কথা রাখলেন দেব! ৭২ ঘণ্টার প্রতিশ্রুতিতে নি’ষিদ্ধ শিল্পীরা ফিরলেন কাজে! মেগাস্টারের পদক্ষেপে, অশান্ত টলিপাড়ায় ফিরছে স্বস্তি! কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কী বার্তা তাঁর?

গত সপ্তাহে টলিউডে অকাল প্রয়াত অভিনেতা ও নাট্যব্যক্তিত্ব রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যুর তদন্তের দাবিতে কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছিল। ৭ এপ্রিল এই কর্মবিরতি ঘোষণা করা হলেও শর্তসাপেক্ষভাবে তা ৮ এপ্রিল অর্থাৎ বুধবার থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। এতে টলিপাড়া আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে এসেছে। মঙ্গলবার, রাহুলের জন্য বিচার দাবি করে শিল্পী-কলাকুশলীরা যখন একত্রিত হয়েছিল, তখনই টলিউড সুপারস্টার দেব নিষিদ্ধ শিল্পীদের কাজে ফেরানোর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে সামনে আনেন।

টেকনিশিয়ান স্টুডিওর বৈঠক শেষে দেব প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ‘ডেডলাইন’ দেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, এই সময়ের মধ্যে যদি শিল্পীরা স্বাভাবিকভাবে কাজে ফিরে আসেন, তা ইন্ডাস্ট্রির জন্য ইতিবাচক হবে। এই ডেডলাইনের মাধ্যমে টলিপাড়ার মধ্যে একটি শান্তিপূর্ণ এবং সম্মানভিত্তিক পরিবেশ গড়ে তোলার বার্তা দেওয়া হয়। দেবের এই পদক্ষেপে অনেকেই খুশি হয়েছেন এবং এটিকে শিল্পীদের মধ্যে সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

ডেব সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানিয়েছেন, ‘ডিরেক্টরস’ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে কমপিটিশন কমিশন অফ ইন্ডিয়ার কাছে দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি আরও লিখেছেন, এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ যা শিল্পীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সহযোগিতার মনোভাব তৈরি করবে। এই ঘটনায় দেব ব্যক্তিগতভাবে খুবই খুশি হয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে এটি টলিউডের উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিষিদ্ধ শিল্পীদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানহানি মামলাতেও স্বস্তি এসেছে। উল্লেখ্য, এই মামলায় কয়েকজন শিল্পীও স্বমত প্রকাশ করেছিলেন। নতুন পরিস্থিতিতে শিল্পী ও পরিচালকদের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুসংহত হওয়ার আশ্বাস মিলেছে। শিল্পীরা একত্রে কাজ করার মাধ্যমে টলিপাড়াকে আরও শক্তিশালী এবং ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্য রাখছেন।

আরও পড়ুনঃ “আজ মৃ’তপ্রায়, শ্রেষ্ঠ হতে পারতাম…এখন চোখ শুধু টাকার দিকে” “এদের দালাল বললেও সমস্যা নেই, ফ্ল্যাট ও গাড়ি হবে, বৌয়ের সোনার গয়না” বিলাসিতার লোভে মূল্যবোধ, মানবিকতা শেষ! রাহুলের মৃ’ত্যুতে টলিউড নিয়ে সবর অর্জুন চক্রবর্তী! ‘মানবিকতা হারালে সাফল্য অর্থহীন’, কাদের উদ্দেশ্যে পরোক্ষ বার্তা অভিনেতার?

শুধু নিষিদ্ধ শিল্পীদের ফিরে আসাই নয়, এই উদ্যোগ পুরো ইন্ডাস্ট্রির জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলার একটি পদক্ষেপ হিসাবেও ধরা হচ্ছে। দেবের ডেডলাইন এবং শিল্পীদের প্রতিক্রিয়া টলিপাড়ার জন্য ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। শিল্পী ও পরিচালকদের মধ্যে বোঝাপড়া বৃদ্ধি পেলে ভবিষ্যতে একই ধরনের সমস্যা এড়ানো সম্ভব হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে টলিউড আরও মজবুত ও একজোট হয়ে উঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

You cannot copy content of this page