“কী হল ওর? কোথায় গেল?” “আর তো পারা যাচ্ছে না, শোক আর শক্ নেবারও সীমা থাকে” মুখ খুললেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী! রাহুলের অস্বাভাবিক মৃ’ত্যুর শোক এখনও তাজা, এরই মাঝে নিখোঁজ জনপ্রিয় পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায়! টলিউডে একের পর এক রহস্যজনক ঘটনায় প্রশ্নের মুখে ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তা?

টলিউডের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো যেন একের পর এক অস্বস্তির ছায়া ফেলছে। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunoday Banerjee) -এর মৃ’ত্যুর শোক এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি অনেকে, তার মধ্যেই আরেকটি উদ্বেগজনক খবর সামনে এসেছে। পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায় (Utsav Mukherjee) -এর হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় শিল্পী মহল থেকে সাধারণ মানুষ, সবার মধ্যেই তৈরি হয়েছে দুশ্চিন্তা। বিষয়টা শুধুই একটি নিখোঁজ ডায়েরি নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একাধিক অমীমাংসিত প্রশ্ন, যা সময়ের সঙ্গে আরও জটিল হয়ে উঠছে।

ঘটনাটা শুনতে যতটা সাধারণ মনে হবে, ততটাই অস্বাভাবিক তার পরিণতি। বাড়ি থেকে ব্যাংকে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু তারপর আর বাড়ি ফেরা হয়নি। পরিবারের তরফে জানা গেছে, নিজের ফোন বাড়িতেই রেখে গিয়েছিলেন, কারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ওটিপি আসার কথা ছিল। পরিবর্তে সঙ্গে নিয়েছিলেন বাবার পুরনো ফোন। দুপুরে বেরোনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই ফোনটিও বন্ধ হয়ে যায়, যা স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। যদিও এই ছোট ছোট তথ্যগুলোই এখন তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পরিবারের অবস্থাটা এই মুহূর্তে কেমন, তা সহজেই অনুমান করা যায়। সদ্য বাবাকে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই এমন একটি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে উৎসবের পরিবারকে। তাঁর স্ত্রী মৌপিয়া প্রায় একাই সবকিছু সামলানোর চেষ্টা করছেন। এই সময়ে একদিকে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হয়েছে, অন্যদিকে আত্মীয়-স্বজন, পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনও সুরাহা মেলেনি। নিখোঁজ হওয়ার পর কেটে গিয়েছে প্রায় দুদিন, কিন্তু এখনও কোনও নিশ্চিত খবর না পাওয়ায় উৎকণ্ঠা ক্রমশ বাড়ছে।

এই ঘটনার পরেই সমাজ মাধ্যমে সরব হয়েছেন অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী (Sudipta Chakraborty)। তিনি লিখেছেন, “উৎসব মুখোপাধ্যায়ের কোনো খোঁজ পাওয়া গেল? পুলিশ কী করছে? কেউ বলতে পারেন? লেখক বা পরিচালকদের সংগঠনের কি সদস্য ছিল উৎসব? যদি হয়ে থাকে, তাহলে তাঁরা কি উদ্যোগ নিতে পারেন এ ব্যাপারে? কেমন যেন মনে হচ্ছে ওর সদ্য বিবাহিত স্ত্রী একা পড়ে গেছেন। আমার সঙ্গে তাঁর আলাপ নেই, তবু মনে হচ্ছে এই সময়ে তাঁর পাশে আমা(দে)র থাকা দরকার। উৎসবের লেখা এবং পরিচালনায় দুটো সিনেমায় অভিনয় করেছি আমি ‘হাফ সিরিয়াস’ এবং ‘ভীতু’।

বহুদিনের সম্পর্ক, পারিবারিক বন্ধুত্ব। আমাদের পরিবারের সবকটা বাচ্চার সঙ্গে দারুণ ভাব ছিল, মায়ের সঙ্গেও আড্ডা দিত। ইদানিং যোগাযোগ রাখতো না বিশেষ। নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিল, কেন জানি না। কী হল ওর? কোথায় গেল? উৎসবের অন্তর্ধানের কিনারা হোক তাড়াতাড়ি। আর তো পারা যাচ্ছে না! শোক আর শক্ নেবার ও একটা সীমা থাকে!” এই কথাগুলোর মধ্যে শুধু উদ্বেগ নয়, ব্যক্তিগত সম্পর্কের এক গভীর টানও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সুদীপ্তার বক্তব্যে একটা বড় বিষয় সামনে এসেছে, শিল্পী সমাজের পারস্পরিক দায়িত্ববোধ।

আরও পড়ুনঃ “এই অস্বাভাবিক শুনানিতে ১৩ বছরের বাচ্চার মনে…” মা প্রিয়াঙ্কার একার সংগ্রাম, বাবাকে হারিয়ে কিশোর বয়সেই নিঃসঙ্গ লড়াই, সহজের হয়ে কলম ধরলেন সন্দীপ্তা সেন! লিখলেন কী?

তিনি শুধু প্রশ্ন তোলেননি, একই সঙ্গে ইঙ্গিত করেছেন যে এই সময়ে একা পড়ে যাওয়া পরিবারের পাশে দাঁড়ানোও জরুরি। তাঁর কথায় এটাও স্পষ্ট যে উৎসব শুধু একজন পরিচালক নন, ব্যক্তিগত জীবনে অনেকের কাছেই কাছের মানুষ ছিলেন। ফলে এই নিখোঁজ ঘটনা শুধুমাত্র একটি খবর নয়, বরং একাধিক সম্পর্ক, স্মৃতি আর উদ্বেগের মিশ্র প্রতিচ্ছবি। এখন সবার একটাই আশা, যত দ্রুত সম্ভব এই রহস্যের সমাধান হোক এবং উৎসবের নিরাপদ খোঁজ মিলুক।

You cannot copy content of this page