বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে একের পর এক নতুন সমীকরণের খবর সামনে আসছে। রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা, দলের ভিতরে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে দিল্লিতেও তৃণমূলের একাংশ সাংসদ নাকি নতুন রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে ভাবছেন বলে জল্পনা ছড়িয়েছে। সেই তালিকায় অভিনেত্রী ও সাংসদ জুন মালিয়ার নামও উঠে এসেছে। এই আবহেই তাঁকে ঘিরে একটি পুরনো ভিডিও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। ভিডিওটিকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক এবং বিনোদন জগতের নতুন বিতর্ক।
সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে জুন মালিয়াকে বলতে শোনা যায়, “৫ তারিখে (ভোটের রেজাল্টের পরদিন) ডিজে বাজবে”। যদিও ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। তবুও ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি টলিউডের অনেকেও এই প্রসঙ্গে মত প্রকাশ করছেন। এর মধ্যেই অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র নিজের ফেসবুক পোস্টে জুন মালিয়ার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি ওই ভিডিওর প্রসঙ্গ তুলে সরাসরি জুনকে উদ্দেশ্য করেই একাধিক মন্তব্য করেন। সেই পোস্টই এখন নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
শ্রীলেখা তাঁর পোস্টে লেখেন, “জুন, এই একটা ভিডিয়োই সবটা পরিষ্কার করে দিচ্ছে। ক্ষমতার শীর্ষে বসে আপনারা সাধারণ মানুষকে উসকে দেন, হিংসা ছড়াতে প্ররোচনা দেন। আর নিজেরা নিজেদের বাড়ির নিরাপদ ঘেরাটোপে সিকিউরিটি গার্ড পরিবেষ্টিত হয়ে বসে থাকেন।” এরপর তিনি আরও বলেন, “আপনাদের মতো সুযোগসুবিধাপ্রাপ্ত নেতাদের প্রতিটা কথা বিশ্বাস করে গরিব, উশৃঙ্খল জনতা রাস্তায় নেমে পড়ে। তার জন্য হয়তো তারা নিজেদের জীবন, রুটিরুজি হারায়… কিন্তু কীসের জন্য?” একই সঙ্গে তিনি দলবদলের জল্পনা নিয়েও কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্য, “আর আপনারা? এই দলবদলুরা, যারা একসময় দিদির ভীষণ অনুগত ভাই-বোন ছিলেন, পদ্মফুল শিবির ক্ষমতার ডানা মেলতেই সেখানে গিয়ে আশ্রয় নিলেন।”
তৃণমূলের তথাকথিত ‘ভালো’ নেতাদেরও একহাত নেন শ্রীলেখা। তিনি লেখেন, “নিজেদের দায়বদ্ধতার কথা ভেবে আপনাদের চোখের পলকও পড়ে না, ওহ সো ‘ভালো তৃণমূলী’রা!” পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, “আপনাদের একসময়ের প্রিয় দিদি নিশ্চয়ই আজ নিজেকেই অভিশাপ দিচ্ছেন আপনাদের সবাইকে নিজের আঁচলতলায় আশ্রয় দেওয়ার জন্য। সত্যি বলতে, তাঁর (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) জন্য এখন আমার কষ্টই হচ্ছে।” শ্রীলেখার এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহল এবং টলিউডে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ একসময় একই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করলেও বর্তমানে তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আরও পড়ুনঃ “রিয়্যালিটি শোয়ের ভবিষ্যৎ কি শুধুই মাচা?” নতুন প্রতিভা তুলে আনলেও, কেন দীর্ঘমেয়াদি পরিচয় গড়ে তুলতে পারছে না তারা? নেপথ্যে কি এই প্রজন্মের বিলাসিতা এবং অতিরিক্ত অহংকার? এইসব শিল্পীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী বলছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়?
চলতি মাসে জুন মালিয়ার জন্মদিনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন শ্রীলেখা। তিনি লেখেন, “এই মাসেই তোমার জন্মদিন। আমি তোমাকে অনুরোধ করব, অন্তত একবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মুখোমুখি হও। তুমি কি নিজের সন্তানদের এটাই শেখাতে চাও?” পোস্টের শেষ অংশে তিনি আরও লেখেন, “তোমার একসময়ের সহকর্মী এবং একজন মা হিসেবে আমি অনুরোধ করছি, নিজের অন্তরের কথা শোনো এবং তোমার দলের কর্মীসহ সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমা চাও। ক্ষমা চাইলে তোমার নিজেরই ভালো লাগবে, আমি নিশ্চিত।” জুন মালিয়াকে ঘিরে দলবদলের জল্পনা এবং তার পর শ্রীলেখা মিত্রর এই বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া মিলিয়ে বর্তমানে রাজনীতি ও বিনোদন জগতের এই বিতর্কই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।






