“ট্রেনের ধাক্কায় মা’রা গিয়েছি ভেবে ওই অবস্থায় ফেলেই পালালো প্রোডাকশন টিম” বিনা অনুমতিতে রেললাইনে শুটিং, মৃ’ত্যুর মুখে অভিনেতা রোহান ভট্টাচার্য! একই ভাবে রাহুলের অকাল মৃ’ত্যু? অভিনেতার বি’স্ফোরক বয়ানে নড়েছে টনক?

টলিউডে এই মুহূর্তে একদিকে যেমন রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ এবং উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, অন্যদিকে অভিনেতা রোহণ ভট্টাচার্য আবার এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন, যা আরও বড় একটি সংকটের ইঙ্গিত দেয়। রোহণ সম্প্রতি একটি আর্টিস্ট ফোরামের মিটিংয়ে উপস্থিত হতে পারেননি কারণ তিনি তখন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তবে সেখান থেকে তিনি তার এক মর্মান্তিক ঘটনা শেয়ার করেন, যা ২০১২ সালের এক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে। তখন তিনি ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন এবং সেই সময় প্রোডাকশন টিম তার পাশে ছিল না। বরং দুর্ঘটনার পর তারা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে গিয়েছিল।

২০১২ সালে রোহণের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনাটি ছিল খুবই আতঙ্কজনক। তিনি জানান, ওই সময় রেললাইনে শুটিং চলছিল, তবে অনুমতি ছাড়া। তার বক্তব্য অনুযায়ী, “দার্জিলিং মেল” ট্রেনটি তাকে ধাক্কা দিলে, প্রোডাকশন টিমের অধিকাংশ সদস্য সেখানে থেকে পালিয়ে যায়। সবাই ভেবেছিল, ট্রেনের ধাক্কার পর তিনি আর বেঁচে নেই। কিন্তু সেই সময় কিছু স্থানীয় মানুষ এবং কিছু টেকনিশিয়ান তাকে উদ্ধার করেন। তিনি আরও জানান, যদি সেদিন তিনি মারা যেতেন, তবে কেউ জানত না যে শুটিংয়ের জন্য তিনি রেললাইনে ছিলেন।

রোহণের এই অভিজ্ঞতা টলিউডের শুটিং পরিবেশের প্রতি একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে। তিনি অভিযোগ করেন যে, শুটিংয়ের সময় শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রায়ই অবহেলা করা হয়। প্রোডাকশন টিমের কোনো দায়বদ্ধতা থাকে না এবং শুটিংয়ের সময় শিল্পীদের জীবন যেন একটি ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়। একদিকে যেখানে শিল্পীরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে কাজ করেন, সেখানে প্রযোজনা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে কোনো রকম সুরক্ষা বা সহায়তা মেলে না। রোহণের এই স্বীকারোক্তি টলিউডের অন্দরে আরও বেশ কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

আরও পড়ুনঃ “যতই স্কিমবাজ ও ম্যানিপুলেটর বলো না কেন, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় হওয়া সহজ নয়!” নিষ্ক্রিয় হলে দোষ, সক্রিয় হলেও দোষ? রাহুলের মৃ’ত্যুতে এগিয়ে এসেও কটাক্ষের মুখে ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’, পাশে দাঁড়ালেন সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়! “এজেন্ডা নিয়ে পরিস্থিতিকে জটিল করছেন” নাম না করে কাকে খোঁচা অভিনেতার?

রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর শিল্পী ও টেকনিশিয়ানরা তাদের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য একত্রিত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি কর্মবিরতি পালিত হয় এবং স্টুডিওতে মিটিংও অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন একাধিক অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং টেকনিশিয়ানরা। তারা নতুন SOP (Standard Operating Procedure) তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো অভিনেতা বা টেকনিশিয়ান তাদের জীবনের ঝুঁকি না নেন। রোহণও তার পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন, যদিও শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি।

রোহণ ভট্টাচার্য তার জীবনের একটি বড় ক্ষতর দাগ দেখিয়ে তার সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, যা টলিউডের প্রতিটি সদস্যের জন্য একটি গুরুতর সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে। তিনি বলছেন, “যতক্ষণ না টলিউডের প্রযোজনা সংস্থাগুলি তাদের দায়বদ্ধতা অনুভব করবে, ততক্ষণ এমন দুর্ঘটনা অবশ্যম্ভাবী।” এই ঘটনার পর থেকে অভিনেতা ও টেকনিশিয়ানদের মধ্যে সুরক্ষা নিয়ে আলোচনার আভাস আরও জোরালো হয়েছে। সকলের একটাই দাবি, ভবিষ্যতে যেন কোনো রাহুল বা রোহণের মতো ঘটনা আর না ঘটে।

You cannot copy content of this page