গত ২৯ মার্চ সন্ধ্যার পর হঠাৎই আসে এমন এক দুঃসংবাদ, যা এখনও মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু বাংলা বিনোদন জগতে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছিল। সময় এগোলেও সেই শূন্যতা এখনও অনুভব করছেন তাঁর কাছের মানুষরা। পরিবারের সদস্যরাও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। বর্তমানে তাঁর নতুন কাজ ‘তারকাটা’ ঘিরে ব্যস্ততা থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনের নানা প্রশ্ন এখনও তাঁকে ঘিরে রয়েছে। বিশেষ করে ছেলে সহজকে নিয়ে মানুষের আগ্রহ কমেনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কার কাছে জানতে চাওয়া হয়, গত আড়াই মাস কীভাবে কেটেছে তাঁদের এবং এখন কেমন আছে সহজ। সেই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী বলেন, “ব্যস্ত আছি। তাই হয়তো ভালো আছি। তবে সহজ কেমন আছে, এই উত্তর তখনও দিতে পারিনি, এখনও দেবো না। ওর হয়ে উত্তর দেওয়ার কোনও অধিকার আমার নেই।” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, ছেলের ব্যক্তিগত অনুভূতিকে তিনি যথেষ্ট গুরুত্ব দেন। সহজ নিজের মনের কথা নিজেই বলুক, সেটাই চান প্রিয়াঙ্কা। তাই এই বিষয়ে তিনি প্রকাশ্যে খুব বেশি কিছু বলতে চাননি।
ছেলেকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী আরও বলেন, “কেমন আছে সেটা কোনও দিন যদি ও বলতে চায়, তা হলে সেটা ও-ই বলবে। কারণ, ওর-ই বলা উচিত।” প্রিয়াঙ্কার মতে, একজন মানুষের অনুভূতি অন্য কেউ প্রকাশ করতে পারে না। বিশেষ করে এমন একটি কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার পর প্রত্যেকের মানসিক অবস্থাই আলাদা হতে পারে। তাই সহজের হয়ে কোনও মন্তব্য করা তাঁর পক্ষে ঠিক হবে না বলেই মনে করেন তিনি। ছেলের মতামত ও ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান জানিয়ে তিনি এই অবস্থান নিয়েছেন।
নিজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রিয়াঙ্কা জানান, সব সময় একই রকম অনুভূতি থাকে না। কখনও কাজের মধ্যে থাকলে নিজেকে ভালো লাগে, আবার একা থাকলে মন অন্যরকমও হতে পারে। তাঁর কথায়, “এটা দিয়ে তো সবটা বিচার করা যায় না। এক একটা মুহূর্তে আমি নানা রকম থাকছি। সহজও হয়তো তাই।” তিনি জানান, তাঁরা দু’জনেই নিজেদের মতো করে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবনকে নতুনভাবে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও ইঙ্গিত দেন অভিনেত্রী।
প্রিয়াঙ্কা আরও বলেন, “নিজেদের মতো করে সব কিছু সামলানোর চেষ্টা করছি। চেষ্টা করছি যাতে একে অন্যের সঙ্গে কথা বলার জায়গাটা ওপেন রাখতে পারি। খারাপ থাকলে সেটাও যাতে বলতে পারি, আবার যাতে ভালো কথা, ওপেন কথা বলতে পারি সেই চেষ্টাও করছি। একে অন্যের পাশে থাকার চেষ্টাও করছি।” বয়স ও প্রজন্মের পার্থক্য থাকলেও সহজ তাঁর জীবনের বড় অনুপ্রেরণার উৎস বলেও জানান অভিনেত্রী। কাজের ব্যস্ততার বাইরে মা-ছেলে নিজেদের মতো সময় কাটাতে ভালোবাসেন। কঠিন সময়ের মধ্যেও পরস্পরের পাশে থেকে জীবনকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।






