“রোজ আমাদের ব্রা, প্যা’ন্টি, স্যানি’টারি ন্যাপকিন, কন্ড’ম সবার সামনে খুলে দিচ্ছি…মানুষের আকর্ষণ থাকবে কোথায়?” অন্দরমহলের ‘নোং’রা’ প্রকাশ্যে আসছে দিনে দিনে, বি’স্ফোরক মন্তব্য স্বস্তিকা মুখার্জির! ইন্ডাস্ট্রির অবনতির জন্য কার দিকে আঙুল তুললেন অভিনেত্রী?

বাংলা ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সাহসী ও স্পষ্টভাষী অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জি। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের মতামত নির্ভয়ে প্রকাশ করার জন্য তিনি বরাবরই আলোচনায় থাকেন। ব্যক্তিগত হোক বা পেশাগত, যে কোনও বিষয়ে খোলামেলা বক্তব্য রাখতে তিনি পিছপা হন না। আর এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহল, কাজের পরিবেশ, নিরাপত্তাহীনতা থেকে শুরু করে সহকর্মীদের মনোভাব, সবকিছু নিয়েই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী, যা ইতিমধ্যেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

স্বস্তিকা মুখার্জির কথায়, টলিউড ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের পরিবেশ ক্রমশ “অস্বাস্থ্যকর” হয়ে উঠছে। তাঁর অভিযোগ, “এখানে কোনও ঐক্য নেই, এখানে কেউ কারও নয়।” একজন শিল্পী কাজ করতে করতে মারা গেলেও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সেইরকম কোনও প্রতিক্রিয়া বা সংহতি দেখা যায় না। বরং সবাই দায় এড়ানোর চেষ্টা করে। অভিনেত্রীর কথায়, একজন মৃত মানুষের প্রতিও ন্যূনতম সম্মান দেখানো হয় না বরং তার ঘাড়েই দোষ চাপানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুটিং সেটে নিরাপত্তার চরম অভাব রয়েছে। এমনকি একটি সাধারণ ফার্স্ট এইড বক্স পর্যন্ত থাকে না। কোথাও কেউ আহত হলে তখনই বাজার থেকে ব্যান্ডেজ বা ওষুধ কিনে আনা হয়। রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জীর মৃত্যুতে স্বস্তিকার প্রশ্ন তোলেন, “মানুষ জলে ডুবে মারা যাচ্ছে, অথচ তার আগেও কোনও সেফটি মেজার নেওয়া হয়নি?” তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন। এছাড়াও তিনি জানিয়েছেন, “আমরা রোজ আমাদের ব্রা, প্যান্টি, স্যানিটারি ন্যাপকিন, কন্ডমসব কিছু মানুষের সামনে ধুয়ে দিচ্ছি।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ইন্ডাস্ট্রির ব্যক্তিগত ও অন্তর্দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে চলে আসছে, যা দর্শকদের কাছে বিরক্তিকর হয়ে উঠছে। তাঁর মতে, এই ধরনের আচরণ ইন্ডাস্ট্রির ভাবমূর্তি নষ্ট করছে এবং দর্শকদের আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে।

স্বস্তিকা আরও অভিযোগ করেন, কাজের ক্ষেত্রে শিল্পীদের উপর প্রচণ্ড চাপ থাকে। অনেক সময় ঝুঁকি জেনেও তারা কাজ করতে বাধ্য হন, কারণ “না বললে কাজ চলে যাবে।” তাঁর কথায়, “একটা ভালো শটের জন্য আমরা জীবনকেও ঝুঁকিতে ফেলি।” ইন্ডাস্ট্রির আরেকটি বড় সমস্যা হিসেবে তিনি তুলে ধরেন ‘ভয়’। তাঁর মতে, এখানে কেউ মুখ খুলতে চায় না, কারণ সবাই ভয় পায় “আমি কাজ পাবো না, অন্য কেউ এসে আমার জায়গা নিয়ে নেবে।” এই ভয়ের সংস্কৃতি শিল্পীদের চুপ করে থাকতে বাধ্য করছে। এছাড়াও, স্বস্তিকা মুখার্জি তীব্র কটাক্ষ করেন সেইসব শিল্পীদের দিকে, যারা সবসময় বাউন্সার নিয়ে ঘোরেন বা নিজেদের ‘স্টার’ প্রমাণ করতে চান। তাঁর মতে, যেখানে ন্যূনতম নিরাপত্তা বা কাজের পরিবেশ নেই, সেখানে এই ধরনের বাহুল্য সম্পূর্ণ অর্থহীন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ফাঁকা রাস্তায় চারজন বাউন্সার নিয়ে ঘুরে কি প্রমাণ করতে চায়?”

রাজনীতিতে যোগ দেওয়া নিয়েও তিনি সরব হন। অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী রাজনীতিতে যোগ দিয়ে বলেন যে তারা ‘মানুষের জন্য কাজ করতে চান’। এই প্রসঙ্গে স্বস্তিকার প্রশ্ন, “মানুষের জন্য কাজ করতে কি রাজনীতিতে যেতেই হবে?” তাঁর দাবি, নিজের অবস্থান থেকেই সমাজের জন্য কাজ করা যায়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান নিয়েও তাঁর ক্ষোভ স্পষ্ট। তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক ‘আইকন অ্যাওয়ার্ড’ বা অন্যান্য অনুষ্ঠানের কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। তাঁর মতে, এসব অনুষ্ঠানে অর্থ খরচ করে বাইরের তারকাদের আনা হয়, অথচ স্থানীয় শিল্পীদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় না।

আরও পড়ুনঃ “প্রকৃত বন্ধু নেই, সবাই লোক দেখানো” “সত্যিকারের বন্ধু একটা সাহায্যের গল্প হাজারটা লোকের কাছে বলে বেড়ায় না” দেবলীনা নন্দীর বি’স্ফোরক পোস্ট ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে! কোন বিশ্বাসঘা’তক বন্ধুকে উদ্দেশ্য করে গায়িকার এই খোঁচা?

সব মিলিয়ে, স্বস্তিকা মুখার্জির এই সাক্ষাৎকার যেন টলিউড ইন্ডাস্ট্রির এক অন্ধকার দিককে সামনে নিয়ে এসেছে। তাঁর একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য শুধু বিতর্কই তৈরি করেনি, বরং ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এখন দেখার, এই মন্তব্যগুলির পর ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে কোনও পরিবর্তন আসে, নাকি এই কথাগুলোও অন্য সব বিতর্কের মতোই সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে যায়।

You cannot copy content of this page