গতকাল হঠাৎই চলে গেলেন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জী । এই অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর খবরে মুহূর্তে শোকের ছায়া নেমে আসে টলিউড পাড়ায়। সহকর্মী থেকে অনুরাগী কেউই যেন মেনে নিতে পারছেন না এই বাস্তবতা। শুটিং সেটে যাঁকে কয়েকদিন আগেও দেখা গিয়েছিল, তিনিই আজ আর নেই এই সত্যিটা যেন আরও বেশি ভাবিয়ে তুলছে সকলকে। ‘ভোলে বাবা পার কারেগা’ ধারাবাহিকের কাজ চলাকালীন তাঁর মৃত্যু হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর আবেগ, সঙ্গে একরাশ প্রশ্ন।
রাহুলের মৃত্যুর পর থেকেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। অনেকেই সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন কেন বারবার লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক চলাকালীনই এমন দুঃখজনক ঘটনা ঘটে? নিছকই কাকতালীয়, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনও কারণ? যদিও এই প্রশ্নের কোনও প্রমাণভিত্তিক উত্তর নেই, তবুও নেটিজেনদের একাংশ এই মিলগুলোকে হালকাভাবে নিতে নারাজ। ফলে আবেগ আর কৌতূহল মিলিয়ে বিতর্ক যেন আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
এই বিতর্কের পেছনে রয়েছে একাধিক পুরনো ঘটনা। ২০১৫ সালে ‘জল নূপুর’ ধারাবাহিক চলাকালীন অভিনেতা পীযূষ গাঙ্গুলীর মর্মান্তিক গাড়ি দুর্ঘটনার পর মৃত্যু আজও অনেকের মনে গেঁথে আছে। দুর্গাপুজোর সপ্তমীর রাতে কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে সেই দুর্ঘটনা ঘটে, পরে হাসপাতালে প্রাণ হারান তিনি। একই সময়ে অভিনেতা রনি চক্রবর্তীর রহস্যজনক মৃত্যু আরও বড় ধাক্কা দেয় ইন্ডাস্ট্রিকে। পুকুর থেকে উদ্ধার হওয়া তাঁর দেহ নিয়ে তৈরি হয়েছিল তীব্র জল্পনা। হার্ট অ্যাটাক না খুন, সেই প্রশ্নের উত্তর আজও স্পষ্ট নয়।
শুধু এই দুই ঘটনাই নয়, ‘ইচ্ছে নদী’ চলাকালীন অভিনেতা বিক্রমের ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ‘খড়কুটো’ ও ‘মোহর’ সম্প্রচারের সময় অভিনেতা অভিষেক চ্যাটার্জির মৃত্যু, এই ঘটনাগুলিও এখন আবার সামনে আসছে। একের পর এক এই মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই। যদিও প্রত্যেকটি ঘটনার পেছনে আলাদা কারণ রয়েছে, তবুও এই ধারাবাহিকগুলির নাম একসঙ্গে উচ্চারিত হওয়ায় তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত প্রশ্নচিহ্ন।
আরও পড়ুনঃ “শুধু সেলেবদের দেখে ঢোকানো হচ্ছে…আমরা ছোটবেলার বন্ধু, আমাদেরও অধিকার আছে!” কেওড়াতলা মহাশ্ম’শানে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের শে’ষকৃ’ত্যে ক্ষু’ব্ধ বন্ধুরা! শ্রদ্ধা জানাতেও পক্ষপাতের অভিযোগে বিশৃ’ঙ্খলা পরিস্থিতি!
তবে ইন্ডাস্ট্রির একাংশ স্পষ্ট করে জানাচ্ছেন, এই সমস্ত ঘটনার মধ্যে কোনও সরাসরি যোগসূত্র নেই। জীবন-মৃত্যু, দুর্ঘটনা সবই অনিশ্চিত এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল। তবুও রাহুলের আকস্মিক মৃত্যুর পর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন অনেকেই, আর সেখান থেকেই উঠে আসছে এইসব প্রশ্ন। এরমধ্যেই আবার অনেকেই দাবি করছেন বন্ধ হওয়া উচিত লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার কারেগা’। সত্যি বলতে, এই মুহূর্তে টলিউডে সবচেয়ে বড় সত্য একটাই একজন অভিনেতার অকাল প্রয়াণ। আর সেই শোকের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে একের পর এক বিতর্ক, যার উত্তর হয়তো সময়ই দেবে।






