বাংলার ‘পাইরে’সি কিং’ আমার ‘সই জাল’ করে পুলিশের চার্জশিটে দোষী প্রমাণিত হয়েছে” ক্ষোভে ফুঁসছেন রানা সরকার! ‘গুনগুন করে মহুয়া’র শুটিংয়ে হাম’লার অভিযোগে বি’স্ফোরক প্রযোজক, পরোক্ষভাবে নিশানা করলেন কাকে?
চিরঞ্জিত আরও বলেন, মুনমুন স্বভাবে খুব সরল এবং প্রাণখোলা মানুষ। কাজের ফাঁকে সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে দুষ্টুমি করতেও তিনি পিছপা হতেন না। একবার সহ-অভিনেত্রীকে মেকআপ রুমে আটকে রেখে মজা করেছিলেন, যা পরে হাসির খোরাক হয়ে ওঠে। তিনি জানান, মুনমুনের হাসি ছিল সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলালেও তাঁর সেই সহজ স্বভাব ও হাসি যেন একই রকম থাকে, এমনটাই চান তিনি। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁরা আলাদা পথে গেলেও বন্ধুত্ব অটুট রয়েছে বলেই জানিয়েছেন চিরঞ্জিত।






