বিজয়গড়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে এদিন ভিড় ছিল উপচে পড়া। পাড়ার মানুষজন শেষবারের মতো প্রিয় ‘বাবিন’কে দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন। ফুলে সাজানো শববাহী গাড়িতে করে তাঁর দেহ আনা হলে আবেগে ভেঙে পড়েন সকলে। এক ঝলক দেখার জন্য ব্যারিকেড পর্যন্ত ভেঙে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। বহু মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন সেই মুহূর্তে। পাড়ার ছেলের শেষ বিদায়ে গোটা এলাকা শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে।
পরে কোনওমতে ভিড় সরিয়ে রাহুলের দেহ বাড়ির তিনতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে পরিবারের অনুরোধে কাউকে উপরে উঠতে দেওয়া হয়নি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর মা, স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা এবং তাঁদের ছোট ছেলে সহজ। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কোনও রকম আড়ম্বর চান না। বিশেষ করে সন্তানের কথা ভেবে সবকিছুই সীমিত রাখা হচ্ছে। পরিবারের ব্যক্তিগত মুহূর্তে বাইরের কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও ঘরে ঢোকার অনুমতি পাননি।
রাহুলের দেহ সরাসরি বাড়ি থেকে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। মাঝপথে কোথাও থামানো হবে না তাঁর দেহ। কোনও স্টুডিও বা প্রেক্ষাগৃহেও রাখা হবে না শেষ শ্রদ্ধার জন্য। পরিবার চায়, সবকিছু শান্ত ও ব্যক্তিগতভাবে সম্পন্ন হোক। পাড়ার মানুষের কাছে তিনি বড় তারকা ছিলেন না, ছিলেন আপনজন। তাঁর হাসি আর সহজ ব্যবহারের স্মৃতি মনে করে কাঁদছেন সবাই। বিজয়গড়ের রাস্তায় এখন শুধুই শোক আর নীরবতা।
রাহুলের মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা দাবি ঘুরছে, তবে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শুটিং চলাকালীন সমুদ্রে নামেন তিনি। এরপর কোনওভাবে জলের স্রোতে তলিয়ে যান বলে জানা গেছে। দীর্ঘ সময় তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুনঃ ঠিক সময়েই বন্ধ হয়ে গেল ক্যামেরা! ড্রোন শটে স্পষ্ট, অভিনেত্রীর সঙ্গে জলে পড়লেন রাহুল! উদ্ধার হলেন নায়িকা, তবে কেন দীর্ঘক্ষণ নিখোঁজ ছিলেন অভিনেতা? সামনে এল শিউরে ওঠা ভিডিও! প্রশ্ন উঠছে, দুর্ঘ’টনা নাকি পরিকল্পিত খু’ন?
রাহুলের ড্রাইভার বাবলু পুরো ঘটনাটির প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, শুটিংয়ের একটি দৃশ্যে জলে নামতে হয়েছিল অভিনেতাকে। হঠাৎ জলের স্রোত বেড়ে গেলে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। সঙ্গে থাকা অভিনেত্রীও পড়ে যান জলে, তবে দু’জনকেই উদ্ধার করা হয়। তখনও রাহুলের শরীরে প্রাণ ছিল বলে দাবি। কিন্তু অতিরিক্ত জল ঢুকে যাওয়ায় তাঁর অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়। হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই সব শেষ হয়ে যায় বলে চিকিৎসকেরা জানান।






