বাংলা থিয়েটার জগতের পরিচিত মুখ চন্দন সেন (Chandan Sen) শুধু অভিনয়ের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বরং সময়ে সময়ে সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে খোলাখুলি মত প্রকাশ করেই তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন। মঞ্চের আলো ছাড়াও বাস্তব জীবনের নানা ইস্যুতে তাঁর অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট। অনেকেই মনে করেন, এই স্পষ্টবাদিতাই তাঁকে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে। ফলে তাঁর প্রতিটি বক্তব্যই সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করে এবং রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন ফেলে।
চন্দন সেন বরাবরই বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে তিনি কখনও পিছপা হন না। তাঁর অভিযোগ, মত প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। নাটক মঞ্চস্থ করার ক্ষেত্রে সরকারি হল না পাওয়ার মতো সমস্যার কথাও তিনি প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন। তবুও নিজের অবস্থান থেকে সরেননি তিনি। বরং আরও জোরালোভাবে তিনি তাঁর মতামত তুলে ধরেছেন বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও আলোচনায়। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর দলকে নিশানা করে মন্তব্য করেন।
তাঁর দাবি, এই দল শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি “গ্যাং”-এর মতো কাজ করছে। এমনকি তিনি তুলনা টেনে বলেন, এটি নাকি আমেরিকার শিকাগো শহরের গ্যাং সংস্কৃতির মতো। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। অভিনেতার মতে, বর্তমান সমাজে শিক্ষাভিত্তিক রাজনীতি প্রায় বিলুপ্ত। তিনি অভিযোগ করেন, দিনের পর দিন যে ধরনের কারচুপি এবং অনিয়ম সামনে আসছে।
তা প্রমাণ করে রাজনীতির মান কতটা নীচে নেমে গেছে। তাঁর কথায়, এই পরিস্থিতি সমাজকে “ভিখারির মতো” করে তুলেছে। এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই নানা মহলে সমালোচনা ও সমর্থন দুই-ই কুড়িয়েছেন তিনি। সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হিসেবে উঠে এসেছে তাঁর বেকারত্ব নিয়ে মন্তব্য। চন্দন সেন দাবি করেছেন, যত বেশি বেকার যুবক থাকবে, ততই তাদের টাকা, মদ বা বাইকের প্রলোভন দেখিয়ে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা সহজ হবে।
আরও পড়ুনঃ “খুব বদনাম আমাদের ইন্ডাস্ট্রির, এর জন্য আর্টিস্টরা দায়ী!” “খবরে থাকতে, আজকাল ইচ্ছে করে ঘরের সব সমস্যা প্রকাশ্যে আনে!” নবীন প্রজন্মের অপেশাদারিত্ব নিয়ে সরব হওয়ার পর, এবার টলিউডের ‘বদনাম’ প্রসঙ্গে মুখ খুললেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়!
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ধরনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণিকে রাজনীতির হাতিয়ার বানানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে, চন্দন সেনের এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। তাঁর বক্তব্য একদিকে যেমন শাসক দলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে অনেকেই এটিকে ব্যক্তিগত মতামত হিসেবেও ব্যাখ্যা করছেন। তবে এই বিতর্ক যে আগামী দিনে আরও বড় আকার নিতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।






