“আমার মেয়ের সঙ্গে যা হয়েছে, তার শাস্তি চাই” সায়নীর রহস্যমৃ’ত্যুর পর প্রথমবার মুখ খুললেন মলি চক্রবর্তী! মেয়ের ফোনে মিলল একাধিক চ্যাট! শেষ কয়েক ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহে নতুন মোড়, সামনে এল একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য! মৃ’ত্যুর আগের দিন ঠিক কী ঘটেছিল?

সোশ্যাল মিডিয়ার পরিচিত মুখ সায়নী চক্রবর্তীর অকালমৃত্যু ঘিরে এখনও কাটেনি রহস্য। পরিচালক অনীক দত্তের মৃত্যুর পরপরই সায়নীর মৃত্যুর খবরও নাড়িয়ে দিয়েছে নেটদুনিয়াকে। অনীকের ক্ষেত্রে সুইসাইড নোটের সূত্র মিললেও সায়নীর মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছিল ধোঁয়াশা। অবশেষে এই ঘটনা নিয়ে প্রথমবার সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুললেন সায়নীর মা মলি চক্রবর্তী। তিনি মেয়ের ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক এবং মৃত্যুর আগে ঘটে যাওয়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্যের পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে পুরো ঘটনা। পরিবার এখন ঘটনার পূর্ণ তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে। মায়ের অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘সুন্দরীর দিদি’ নামে পরিচিত ছিলেন সায়নী। বাড়ির কুকুর, বিড়াল ও গরুদের নিয়ে নিয়মিত ভিডিও তৈরি করতেন তিনি এবং তাঁর মা মলি চক্রবর্তী। বিশেষ করে ‘সুন্দরী’ নামের প্রাণীটিকে ঘিরে তাঁদের ভিডিও বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। হাসিখুশি স্বভাবের সায়নীকে দেখে কেউই বুঝতে পারেননি যে তাঁর জীবনে এমন কোনও সমস্যা থাকতে পারে। মেয়ের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মলি চক্রবর্তী বলেন, “মেয়ের সঙ্গে সব সময় বন্ধুর সঙ্গে মিশেছি। সবসময় হাসিখুশি থাকত ও। পশুপাখিদের নিয়ে থাকতে ভালোবাসত।” পরিবারের দাবি, এমন প্রাণবন্ত একটি মেয়ের জীবনে কী ঘটেছিল, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সেই উত্তর খুঁজতেই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে পরিবার।

মলি চক্রবর্তীর দাবি, গত চার বছর ধরে এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন সায়নী। দুই পরিবারের সদস্যরাই সেই সম্পর্কের কথা জানতেন এবং মেনেও নিয়েছিলেন। ছেলেটির বাড়ি ত্রিবেণীতে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে মেয়ের মৃত্যুর পর ওই যুবকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন সায়নীর মা। তাঁর কথায়, “কিন্তু আমার মেয়ের সঙ্গে যা ঘটে গেল, তার উচিত শাস্তি চাই আমি। মেয়ের প্রেমিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি থানায়।” দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও শেষ কয়েক মাসে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে এখন নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পরিবারের দাবি, এই সম্পর্কের কিছু অন্ধকার দিক ছিল, যা তারা আগে জানতে পারেনি।

ঘটনার আগের দিনের একটি ঘটনার কথাও তুলে ধরেছেন মলি চক্রবর্তী। তিনি জানান, “যেদিন ঘটনাটি ঘটেছে তার আগের দিন প্রেমিক সায়নের বাড়িতে গিয়েছিলেন সায়নী। কিছুক্ষণ পরেই কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে এসেছিল।” এরপর তিনি আরও বলেন, “নিশ্চয়ই ওখানে এমন কিছু ঘটেছিল যার ফলে ও এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।” মায়ের দাবি, পরে সায়নীর বন্ধুদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন যে ওই যুবক নাকি প্রায়ই সায়নীর উপর শারীরিক নির্যাতন করত। পাশাপাশি তিনি মদ্যপানও করতেন বলে অভিযোগ। যদিও এই বিষয়গুলি সায়নী কখনও বাড়িতে খোলাখুলি বলেননি। মায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও এসব তথ্য তিনি লুকিয়ে রেখেছিলেন বলেই মনে করছেন পরিবারের সদস্যরা।

আরও পড়ুন: “সেই দরজাটা বন্ধ করে বসলো…” অভিনয় জীবনের শুরুতেই কি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন মমতা শঙ্কর? উপস্থিত বুদ্ধিতে কীভাবে নিজেকে রক্ষা করেছিলেন অভিনেত্রী, সেই অভিজ্ঞতা জানিয়ে সমাজের উদ্দেশ্যে কি বার্তা দিলেন তিনি?

 

মেয়ের মৃত্যুর পর তাঁর মোবাইল ফোন ঘেঁটে কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যাটও পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছেন মলি চক্রবর্তী। সেই সমস্ত তথ্য ইতিমধ্যেই মগরা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ঘটনার পর থেকে সায়ন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মলির বক্তব্য, “যদি তেমন কিছু না ঘটে তাহলে তারা পালিয়ে গেল কেন?” তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে তিনি আইন এবং পুলিশের উপরই আস্থা রাখছেন। তাঁর আশা, তদন্তের মাধ্যমে সমস্ত সত্য সামনে আসবে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

You cannot copy content of this page