“গরিব মানুষদের মর্যাদা ফেরত দিয়েছিল বামেরাই…যেই সরকারই থাকুক ভাতা বন্ধ হবে না, পাল্টাতে চাইলে পাল্টে দিন” বিধানসভা ভোটের আবহে সরগরম রাজ্য-রাজনীতি, তার মাঝেই সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে কি বার্তা দিলেন অভিনেতা চন্দন সেন?

বাংলা থিয়েটার ও চলচ্চিত্র জগতের এক পরিচিত মুখ চন্দন সেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি শুধু অভিনেতা নন, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন। মঞ্চ থেকে রাস্তায়, সব জায়গাতেই তাঁর উপস্থিতি চোখে পড়ে। অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজ, রাজনীতি এবং সাধারণ মানুষের অধিকারের প্রশ্নে তিনি বরাবরই সরব। সেই কারণেই তাঁকে ঘিরে আগ্রহ যেমন আছে, তেমনি বিতর্কও কম নয়। তিনি বামপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং দীর্ঘদিন ধরে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত। দলীয় সভা, মিছিল বা নির্বাচনী প্রচারে তাঁকে নিয়মিত দেখা যায়।

সম্প্রতি একাধিক ইস্যুতে নিজের মতামত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন চন্দন সেন। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, একসময় কলকাতার বাইরে বাস বা ট্রেনে গরিব মানুষদের আসনে বসতে দেওয়া হতো না। তারা নিচে বসে যাতায়াত করতেন। তাঁর মতে, বামফ্রন্ট আমলেই সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। সাধারণ মানুষকে মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার কাজটি সেই সময়েই শুরু হয়েছিল। তিনি বলেন, “বামফ্রন্টই গরিব মানুষের মধ্যে আত্মসম্মান ফিরিয়ে দিয়েছিল যে তারা নিজের অধিকার নিয়ে বসতে পারে, দাঁড়াতে পারে।”

তবে এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। চন্দন সেন আরও দাবি করেন, যাঁরা একসময় এই পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ছিলেন, তাঁরাই পরে অন্য রাজনৈতিক রূপে ফিরে এসেছেন। তাঁর কথায়, “যে শক্তিগুলোকে আগে দমন করা হয়েছিল, তারাই পরে সুযোগ পেয়ে আবার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে, আজ তারা তৃণমূল বা বিজেপির রূপে দেখা যাচ্ছে।” এই মন্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বর্তমান রাজ্য সরকারের ভাতা প্রসঙ্গেও কড়া মন্তব্য করেছেন এই অভিনেতা। তাঁর বক্তব্য, ভাতা কোনও রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত অনুগ্রহ নয়। তিনি বলেন, “ভাতা সরকার নিজের পকেট থেকে দেয় না। সাধারণ মানুষ যে কর (tax) দেয়, সেই টাকার মাধ্যমেই ভাতা দেওয়া হয়।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস আমল থেকে শুরু হওয়া কোনও ভাতা কি কখনও বন্ধ হয়েছে? তাঁর মতে, ভাতা কখনও বন্ধ হয় না, বরং সময়ের সঙ্গে বাড়তেই থাকে। তাই ভাতা নিয়ে রাজনৈতিক প্রচারকে তিনি তেমন গুরুত্ব দিতে নারাজ। সেখানেই তিনি জানিয়েছেন সরকার পাল্টাতে চাইলে পাল্টে দিন ভাতার পরিবর্তন হবে না।

একই সঙ্গে তিনি বামপন্থীদের ভুল স্বীকার করতেও পিছপা হননি। তাঁর মতে, বামেরা কিছু ভুল ও বিচ্যুতি করেছিল, কিন্তু সেই ভুলের বিপরীত দিকটাও আজ প্রমাণ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “এই দীর্ঘ সময়ে অন্য রাজনৈতিক শক্তিগুলো সাধারণ মানুষের কথা কতটা ভেবেছে, সেটা এখন পরিষ্কার।” তাঁর এই মন্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর তাঁর হতাশার ইঙ্গিত স্পষ্ট।

আরও পড়ুনঃ “একরত্তি কৃষভিও বুঝতে পারছে গোপালকে ঠোঁটে চু’মু খেতে নেই” “ভগবান খেলনা নয়, ভুল শিক্ষা দেবেন না” মেয়েকে বারবার ঠাকুরকে চুমু খেতে জোর করার অভিযোগে, ফের সমালোচনার মুখে কাঞ্চন-শ্রীময়ী! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে, সন্তানকে মানুষ করা নিয়ে মা-বাবাকে খোঁচা নেটপাড়ার?

চন্দন সেন শুধু বক্তব্য দিয়েই থেমে থাকেন না, কাজের মাধ্যমেও নিজের অবস্থান প্রমাণ করেছেন। ২০২৫ সালে টেলি অ্যাকাডেমি পুরস্কারে প্রাপ্ত অর্থের একটি বড় অংশ তিনি সমাজসেবামূলক কাজে দান করেন। বিশেষ করে আরজি কর আন্দোলনের প্রতিবাদ মঞ্চে তাঁর অনুদান তাঁর মানবিকতার পরিচয় দেয়। এমনকি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মাঝেও তিনি তাঁর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থামাননি। সব মিলিয়ে, চন্দন সেন এমন এক ব্যক্তিত্ব যিনি শিল্প, রাজনীতি এবং সমাজ এই তিন ক্ষেত্রেই নিজের উপস্থিতি জোরালোভাবে জানান দেন। তাঁর বক্তব্য অনেকের কাছে বিতর্কিত হলেও, তিনি যে নিজের বিশ্বাস থেকে একচুলও সরে আসেন না, সেটাই তাঁকে আলাদা করে তুলে ধরে।

You cannot copy content of this page