“চিরসখা বন্ধ হওয়ায় আমার কিছু যাবে না, টেকনিশিয়ানদের অবস্থা ভয়ঙ্কর, এটা অনুচিত হলো” রাহুলের মৃ’ত্যুতে এক প্রকার লীনার পাশে দাঁড়ালেন রাজা গোস্বামী! ‘নিজের স্বার্থে ঘা পড়তেই সোচ্চার, রাহুলের মৃ’ত্যু নিয়ে একটা শব্দও তো বলেননি’ অভিনেতাকে ধুয়ে দিল নেটপাড়া!

টলিপাড়ায় সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জেরে হঠাৎ করেই থেমে গেল ‘চিরসখা’ (Chiroshokha) ধারাবাহিকের পথচলা। এই সিদ্ধান্তের পেছনে অবশ্যই রয়েছে ইন্ডাস্ট্রির একাংশের অবস্থান, যেখানে নির্দিষ্ট প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর সঙ্গে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই প্রভাব সরাসরি এসে পড়ে এই ধারাবাহিকের উপর। কিন্তু এই বন্ধ হয়ে যাওয়া শুধু একটি প্রোজেক্ট থেমে যাওয়া নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বহু মানুষের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে!

এই পরিস্থিতিতেই এদিন ফেসবুক লাইভে এসে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ‘চিরসখা’ ধারাবাহিকের ‘বাবিল’ ওরফে ‘রাজা গোস্বামী’ (Raja Goswami)। পাশে ছিলেন তাঁর স্ত্রী মধুবনী গোস্বামীও। তাঁর কথায়, একটি ধারাবাহিক হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে শুধু অভিনেতাদের নয়, টেকনিশিয়ান থেকে শুরু করে বহু পরিশ্রমী মানুষের রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়া। তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন, যেখানে কাল এক টেকনিশিয়ানকে ফোন করতেই পরিবারের চরম হতাশার কথা শুনে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

তাঁরা নিজেদের জীবন শেষ করে দিতে চাইছে! সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে বাধ্য করেছে বলে জানান তিনি। রাজা বোঝানোর চেষ্টা করেন, এই লড়াইটা শুধুমাত্র নিজের কাজ বা আয়ের জন্য নয়। বরং ভবিষ্যতে নিজের সন্তানের সামনে যেন তিনি চুপ করে থাকার ব্যাখ্যা না দিতে হয়, সেই জায়গা থেকেই তিনি কথা বলছেন। তাঁর মতে, কোনও সিরিয়াল স্বাভাবিক কারণে বন্ধ হওয়া আর জোর করে বন্ধ করে দেওয়ার মধ্যে বড় পার্থক্য আছে।

সেই প্রশ্নটাই তিনি তুলেছেন, এই পরিস্থিতিতে দায় কার আর কেন নির্দিষ্ট একটি প্রোজেক্ট থেমে গেল? তিনি যদিও বলেন, “মধুবনী দীর্ঘদিন অভিনয় করেনি তাতে আমার কোন যায় আসে না। আজ আমার কাজ নেই বলেছে খুব অসুবিধা হবে তেমনটা নয়। আমার আয়ের হয়তো ১৫ শতাংশ আসে ধারাবাহিকে অভিনয় করে। কিন্তু বাকিদের ক্ষেত্রে একই নয় বিষয়টা। এক সময় আমিও ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে এই অনিশ্চিত পথে এসেছিলাম। আজ হয়তো একটা কাজ বন্ধ হলে আরেকটা কাজ পেয়ে যাব কিন্তু টাকার অভাবে বলছি এমনটা নয়।”

তবে, তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর প্রতিক্রিয়া একরকম হয়নি। অনেকেই তাঁর কথাকে সমর্থন করেছেন, আবার বড় একটি অংশ সরাসরি কটাক্ষ ছুড়েছেন। কেউ লিখেছেন, “দু’জন এরকম নাটক করছেন কেন? সিরিয়ালের টাকা যখন জীবনে লাগেই না তাহলে নিজেরাও তো কিছু টাকা দিয়ে সাহায্য করতে পারে টেকনিশিয়ানদের!” আবার অন্য একজনের মন্তব্য, “রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় এর মৃ’ত্যু নিয়ে আপনার কোনও বক্তব্য ছিল না, এখনও পর্যন্ত নেই। যেই স্বার্থে ঘা পড়েছে তেমনি সোচ্চার হয়েছেন!

আরও পড়ুনঃ “যতদিন না তদন্তের নিষ্পত্তি হচ্ছে আমি ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ ও লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের পাশে আছি” এক্সি’ডেন্ট করলে গাড়ির লাইসেন্স যায় না, একটা ভুলের জন্য সব বন্ধ হবে কেন? ‘বেকার ভাতা’ পোস্ট বিতর্ক, অবস্থান স্পষ্ট করে প্রকাশ্যে লীনার পাশে দাঁড়ালেন ভিভান!

এতদিন কি করছিলেন দাদাভাই? মৃ’ত্যুর বিচার, তদন্ত নিয়ে একটা শব্দও তো এই ভিডিওতেও আপনার মুখ থেকে বেরোলো না!” এই ঘটনায় পরিষ্কার, বিষয়টি এখন শুধুমাত্র একটি ধারাবাহিক বন্ধ হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। একদিকে ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে ব্যক্তিগত অবস্থান মিলিয়ে তৈরি হয়েছে জটিল পরিস্থিতি। রাজা ও মধুবনীর বক্তব্য যেমন কিছু মানুষের সমর্থন পেয়েছে, তেমনই প্রশ্নের মুখেও পড়েছে। ফলে বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে, আর ‘চিরসখা’ এখন এক বড় আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে!

You cannot copy content of this page