বিজয়গড়ের অনন্যা অ্যাপার্টমেন্ট এখন যেন শোকের ছায়ায় ঢেকে গেছে। এখানেই ছোটবেলা কেটেছে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের, যাকে পাড়ার মানুষ বাবিন নামেই চিনতেন। হঠাৎ এই দুঃসংবাদে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেছে এলাকার পরিবেশ। চারদিকে শুধু নিস্তব্ধতা আর অবিশ্বাস। প্রতিবেশীদের চোখে জল, মুখে একটাই প্রশ্ন কীভাবে এমনটা হল। যে বাড়িতে সবসময় হাসি আর আড্ডার শব্দ শোনা যেত, সেখানে এখন শুধুই কান্না আর শোকের আবহ। কাছের মানুষদের কাছে এই ঘটনা এখনও অবিশ্বাস্য। কেউই যেন ঠিক করে পরিস্থিতি মেনে নিতে পারছেন না।
রবিবার রাতে খবর পাওয়ার পর প্রথমে ছুটে আসেন প্রিয়াঙ্কা। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই একে একে পৌঁছে যান রাহুলের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা। অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত সারাক্ষণ ছিলেন রাহুলের মায়ের পাশে। পরে আসেন জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, সৌরভ দাস, ঋদ্ধিমা ঘোষ, গৌরব চক্রবর্তী সহ আরও অনেকে। সবাই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এই খবর শুনে। কেউই বুঝতে পারছিলেন না কীভাবে এই শোক সামলানো যাবে। অনেকেই রাহুলের মায়ের সামনে যাওয়ার সাহস পাননি। সৌরভ দাসও বাইরে বসেই ছিলেন দীর্ঘক্ষণ, কী বলবেন বুঝে উঠতে পারেননি।
সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছেন রাহুলের মা। রবিবার রাত থেকে তাঁকে বিছানায় শোয়ানোই যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। বারবার ছেলেকে খুঁজছেন তিনি, যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না যে ছেলে আর নেই। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে ওষুধ দেওয়া হলেও তাতেও কাজ হচ্ছে না। ঘুম আসছে না, ঠিকমতো খাওয়াও করছেন না। চারপাশের মানুষজন চেষ্টা করছেন তাঁকে সামলানোর, কিন্তু পরিস্থিতি খুবই কঠিন। অভিনেত্রী চৈতি ঘোষালও জানিয়েছেন, সন্তান হারানোর যন্ত্রণা কোনওভাবেই সহজ নয়। এই অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা খুব চিন্তায় রয়েছেন।
রাহুলের দাদা বিদেশে থাকেন, আয়ারল্যান্ডে তাঁর বসবাস। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি দ্রুত দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বুধবার তিনি কলকাতায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পরিবারের সকলেই আশা করছেন, তিনি এলে হয়তো পরিস্থিতি কিছুটা সামলানো সম্ভব হবে। এই কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে থাকার জন্যই তাঁর এই তাড়াহুড়ো করে ফেরা। আত্মীয়স্বজনরাও অপেক্ষা করছেন তাঁর আগমনের জন্য। সবারই একটাই লক্ষ্য, এই ভেঙে পড়া পরিবারকে কিছুটা শক্ত করে দাঁড় করানো।
আরও পড়ুনঃ “সবাই বলছে নতুনদের ডেডিকেশন কমে যাচ্ছে, আমার কিন্তু মনে হয় ওরা বেশি ডেডিকেটেড” টলিউডে অভিনয়ের প্রতি একাগ্রতা নিয়ে বি*স্ফোরক রজতাভ দত্ত! সত্যিই কি বদলে যাচ্ছে প্রজন্মের মনোভাব, নাকি ভুল বিচারেই কাঠগড়ায় উঠছে নতুন শিল্পীরা?
অন্যদিকে রাহুলের ১৩ বছরের ছেলে সহজ পুরোপুরি চুপ হয়ে গেছে। সে যেন নিজের ভেতরে গুটিয়ে নিয়েছে সবকিছু। মুখ থেকে একটি শব্দও বের হচ্ছে না তার। এই অবস্থায় পুরো পরিস্থিতি সামলানোর দায়িত্ব এসে পড়েছে প্রিয়াঙ্কার উপর। তিনিই একা হাতে মা ও ছেলেকে সামলানোর চেষ্টা করছেন। সোমবার দুপুরে তমলুক মহকুমা হাসপাতাল থেকে রাহুলের মরদেহ কলকাতায় আনা হয়। এরপর কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। সেখানেও নীরব চোখে সব দেখেছে সহজ, বাবার মুখাগ্নিও করেছে সে। এই দৃশ্য উপস্থিত সকলকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে।






