ভারতীয় সঙ্গীত জগতের আরেকটি মহান সুরসম্রাজ্ঞী চলে গেলেন। কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলের মৃত্যুর খবর শোকের ছায়া ফেলেছে সারা দেশে। লতা মঙ্গেশকরের পর আশা ভোঁসলের চলে যাওয়ার মাধ্যমে ভারতীয় সঙ্গীতের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটল। এই দুঃখজনক সংবাদে সঙ্গীতজগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, বিশেষ করে ঊষা উত্থুপের মতো শিল্পী গভীরভাবে শোকাহত হয়েছেন। আশা ভোঁসলের প্রয়াণের খবর প্রথম নাতির থেকে পেয়েছিলেন ঊষা উত্থুপ।
তবে সেই খবরটা পেয়ে তিনি একেবারে বাকরুদ্ধ হয়ে যান। ঊষা উত্থুপ জানান, তিনি সরাসরি আশা ভোঁসলের মৃত্যুর খবর পাননি। প্রথমে তিনি খবরটি পান তার নাতির কাছ থেকে। ঊষা বলেন, “আমার নাতি আমাকে ফোন করে বলল, ‘আশাদি চলে গেছেন।’ শুনে আমি যেন স্তব্ধ হয়ে গেলাম। আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না যে, আশা ভোঁসলার মতো একজন মহাত্মা আমাদের মধ্যে নেই।” ঊষা আরও বলেন, “আশাদি ছিলেন আমাদের সবার অনুপ্রেরণা। তার গান শুনে আমরা সবাই বড় হয়েছি।
তাঁর মতো মানুষের প্রয়াণ সংবাদ কখনো ভাবতেই ইচ্ছা হয় না।” ঊষা উত্থুপ তার মেয়ের কাছ থেকেও নিয়মিত খবর পাচ্ছিলেন, এবং তারা সবাই আশা করেছিলেন যে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। কিন্তু হঠাৎ করে আশা ভোঁসলের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনি মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হন। শেষ পর্যন্ত সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আশা ভোঁসলের মৃত্যুর পর সঙ্গীতপ্রেমীরা ও তার সহকর্মীরা গভীর শোকাহত।
তাঁর অসীম প্রতিভা ও অবদান ভারতীয় সঙ্গীতজগতকে চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে। আশা ভোঁসলের মৃত্যুর পর ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শোকবার্তা আসতে শুরু করেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে জানান, “আশা ভোঁসলের মৃত্যু ভারতীয় সঙ্গীতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার গান, সুর এবং কণ্ঠ আমাদের সঙ্গীতজগতের জন্য চিরকাল অমূল্য রত্ন হয়ে থাকবে।” আশা ভোঁসলের গাওয়া অসংখ্য জনপ্রিয় গান।
বিশেষ করে ‘দম মারো দম’, আজও শ্রোতাদের মনে জীবন্ত। এই মহাপ্রয়াণের মধ্য দিয়ে সঙ্গীতবিশ্ব হারাল এক অমূল্য রত্নকে। ভারতীয় সঙ্গীতজগতে আশা ভোঁসলার অবদান সবার মনে চিরকাল অমলিন থাকবে। তাঁর শূন্যতা কখনো পূর্ণ হবে না, তবে তাঁর সুর ও গান শ্রোতাদের মাঝে বেঁচে থাকবে চিরকাল। আশা ভোঁসলের অবদান ভারতের সঙ্গীত ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে চিরকাল স্মরণীয় থাকবে।






