বিনোদন জগতকে বাইরে থেকে যতটা ঝলমলে মনে হয়, বাস্তবে তার অন্দরমহলে অনেক সময়ই লুকিয়ে থাকে নানা চ্যালেঞ্জ ও অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে কর্মজীবনের শুরুতে বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যা সবসময় প্রকাশ্যে আসে না। অনেকেই নিজের ক্যারিয়ারের স্বার্থে নীরব থাকেন, আবার কেউ কেউ সময়ের সঙ্গে সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। সম্প্রতি এমনই এক ঘটনার কথা স্মরণ করে নিজের অভিনয় জীবনের শুরুর দিনের একটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মমতা শঙ্কর। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে কীভাবে উপস্থিত বুদ্ধি এবং আত্মবিশ্বাস একজন মানুষকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতে পারে।
বাংলা চলচ্চিত্র ও নৃত্যজগতের অন্যতম পরিচিত মুখ মমতা শঙ্কর ১৯৭৬ সালে পরিচালক মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’ ছবির মাধ্যমে অভিনয় জগতে পা রাখেন। প্রথম ছবিতেই তাঁর অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি একাধিক উল্লেখযোগ্য ছবিতে অভিনয় করে নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তোলেন। শুধু অভিনেত্রী হিসেবেই নয়, একজন দক্ষ নৃত্যশিল্পী হিসেবেও তাঁর খ্যাতি দীর্ঘদিনের। শিল্পী পরিবারে বেড়ে ওঠা মমতা শঙ্কর বরাবরই অভিনয় ও সংস্কৃতির জগতে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন।
দীর্ঘ কয়েক দশকের কর্মজীবনে তিনি বহু খ্যাতনামা পরিচালক ও শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন। সম্প্রতি তাঁর শিল্পজীবনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি তাঁর বাবা উদয় শঙ্কর এবং মা অমলা শঙ্করের নৃত্যঐতিহ্যকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। বর্তমানে পরিচালক অনুপ দাসের নতুন ছবি ‘রেখা’-তেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। গ্ল্যামারের চেয়ে ভালো কাজ এবং মানসম্মত চরিত্র বেছে নেওয়ার জন্যও তিনি বরাবর পরিচিত।
আরও পড়ুন: হিন্দু থেকে মুসলিম হন ‘রাইকিশোরী’র নায়িকা! হঠাৎ কেন রানা থেকে আহমেদ হয়েছিলেন অভিনেত্রী মধুজা? নেপথ্যে লুকিয়ে কোন গল্প? অভিনয় জগতের ঝলমলে আলোর আড়ালে, আজ কোথায় এবং কী করছেন তিনি ?
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে মমতা শঙ্কর তাঁর অভিনয় জীবনের শুরুর দিনের একটি ঘটনার কথা বলেন। তিনি জানান, ‘মৃগয়া’ ছবির সময় তিনি খুবই নতুন ছিলেন। একবার একজনের সঙ্গে একটি ঘরে বসেছিলেন তিনি। সেই সময় ওই ব্যক্তি ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। বিষয়টি তাঁর ভালো লাগেনি এবং হঠাৎ করেই এক ধরনের অস্বস্তি অনুভব করেন। পরিস্থিতি বুঝে তিনি সরাসরি কিছু না বলে বুদ্ধি খাটান। অভিনেত্রীর কথায়, তিনি তখন বলে ওঠেন যে তাঁর যেন শ্বাসকষ্ট হচ্ছে এবং ঘরের ভেতর দমবন্ধ লাগছে। এরপর নিজেই উঠে গিয়ে দরজাটি খুলে দেন এবং খোলাই রাখেন। তিনি কাউকে কোনও অভিযোগ না জানিয়ে নিজের স্বাভাবিক আচরণের মধ্য দিয়েই পরিস্থিতি সামাল দেন।
মমতা শঙ্কর আরও বলেন, জীবনের নানা সময়ে মানুষকে নিজের সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হয়। কোনও পরিস্থিতি মেনে নিলে ভবিষ্যতে তার লাভ হতে পারে এমন চিন্তাও অনেকের মাথায় আসে। কিন্তু তিনি সবসময় নিজের বিবেক ও আত্মসম্মানকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তাঁর মতে, বিপদের মুহূর্তে উপস্থিত বুদ্ধি এবং নিজের উপর বিশ্বাস রাখা অত্যন্ত জরুরি। সেই কারণেই তিনি সেদিন কোনও সংঘাতে না গিয়ে কৌশলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বহু বছর পর সেই অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে এনে তিনি যেন নতুন প্রজন্মের শিল্পীদেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন যে কোনও পরিস্থিতিতে নিজের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যকে সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।






