“যতই স্কিমবাজ ও ম্যানিপুলেটর বলো না কেন, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় হওয়া সহজ নয়!” নিষ্ক্রিয় হলে দোষ, সক্রিয় হলেও দোষ? রাহুলের মৃ’ত্যুতে এগিয়ে এসেও কটাক্ষের মুখে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, পাশে দাঁড়ালেন সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়! “কেউ এজেন্ডা নিয়ে পরিস্থিতিকে জটিল করছেন” নাম না করে কাকে খোঁচা অভিনেতার?

টলিউডে যেন এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে এসেছে। আলো-ঝলমলে সেট, ক্যামেরা, অ্যাকশনের ভিড়ের মাঝেও এখন বারবার ফিরে আসছে একটাই নাম, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অকাল মৃত্যু শুধু একজন অভিনেতার প্রয়াণ নয়, বরং গোটা ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তা, দায়িত্ববোধ এবং কাজের পরিবেশ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। শোকের আবহের মধ্যেই ধীরে ধীরে সামনে আসছে নানা মত, পাল্টা মত এবং বিতর্ক।

ঘটনার পরপরই টলিউডের শিল্পী ও কলাকুশলীরা একজোট হন। একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ঠিক হয়েছিল, প্রতিবাদ হিসেবে শুটিং বন্ধ রাখা হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত বদলায়। পুরো ইন্ডাস্ট্রির কাজ বন্ধ না রেখে, শুধুমাত্র সেই নির্দিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে অর্থাৎ ম্যাজিক মোমেন্টসের সঙ্গে আপাতত কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার প্রজেক্টে কাজ করতে গিয়েই রাহুলের মৃত্যু হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি ছিল, ইন্ডাস্ট্রিকে সচল রেখে প্রতিবাদ জানানো, যাতে একদিকে কাজও চলতে পারে, অন্যদিকে দায়িত্বও নির্ধারণ হয়।

এই ঘটনার পর থেকেই বিশেষভাবে নজরে আসেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। প্রথম দিন থেকেই তিনি রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কার পাশে দাঁড়িয়েছেন, থানা, মিটিং, আইনি পদক্ষেপ, সব ক্ষেত্রেই সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন। তবুও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে উঠতে থাকে নানা অভিযোগ। কেউ তাঁকে ‘নিষ্ক্রিয়’ বলছেন, আবার কেউ বলছেন তিনি নাকি নিজের সুবিধামতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এই দ্বিমুখী সমালোচনাই ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে নতুন করে অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি করেছে।

এই পরিস্থিতিতেই মুখ খুলেছেন অভিনেতা সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন যখন আর্টিস্ট ফোরাম (Artist Forum) চুপ ছিল, তখন সমালোচনা হয়েছে, আর এখন সক্রিয় হলে, তখনও সমালোচনা! তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রসেনজিৎ একা কোনও সিদ্ধান্ত নেননি, বরং পুরো কমিটির সম্মতিতেই সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কিছু মানুষ নিজেদের আলাদা ‘এজেন্ডা’ নিয়ে পরিস্থিতিকে জটিল করার চেষ্টা করছেন। যদিও কারও নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি, তাঁর কথায় ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে গিয়েছে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রর দিকে। সুরজিতের মতে, এমন সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত প্রচার বা বিতর্ক তৈরি করা একেবারেই অনুচিত।

আরও পড়ুনঃ “আমি আজকের পোস্টের বক্তব্য ফেরত নিচ্ছি” রাতারাতি বন্ধ ‘চিরসখা’, প্রতিক্রিয়ায় ভিভানের ‘বেকার ভাতা’ পোস্ট নিয়ে শোরগোল সমাজ মাধ্যমে! উত্তেজনা বাড়তেই তলব করে আর্টিস্টস ফোরাম! কী এমন ঘটেছে, কথা ফিরিয়ে নিলেন অভিনেতা?

অভিনেতা আরও বলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে যেভাবে বারবার প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, তা একেবারেই অযৌক্তিক। তাঁর কথায়, একজন শিল্পী হিসেবে এত বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রির জন্য কাজ করা, বিপদের সময় সামনে এসে দাঁড়ানো এই সব কিছুই সহজ নয়। তিনি জানান, যাঁরা আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় বসে সমালোচনা করছেন, তাঁরা হয়তো জানেন না এই দায়িত্ব কতটা বড়। সুরজিতের ভাষায়, “প্রসেনজিৎ হয়ে ওঠা এত সহজ নয়” কারণ শুধু জনপ্রিয়তা নয়, তার সঙ্গে লাগে দায়িত্ববোধ, নেতৃত্ব এবং কঠিন সময়ে সবার পাশে থাকার মানসিকতা। তাই এই মুহূর্তে ব্যক্তিগত আক্রমণ বন্ধ করে একজোট হয়ে সত্যিটা সামনে আনার দিকেই জোর দেওয়া উচিত বলেই বার্তা দেন তিনি।

You cannot copy content of this page