“আমার ভাতৃসমকে কোথায় ‘একা’ পেতে চান…ইতিহাস বইটা একটু ঝালিয়ে নেবেন” প্রয়াত অভিনেতা রহুলকে অপমান নিয়ে, পায়েল-মৌসুমীর কটাক্ষ! জবাবে জিতুর পক্ষ নিয়ে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন সুদীপা চট্টোপাধ্যায়! টলিউডে ফের শুরু বিতর্ক?

টলিউড অভিনেতা জিতু কমল সম্প্রতি ফের এক বিতর্কের মুখে পড়েছেন, যা শুরু হয়েছিল প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নিয়ে। রাহুলের মৃত্যুর পর তাঁর ছবি নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে গাছ তলায় বসেছিলেন জিতু, এবং এই প্রতিবাদে তাঁর ছবি ধুলোয় ফেলার অভিযোগ তোলে অভিনেত্রী পায়েল দে। পায়েল দাবি করেন, প্রতিবাদ জানানো শেষে জিতু ছবিটি ফেলে চলে গিয়েছিলেন, এবং পরে আর্টিস্ট ফোরামের অফিসে রাখা হয়েছিল। পায়েলের এই মন্তব্যের পর টলিউডের একাধিক তারকা জিতুর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে সুদীপ্তা, বিদিপ্তা এবং রূপাঞ্জনা মিত্র।

তবে এই পরিস্থিতিতে এবার অভিনেত্রী সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের কাছে আসলো পাল্টা প্রতিক্রিয়া। পায়েল দে এবং মৌসুমী ভট্টাচার্য যখন জিতুর বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন, তখন সুদীপা তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি মুখ খুলেছেন। সুদীপা প্রশ্ন করেছেন, এমন পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি করার প্রয়োজনীয়তা কী ছিল? তিনি মনে করেন, যেখানে সাধারণ কর্মীরা নিজেদের মধ্যে এমন মন্তব্য করে না, সেখানে টলিউডের মতো বড় ইন্ডাস্ট্রিতে কেন এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়? সুদীপা আরও বলেন, পায়েল এবং জিতু ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ধারাবাহিকে একসঙ্গে কাজ করেছেন।

তাহলে পায়েল এই মন্তব্যগুলো কেন সামনাসামনি বলেননি? কেন সোশ্যাল মিডিয়ায় গিয়ে এসব পোস্ট করেছেন? সুদীপা চট্টোপাধ্যায় আরও মন্তব্য করেছেন, যদি পায়েলের কাছে জিতুর ফোন নাম্বার থাকে, তাহলে কেন তাঁকে ফোন করে এসব কথা বলেননি? সুদীপা এই ধরনের ‘পেছনের কথাবার্তা’ এবং ‘অপ্রয়োজনীয় ঝগড়া’ এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একইসঙ্গে, অভিনেত্রী মৌসুমী ভট্টাচার্যকে নিয়ে তাঁর মন্তব্যও ছিল তীব্র। তিনি লিখেছেন, মৌসুমী যে কাজগুলো করেছেন, তা মানুষের মনে থাকবে এমন পাঁচটি কাজও বলতে পারবেন না।

তাহলে এমন একজন ব্যক্তির মন্তব্য কীভাবে গুরুত্ব পাবে? সুদীপা বলেন, মৌসুমী যেভাবে জিতুর সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। এদিকে, সুদীপা আরো উল্লেখ করেছেন, শুধুমাত্র একজন নারী হওয়া কি মৌসুমীর মন্তব্যকে স্বীকৃতি দেয়? তিনি মৌসুমীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, যদি মৌসুমী চান, তাহলে তিনি সরাসরি জিতুর সঙ্গে দেখা করতে পারেন। সুদীপা তার পোস্টে স্পষ্টভাবেই বলেন, শিল্পীদের মধ্যে এই ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণ কেবল ইন্ডাস্ট্রির মানহানির কারণ হতে পারে, যা দর্শকদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।

আরও পড়ুনঃ “আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই, আর্থিক উত্থান বা পতন তো জীবনেরই অংশ” হাতে মাত্র ৩০ হাজার, কিন্তু ঋণ প্রায় ৫০ লাখ! হলফনামা অনুযায়ী, অর্থনৈতিক সংকটে বরানগরের তারকা প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়?

তিনি আর্টিস্ট ফোরামের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যাতে তারা এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে। অবশেষে, সুদীপা বলেছেন, শিল্পীদের মধ্যে এই ধরনের বিতর্ক সৃষ্টির কোনো জায়গা নেই। তিনি আশাহত হয়েছেন যে, যেই শিল্পীরা দর্শকদের এত ভালোবাসা দেন, তাদের নিজেদের মধ্যে এভাবে অশান্তি ও বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে। সুদীপা মনে করেন, ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে একতা এবং সৌহার্দ্য বজায় রাখা উচিত, যাতে শিল্পীরা তাদের কাজের প্রতি শ্রদ্ধা রাখেন এবং দর্শকদের কাছে ভালো উদাহরণ স্থাপন করেন।

You cannot copy content of this page