৩০ বছরের অভিমান গলল! একই মঞ্চে হাত ধরে ফিরলেন মমতা শঙ্কর ও তনুশ্রী শঙ্কর! আবেগে ভাসালেন দুই দিকপাল, দর্শক হলেন ইতিহাসের সাক্ষী! ভেঙে গেল দূরত্ব, ফিরল কি পুরনো সম্পর্কের উষ্ণতা?

কলকাতার সাংস্কৃতিক পরিসরে এমন কিছু সন্ধ্যা আসে, যা কেবল একটি অনুষ্ঠান হয়ে থাকে না, তা হয়ে ওঠে অনুভূতির এক গভীর অধ্যায়। গতকাল অর্থাৎ ৭ এপ্রিল শহরের শিল্পমহলে ঠিক তেমনই এক আবহ তৈরি হয়েছিল। অনেকেই জানতেন, কিছু বিশেষ ঘটতে চলেছে, কিন্তু সেই মুহূর্ত কতটা আবেগঘন হতে পারে, তা যেন আগে থেকে আন্দাজ করা যায়নি। একসঙ্গে ইতিহাস, সম্পর্ক আর শিল্প সব মিলিয়ে এক অন্যরকম প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল দর্শকদের মধ্যে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে একের পর এক পরিবেশনা চললেও, সবার অপেক্ষা ছিল একটি বিশেষ মুহূর্তের জন্য। খবর ছড়িয়েছিল, বহু বছর পর একসঙ্গে দেখা যেতে পারে দুই কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পীকে। সেই প্রত্যাশা নিয়েই ভরে উঠেছিল অডিটোরিয়াম। প্রত্যেকের চোখে তখন কৌতূহল সত্যিই কি সেই পুরনো জুটি আবার ফিরবে মঞ্চে?

অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কলকাতার বিড়লা অ্যাকাডেমি অফ আর্ট অ্যান্ড কালচার-এর মঞ্চে হাত ধরে একসঙ্গে মঞ্চে উঠেছিলেন মমতা শঙ্কর এবং তনুশ্রী শঙ্কর। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর তাঁদের এই একসঙ্গে উপস্থিতি মুহূর্তের মধ্যেই আবেগে ভাসিয়ে দেয় দর্শকদের। একজন শঙ্কর পরিবারের কন্যা, অন্যজন সেই পরিবারের পুত্রবধূ এই সম্পর্কের গভীরতা যেন মঞ্চেই নতুন করে জীবন্ত হয়ে উঠল।

প্রীতি প্যাটেলের আয়োজিত ‘সম্প্রতী কনফ্লুয়েন্স অফ লেগেসিজ’ অনুষ্ঠানে তাঁরা পরিবেশন করেন আনন্দ শঙ্কর-এর কালজয়ী সুর ‘Snow Flower’-এর ওপর নৃত্য। সেই পরিবেশনায় ছিল ক্লাসিক্যাল ধারা ও আধুনিকতার সুন্দর মেলবন্ধন। প্রতিটি ভঙ্গিমা, প্রতিটি অভিব্যক্তি যেন গল্প বলছিল। শেষ হওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ ধরে চলতে থাকে করতালি, বহু দর্শক উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানান, এক কথায় স্ট্যান্ডিং ওভেশন।

আরও পড়ুনঃ লীনার ধারাবাহিক ছেড়ে দেওয়াতেই কেরিয়ারে ধাক্কা! ‘ইষ্টি কুটুম’ ছাড়ার পর কেন হারিয়ে গিয়েছিলেন? ‘ব্যান’ করা হয়েছিল? অবশেষে মুখ খুললেন রণিতা দাস, জানালেন সবটা!

তবে এই সন্ধ্যার আসল শক্তি ছিল আবেগে। মঞ্চে তাঁদের একসঙ্গে হাত ধরা, একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসি সবকিছুতেই ফুটে উঠছিল বহু বছরের সম্পর্ক আর অটুট ভালোবাসা। এতদিন পরেও সেই বোঝাপড়া একটুও কমেনি, বরং আরও গভীর হয়েছে। কলকাতার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এই মুহূর্ত তাই বিশেষ জায়গা করে নিল। যেখানে প্রমাণ হল, সত্যিকারের সম্পর্ক আর শিল্প কোনোটাই সময়ের সঙ্গে ম্লান হয়ে যায় না।

You cannot copy content of this page