রাহুলের রহস্যমৃ’ত্যু ঘিরে উত্তাল টলিউড, শুটিং দুর্ঘ’টনা না অবহেলা, জবাব চেয়ে প্রযোজনা সংস্থাকে চিঠিতে নেই কারোর সই! প্রশ্নের মুখে আর্টিস্ট ফোরাম, বিচার চেয়ে এবার পথে নামার ডাক শিল্পীদের! কবে এবং কোথায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই কর্মসূচি?

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। সমুদ্রের জলে ডুবে যাওয়ার এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই অনেক প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। কেউ বলছেন এটি নিছক দুর্ঘটনা, আবার কেউ দাবি করছেন শুটিংয়ের সময় ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ঠিক কী ঘটেছিল সেই মুহূর্তে, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য সামনে আসেনি। ফলে জল্পনা বাড়ছেই। অভিনেত্রী শ্বেতাকে উদ্ধার করা গেলেও রাহুলকে কেন বাঁচানো গেল না, এই প্রশ্ন বারবার ঘুরে আসছে। একই সঙ্গে শুটিংয়ের অনুমতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন বড়সড় তদন্তের দাবি তুলছে।

এই ঘটনার পর থেকেই আঙুল উঠছে ওয়েস্ট বেঙ্গল আর্টিস্ট ফোরামের দিকেও। অনেক শিল্পীই সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, কোনও দুর্ঘটনায় পড়লে শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ফোরামের ভূমিকা ঠিক কী। অভিনেত্রী সুদীপ্তা থেকে শুরু করে জিতু কমল, একাধিক শিল্পী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে যথেষ্ট উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। একজন কর্মরত অভিনেতার প্রাণহানির পরও পরিষ্কার অবস্থান না নেওয়ায় অসন্তোষ বাড়ছে। শিল্পীদের জীবনের মূল্য কতটা, সেই প্রশ্নও উঠে আসছে নতুন করে। ফলে ফোরামের দায়িত্ব নিয়েও এখন তর্ক শুরু হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে জানা যায়, কয়েক দিন আগে অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে একটি বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে রাহুলের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর। যদিও ফোরামের অনেক সদস্য দাবি করেছেন, তাঁরা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। এতে আরও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা নিয়েও পরিষ্কার ধারণা নেই অনেকের। ফলে বিষয়টি নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। শিল্পীদের মধ্যে ঐক্যের অভাবও চোখে পড়ছে এই ঘটনায়। এর ফলে পুরো বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

এরই মধ্যে আর্টিস্ট ফোরামের তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে। সেখানে বলা হয়েছে, শুটিং চলাকালীন এই দুর্ঘটনায় রাহুলের মৃত্যু হয়েছে এবং এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দাবি করা হয়েছে, কেন এমন ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় শুটিং করা হল এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা কতটা ছিল। তবে সেই বিবৃতিতে সভাপতি বা অন্য কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষর না থাকায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এই চিঠির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে করা হয়নি।

আরও পড়ুনঃ “সাপও ম’রল আর লাঠিও ভাঙল না, এভাবে চলবে?” “গা বাঁচিয়ে চলার স্বভাবটা এবার ছাড়ুন” রাহুল অরুণোদয়ের রহস্য মৃ’ত্যু নিয়ে ‘আর্টিস্টস ফোরাম’কে কড়া ভাষায় আ’ক্রমণ সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের! প্রশ্ন তুললেন, আগের মতো দাপট কোথায়?

অন্যদিকে জানা যাচ্ছে, রাহুলের মৃত্যুর বিচার চেয়ে শনিবার একটি মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। টেকনিশিয়ান স্টুডিও থেকে সেই কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা। তবে এই ডাকে কারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা নিয়েও স্পষ্ট তথ্য নেই। অভিনেতা জিতু কমল এই বিষয়ে সরব হয়ে বলেছেন, যদি এটি আর্টিস্ট ফোরামের উদ্যোগ হয়, তাহলে কেউ যেন এতে অংশ না নেন। তাঁর অভিযোগ, ফোরাম নিজেদের ভাবমূর্তি ঠিক করতে এই উদ্যোগ নিচ্ছে। ফলে এই আন্দোলন নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। পুরো ঘটনায় এখনও স্পষ্ট উত্তর না মেলায় উদ্বেগ বাড়ছে শিল্পী মহলে।

You cannot copy content of this page